বিধানসভার বাইরে ৬৫ জন বিধায়কের সমর্থনের দাবি। আদালতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার যুক্তি। স্পিকারের স্বীকৃতি পাওয়ার পর নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলেও জোরদার প্রচার। কিন্তু অষ্টাদশ বিধানসভার প্রথম দিনেই সেই দাবির ভিতেই এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল উপস্থিতির অঙ্ক।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের দাবি, তাঁদের সঙ্গে এখন ৬৫ জন বিধায়ক রয়েছেন। অথচ বৃহস্পতিবার বিধানসভার বিরোধী বেঞ্চে দেখা গেল মাত্র ৫৮ জনকে। অর্থাৎ দাবি আর বাস্তবের মধ্যে ফারাক অন্তত সাত জনের। অনুপস্থিতির জবাবে ঋতব্রতের ব্যাখ্যা, তিন বিধায়ক বিশেষ কারণে হাজির থাকতে পারেননি। কিন্তু সেই ব্যাখ্যা নতুন প্রশ্নও তুলছে। বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে যখন আইনি লড়াই চলছে, ‘আসল তৃণমূল’ কে— সেই প্রশ্নে রাজনৈতিক অস্তিত্বের সংঘাত যখন তুঙ্গে, এমন এক গুরুত্বপূর্ণ দিনে যদি সমর্থকদেরই একাংশ অনুপস্থিত থাকেন, তা হলে ৬৫-এর দাবির ভিত কতটা মজবুত, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।

আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সংখ্যায় পিছিয়ে থেকেও কালীঘাটপন্থী শিবির প্রথম দিনেই আলাদা অস্তিত্বের জানান দিতে সক্ষম হয়েছে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র, কুণাল ঘোষদের নেতৃত্বে বিরোধী বেঞ্চের অন্য প্রান্তে বসা বিধায়কদের উপস্থিতি কার্যত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে— সংখ্যার লড়াই এখনও শেষ হয়নি।

প্রথম দিনের অধিবেশন তাই এক অস্বস্তিকর প্রশ্ন তুলে দিল— যদি সত্যিই ৬৫ জন বিধায়ক সঙ্গে থাকেন, তবে সেই শক্তি প্রকাশ্যে দেখাতে এত সংকোচ কেন? আর যদি দেখানোই না যায়, তবে ‘সংখ্যাগরিষ্ঠতার’ দাবির রাজনৈতিক ও নৈতিক ভিত্তি কতটা দৃঢ়? বিরোধী বেঞ্চের বিভাজন এ দিন শুধু তৃণমূলের ভাঙনই সামনে আনেনি, সামনে এনেছে ঋতব্রত শিবিরের সংখ্যার দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও নতুন বিতর্ক। ৬৫-এর দাবি যত জোরে শোনা যাচ্ছে, বিধানসভার মেঝেতে তার প্রতিধ্বনি কি ততটা স্পষ্ট? উঠছে প্রশ্ন।

আরও পড়ুন- রাজ্যপালের ভাষণ মানলে গ্রেফতার হোন ঋতব্রত, বিধানসভায় বিস্ফোরক কুণাল

_

_

_
_
_
_
