Friday, June 12, 2026

ভুল তো করছেন না: বিদ্রোহীর কার্যত সমর্থন অনুব্রতর, হারের দায় সরাসরি কার উপর চাপালেন!

Date:

Share post:

“ভুল তো করছেন না। বিজেপিতে তো যাচ্ছেন না”- দলের বিদ্রোহীর কার্যত সমর্থন তৃণমূল সুপ্রিমোর স্নেহধন্য বীরভূমের নেতা অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mandol)। দলের পরাজয় ও ভাঙনের জন্য সরাসরি আইপ্যাককে (I-PAC) কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তিনি। কেষ্ট মণ্ডলের মতে, কংগ্রেসকে চটানো তৃণমূলের উচিৎ হয়নি।

গরুপাচার মামলায় নাম জড়িয়ে দীর্ঘ দিন জেলবন্দি ছিলেন। তিহার থেকে ফিরেও রাজনীতিতে তেমন  সক্রিয় নন অনুব্রত। বীরভূমে তাঁর ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ হিসাবে পরিচিত কাজল শেখকে এবারে বিধানসভা নির্বাচনে হাসন থেকে টিকিটও দিয়েছিল তৃণমূল (TMC)। পরিবর্তনের হাওয়াতেও জিতেছেন কাজল। কিন্তু সেই ভোটের প্রচারে অনুব্রতকে নজরে পড়েনি। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরে যখন বিধানসভা থেকে লোকসভা, রাজ্যসভায় ক্রমশ চওড়া হচ্ছে ফটাল, প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে বিদ্রোহীদের সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে কার্যত সেই বিদ্রোহকেই সমর্থন জানালেন বীরভূমের কেষ্টদা। ‘বিদ্রোহী’দের কোনও ভুল দেখছেন তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে জানান, “ভুল তো করছেন না। বিজেপিতে (BJP) তো যাচ্ছেন না। আলাদা ফ্রন্ট করছেন। সকলে যে দিকে যাবেন, সে দিকেই তো যেতে হবে।“ তবে, দিদি মমতার প্রতি এখনও শ্রদ্ধাশীল অনুব্রত। তাঁর কথায়, “মমতা একা হয়ে গিয়েছেন দেখে খারাপ লাগছে। শুধু আমি কেন, যত জন বিধায়ক-সাংসদ বেরিয়ে গিয়েছেন, তাঁদেরকে জিজ্ঞাসা করলেও একই কথা বলবেন। ওঁকে আমরা সকলেই ভালবাসতাম। কিন্তু শেষ দিকে উনি কার পাল্লায় পড়লেন জানি না!“

এবার নির্বাচনে নিষ্ক্রিয় ছিলেন কেন? প্রশ্ন উত্তরে অনুব্রত (Anubrata Mandol) জানান, “এ বার আমাকে ভোটের দায়িত্বই দেননি। কোর কমিটির বৈঠকে প্রশ্ন করেছিলাম, আমার কী ভূমিকা? বলা হয়, কোনও বিধায়ক ডাকলে আপনি যাবেন না। তা হলে আগ বাড়িয়ে আমার যাওয়ার দরকার কী? আমি তাই কিছু করিনি। বিজেপি খেটেছে, তাই জিতেছে।“ এর পরেই নিজের অবস্থান সম্পর্কে দীর্ঘদিনের তৃণমূল নেতা জানিয়ে দেন, “সম্মান পেলে আমি দল করব। না পেলে চুপচাপ থাকব। অন্য দলে যাব না। বিজেপিতে যাওয়ার কথা এখনও ভাবিনি। জেল থেকে ফেরার পর থেকেই আমি রাজনীতি করা বন্ধ করে দিয়েছি। ওরা অন্য জনের হাতে ঘি খেয়েছে। আমার হাতে খায়নি।“

তবে, দলের ভারডুবির জন্য আইপ্যাককে সরাসরি দায়ী করেন অনুব্রত। বলেন, “১৯৯৮ সালে দল তৈরি হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) রেলমন্ত্রী ছিলেন। আমরা সাতটি আসন জিতেছিলাম। তখন কোনও জ্ঞানীমুনি ছিল না। আমাদের মতো রাখাল-বাগালরাই দলকে টেনেছে। আইপ্যাককে তখন দরকার হয়নি। পরে তাদের প্রয়োজন পড়ল কেন? ওদের জন্যই দলের এই ভরাডুবি। দুনিয়ার লোকের কাছ থেকে ওরা টাকা তুলেছে। রাজনীতির কিছু জানে না। ওরা পয়সা কামাতেই এসেছিল।“
আরও খবরক্ষমতা থাকলে ১৯ সাংসদ বিজেপির টিকিটে লড়ুক! বিশ্বাসঘাতকদের চ্যালেঞ্জ মহুয়ার

আবার কি তাহলে কংগ্রেসে ফিরে যাওয়াই ঠিক হবে? উত্তরে কেষ্ট মণ্ডল বলেন, “কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে আমরা ক্ষমতায় এলাম। কংগ্রেসকে চটানোটা আমাদের ভুল হয়েছে। কিন্তু কে কার কথা শোনে! আইপ্যাক এত টাকা তুলল। কিন্তু কেউ যদি জেগে ঘুমায়, দলের তো এই অবস্থা হবেই।“

Related articles

ফের অভিষেকের বাড়িতে CID টিম! হেনস্থার অভিযোগে সরব স্থানীয়রা

ফের তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বাড়িতে সিআইডি টিম। বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রচারে গিয়ে...

সরকারি কর্মীদের বাড়িতে স্মার্ট মিটার বাধ্যতামূলক! বিজ্ঞপ্তি ঘিরে বিতর্ক

সরকারি দফতরের (Govt. Department) পর এবার সরকারিকর্মীদের বাড়ির অন্দরে ঢুকে পড়লো স্মার্ট মিটার (Smart Meter)। গত ৩ জুন...

কল্যাণকে সমর্থন: মমতার হস্তক্ষেপে ঠিক হবে সব, আশাবাদী কীর্তি

এবার তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kallyan Banerjee) পাশে দাঁড়ালেন দলেরই সাংসদ কীর্তি আজাদ (Kirti Azad)। অভিষেককে (Abhisekh Banerjee)...

সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টার ধারা! তৃণমূল সুপ্রিমোর বিরুদ্ধে একাধিক থানায় অভিযোগ

বাংলাদেশের হাদি হত্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে একাধিক থানায় অভিযোগ দায়ের পরে এবার ৯ মার্চ ধর্মতলার ধর্নামঞ্চে করা...