সাধারণ মানুষের পকেটে টান মেরে খাস শিল্পপতি-বন্ধু গৌতম আদানির ব্যবসার পরিধি বাড়াতেই কি রাজ্যে তোড়জোড় করে স্মার্ট মিটার বসানোর তোড়জোড় শুরু করল বিজেপি সরকার? এক বছর আগে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী যে ব্যবস্থার তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন, সরকারে এসেই সেই নীতি বদলে তড়িঘড়ি স্মার্ট মিটার চালুর এই ‘পাল্টিবাজি’র নেপথ্যে কি আদানি-যোগ?

কেন্দ্রের নির্দেশে এর আগে রাজ্যে পরীক্ষামূলকভাবে স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ শুরু হলেও, বিদ্যুতের আকাশছোঁয়া বিল ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক ক্ষোভের মুখে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও সে সময় সাংবাদিক বৈঠক করে একে ‘বাধ্যতামূলক নয়’ বলে সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক বোঝা চাপানোর চক্রান্ত হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন। কিন্তু সরকারে আসার পরেই সেই অবস্থান থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে সমস্ত সরকারি অফিস, কর্মী ও শিক্ষকদের বাড়িতে এই মিটার বসানোর ফরমান জারি করেছে বর্তমান পদ্ম-প্রশাসন।
অভিযোগ, এই নীতি বদলের আসল কারণ হল নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ শিল্পপতি গৌতম আদানির পকেট ভরানো। সম্প্রতি প্রায় ৩,০৫০ কোটি টাকার একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে স্মার্ট মিটার প্রস্তুতকারী প্রধান সংস্থা ‘ইন্টেলিস্মার্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার’-এর ১০০ শতাংশ মালিকানা অধিগ্রহণ করেছে আদানি গ্রুপের সংস্থা ‘আদানি এনার্জি সলিউশনস’। এর ঠিক পরেই নবান্নে আদানি-পুত্রের সঙ্গে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর একটি বৈঠক হয়। অভিযোগ, ওই বৈঠকের পরই রাজ্যে নতুন করে ২ কোটি গ্রাহকের বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসানোর টার্গেট বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী একদিকে সংসদে দাঁড়িয়ে বলছেন স্মার্ট মিটার বাধ্যতামূলক নয়, অন্যদিকে বাংলায় এসে দ্রুত তা কার্যকর করার জন্য প্রশাসনকে তাগিদ দিচ্ছেন। বিরোধীদের দাবি, আদানি গ্রুপ যাতে দেশের বৃহত্তম স্মার্ট মিটার কোম্পানিতে পরিণত হতে পারে এবং সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ পরিষেবাকে ঘুরপথে বেসরকারীকরণ করে কর্পোরেটদের হাতে তুলে দেওয়া যায়, তারই ব্লু-প্রিন্ট সাজিয়েছে বিজেপি। এই প্রকাশ্য দ্বিচারিতা ও শিল্পপতির স্বার্থরক্ষার কৌশলের বিরুদ্ধে আগামী দিনে রাজ্যজুড়ে বড়সড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিরোধী দলগুলি।
আরও পড়ুন- হুগলি নদীতে আচমকা জোড়া টর্নেডোর তাণ্ডব! বরাতজোরে রক্ষা পেলেন মৎস্যজীবীরা
_
_

_

_

_

_

