দলের কী পরিস্থিতি? তা জানতেই শুক্রবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) ডেকেছিলেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা। আজ সেই নির্দেশ অনুসারে স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক করতে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ সৌগত রায়, সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বৈঠকে গিয়ে অভিষেক সংবিধান খুলে দেখিয়ে দিয়েছেন যে আলাদা কোনও ব্লক হয় না।


অভিষেক (Abhishek Banerjee) জানান, “যারা গিয়ে এনসিপিআই নামক দলটিতে যোগদান করেছেন তাঁরা কেন তৃণমূল ছাড়েননি? যদি এঁদের ক্ষমতা হয় তাহলে বিজেপির টিকিটে জিতে দেখাক।” সংসদীয় বা পরিষদীয় সদস্য নয়, দলের দুই-তৃতীয়াংশ ভেঙে বেরিয়ে গিয়ে অন্য দলের সঙ্গে মিশলে তবে তা মার্জার বা সংযুক্তিকরণের আইনি বৈধতা পেতে পারে।

শুধুমাত্র ২০ জন সাংসদ নিজেদের ইচ্ছে অনুযায়ী অন্য দলের সঙ্গে মার্জার করছি বলে করে ফেললেন, এটা বেআইনি। এঁরা খারিজ বলে গণ্য হবেন। একাধিক উদাহরণ তুলে এই কথাটাই লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লাকে জানিয়ে এলেন তৃণমূল কংগ্রেসের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

সংবাদ মাধ্যমে মুখোমুখি হয়ে দশম তফশিলের আইনি ব্যাখ্যা দিয়ে অভিষেক বলেন, অন্তত ২০টি এরকম বাতিলের উদাহরণ আমি সঙ্গে এনেছি। কল্যাণদাও এনেছেন। আমরা সেগুলি অধ্যক্ষের টেবিলে জমা দিয়েছি। এনসিপিআই যে দলটার কথাই আমরা কেউ কখনও শুনিনি, তাদের সঙ্গে নিজেদের ইচ্ছেমতো মার্জ করে নিলাম। সংসদে আলাদা বসার জায়গা চাইলাম, আলাদা ঘর চাইলাম, নিজেদের মধ্যে থেকেই চিফহুইপ দলনেতা ঠিক করে ফেললাম। এটা করা যায় না, সম্পূর্ণ বেআইনি।

অভিষেকের সংযোজন— ২এর অনুচ্ছেদে স্পষ্ট লেখা আছে, আপনি কোনও কারণে দল ছাড়লে আপনার সংসদের সদস্যপদও বাতিল হয়ে যাবে। যেমন একসঙ্গে দুটি কোম্পানিতে চাকরি করা যায় না, তেমনিই রাজনৈতিক দলেও থাকা যায় না। সংবিধানে স্পষ্ট লেখা রয়েছে , আগে থেকে একটি দলে যুক্ত থাকার পর অন্য দলে গেলে সেই দলের সদস্যপদ খারিজ হয়ে যাবে। সেইমতো তৃণমূলের প্রতীকে জিতে আসার পর অন্য দলে মার্জ হলে লোকসভার সদস্যপদ বাতিল হওয়ার কথা।

_

_
_
