উত্তর ২৪ পরগণা জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ (Food Karmadhyaksha, North 24 Parganas Zilla Parishad) তথা তৃণমূল নেতা শাহানুর মণ্ডলের (Shahanur Mondal) গ্রেফতারির পর টাকির রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে একাধিক মামলায় নাম জড়ালেও টাকি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ মুখোপাধ্যায়ের (Somnath Mukhopadhyay, Chairman of Taki Municipality) বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ না হওয়ায় সাধারণ মানুষের একাংশ প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। স্থানীয় স্তরে এখন আলোচনার কেন্দ্রে একটাই বিষয়। একই ধরনের অভিযোগে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, আবার কেউ কীভাবে এখনও আইনের নাগালের বাইরে রয়েছেন? আরও পড়ুন: প্রতিযোগিতায় যাবেন না: যোগ দিবসে বাধ্যতামূলক হাজিরা-মামলায় রাজ্যকে আর কী বললেন বিচারপতি

হাসনাবাদ থানায় (Hasnabad Police Station) দায়ের হওয়া একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি এফআইআর (FIR) নথিভুক্ত হয়েছে। অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে তোলাবাজি, প্রাণনাশের হুমকি, মারধর, খুনের চেষ্টা, জমি দখল এবং ভয় দেখিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার মতো গুরুতর বিষয়। তদন্তের নথিতে শাহানুর মণ্ডলের পাশাপাশি টাকি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ মুখোপাধ্যায় এবং ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক গাজীর (Vice Chairman Faruk Gazi) নামও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকজন অভিযুক্ত গ্রেফতার হলেও সোমনাথের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ না হওয়ায় প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

অন্যদিকে, আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অভিযোগের পাশাপাশি টাকি পুরসভার আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়েও বিতর্ক দানা বেঁধেছে। গত এক দশকে পুরসভার বিভিন্ন প্রকল্প ও আর্থিক লেনদেনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সম্প্রতি দুটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। একটি করেছেন সদ্য পদত্যাগী এক তৃণমূল কাউন্সিলর, অন্যটি বিরোধী শিবিরের তরফে। অভিযোগকারীদের দাবি, পুরসভার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও আর্থিক অনুমোদনের ক্ষেত্রে চেয়ারম্যানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিষয়গুলির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে শাহানুর মণ্ডলের গ্রেফতারির পর টাকির রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। একাধিক মামলায় নাম থাকা সত্ত্বেও সোমনাথ মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কেন এখনও কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা হয়নি, তা নিয়ে কৌতূহল ও বিতর্ক দুইই বাড়ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।

–

–

–

–
–
–
