ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (NCPI) ত্রিপুরার দল হলেও শিকড় এই বাংলাতেই। প্রতিষ্ঠাতা শান্তনু দে (Shantanu De)। সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ হাওড়ার বাণীপুরের উত্তীয় কুণ্ডু (Uttiyo Kundu) ও শিউলি কুণ্ডু। বাংলার নির্বাচনে প্রার্থীও দেয় তারা। কিন্তু তাঁর রবিবারের আগে এই দলের নাম বাংলার কজন মানুষ জানতেন তা কর গুণে বলা যাবে। সেই দলে যোগ দিয়েছেন তৃণমূলের (TMC) দলত্যাগী সাংসদরা। তাহলে কী তাঁরা বিজেপির সংশ্রব এড়াতে চাইছেন? বিষয়টি এরেবারেই উল্টো। এই উত্তীয় শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। নিজের স্যোশাল মিডিয়াতেও একাধিক ছবি বর্তামন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দিয়েছেন তিনি। আর তা দেখেই প্রশ্ন, তাহলে এই দল ভাঙানোর ছক পুরনো? বিজেপিতে জায়গা হবে না, আঁচ করেই টিম বি তৈরি ছিল? এই পরিস্থিতিতে আবার NCPI-র প্রতিষ্ঠাতা শান্তনু দে প্রথমে জানান, এই ২০ জন তৃণমূল-ত্যাগী সাংসদের যোগদানের কথা তিনি জানতেই না। স্যোশাল মিডিয়া থেকে শুনেছেন। প্রতিষ্ঠাতা জানেন না, অথচ কাকলি ঘোষদস্তিদারকে লোকসভায় দলনেত্রী করে পোস্টার দিয়েছে NCPI!

নতুন রাজনৈতিক ঠিকানা হিসেবে NCPI লোকসভায় তৃণমূলের ছাড়া ২০ জন সাংসদ। রবিবার এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পরেই জাতীয় রাজনীতি আলোচনায় উঠে এসেছে এই দল। কিন্তু এরা কারা? নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২০ জানুয়ারি রেজিস্টার্ড অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হিসেবে পথ চলা শুরু NCPI-এর। পশ্চিমবঙ্গে নথিভুক্ত হলেও দলটি প্রথম ত্রিপুরায় নির্বাচনী লড়াইয়ে নামে। কোনও আসনে জয় তো দূর, দুই আসন মিলিয়ে ভোট পায় মাত্র ৮২২টি। এনসিপিআইয়ের হয়ে ত্রিপুরায় ভোটে লড়া একাধিক প্রার্থীর দাবি নির্বাচনের পরে দলটি কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।

দলের সভাপতি উত্তীয় কুণ্ডু ও কোষাধ্যক্ষ শিউলি কুণ্ডুর হাওড়ার বাণীপুরে কার্যালয়। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘জাগো বিশ্ব’-র কার্যালয় থেকেই পরিচালিত হয় NCPI। ২০২২ সালে শান্তনু দে দলটির নাম প্রথমে ‘ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি’ (National Citizen Party) রাখার প্রস্তাব দেন। পরে ২০২৩ সালের ২০ জানুয়ারি দলটিকে ‘ন্যাশনালিষ্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI) নামে আনুষ্ঠানিকভাবে রেজিস্ট্রি করা হয়। তৃণমূলের ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদকে নেওয়ার বিষয়ে প্রথমে দল বিক্রির বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছিলেন শান্তনু। বলেন, কড়া শর্ত মানলে তবেই বিক্ষুব্ধদের দলে নেওয়া হবে।
আরও খবর: সূচনা জনকল্যাণ শিবিরের: আইন নিজে হাতে তুলে না নেওয়ার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

এদিন শুভেন্দু-ঘনিষ্ট বলে পরিচিত উত্তীয় ততক্ষণে কাকলিকে দলের লোকসভার নেত্রী বলে স্যোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দিয়েছেন। ফলে, ঢোক গিলে প্রতিষ্ঠাতা শান্তনু শুকনো স্বরে সংবাদ মাধ্যমে জানান তাঁর ভালোই লাগছে স্যোশাল মিডিয়া থেকে এই খবর জানতে পেরে। এখন এই NCPI-ক সভাপতির সঙ্গে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীর অন্তরঙ্গতা (স্যোশাল মিডিয়ার ছবি অনুযায়ী) দলটিকে বিজেপি-র বি টিম বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। কাকলিরা সেই দলে গেলে আদতে কার লাভ তার উত্তর রয়েছে ভবিষ্যতের গর্ভে।

–

–

–

–
–
–
