নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই টার্গেট তৃণমূলের নেতা-প্রাক্তন মন্ত্রী-বিধায়ক। অভিযোগ প্রাক্তন শাসকদলের এই এই হয়রানি থামানো দরকার বলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) বার্তা পাঠান বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। মুখ্যমন্ত্রী পাল্টা বার্তায় বলেন, এভাবে কথা হয় না। বৃহস্পতিবার বিধানসভা অধিবেশন বসছে। সেদিন রাজ্যপালের ভাষণের পরে মুখোমুখি কথা হতে পারে। সেই মতোই কুণালের মধ্যস্থতায় এদিন বিধানসভায় (Assembly) মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন তৃণমূলের (TMC) মমতাপন্থী ৫ বিধায়ক।

কদিন আগে বেলেঘাটার প্রাক্তন মেয়র পারিষদ স্বপন সমাদ্দার গ্রেফতারের কিছু পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে বার্তা পাঠিয়ে কুণাল বলেন এই হয়রানি থামানো দরকার। বহু জায়গায় নেতা, কর্মীদের উপর পুলিশি হেনস্থা হচ্ছে। এর মধ্যে সত্যিকারের অপরাধে কিছু বলার নেই। কিন্তু বহু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য দেখা যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী পাল্টা যোগাযোগ বার্তায় বলেন, এভাবে কথা হয় না। ১৮ তারিখ অধিবেশন বসছে। সেদিন রাজ্যপালের ভাষণের পর মুখোমুখি কথা হতে পারে। সম্মতি দেন কুণাল (Kunal Ghosh)।

এরপর বুধবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা প্রত্যাহারের পরে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক নিজে থেকেই আবার মুখ্যমন্ত্রীকে খবর পাঠিয়ে আবেদন করেন, পুরনো PSO-দের ফিরিয়ে দিতে। পুলিশ-প্রশাসন যাই করুক, মুখ্যমন্ত্রী যেন সৌজন্যমূলকভাবে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করেন। মোটামুটি ইতিবাচক সাড়া আসে। ঠিক হয় বৃহস্পতিবারের বৈঠকে বিষয়টি আলোচিত হবে।

সেইমত রাজ্যপালের ভাষণের পরে এদিন মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে বৈঠক বসে। কুণাল ছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র, অশোক দেব, রহিম বক্সি। বৈঠকে যাঁরা আছেন, তাঁরা সবাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে আছেন। নির্দিষ্ট ইস্যুতে দল ও মানুষের স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছেন।

সূত্রের খবর, বৈঠকের আলোচ্য বিষয়,
১) নেত্রীর নিরাপত্তার পুরনো টিম ফেরানো (যদিও নেত্রী নিজে কোনও অনুরোধ করতে বলেননি)।
২) জেলায় জেলায় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের উপর হামলা ও নানা মামলায় হয়রানি
৩) পুনর্বাসন ছাড়া বুলডোজার দিয়ে হকার উচ্ছেদ থামিয়ে সময় দেওয়ার দাবি

এছাড়াও কিছু জরুরি পরিষদীয় বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে।

–

–
–
