“এই বাজেটের পরে তো বিরোধীদের বলার আর কিছুই নেই“-রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট পেশের পরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। সোমবার, বিধানসভা রাজ্য বাজেট (WB Budget 2026) পেশ করেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta)। তার পরে তাঁকে পাশে নিয়েই সাংবাদিক বৈঠক থেকে রাজ্যের অর্থমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে পূর্বতন তৃণমূল ও বাম সরকারে কটাক্ষও করেন শুভেন্দু।

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের নিয়োগ থেকে মহিলাদের চাকরি ক্ষেত্রে সংরক্ষণ, মহার্ঘ ভাতা (DA) থেকে আশাকর্মীদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি- প্রথম বাজটকে জনমুখী করার চেষ্টা করেছেন বিজেপি সরকার। এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই বাজেটে পাহাড়ও হাসছে, তরাই-ডুয়ার্সও আছে, সুন্দরবনকেও বাঁচানোর কথা আছে। উত্তরবঙ্গে IIT, AIIMS-এর কথাও আছে। বলে শেষ করা যাবে না।“ তার পরেও যা ফাঁকফোকর আছে, তা শীঘ্রই মিটিয়ে ফেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “২০২৭-এর ফেব্রুয়ারি মাসে পরবর্তী বাজেটে বাকি ফাঁকফোকর মেকআপ করে ফেলা হবে।“

পূর্বতন তৃণমূল ও তারও আগের বাম সরকারকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “বন্ধু হিসেবে কয়েকটা মাস দিন আমাকে। নতুন অর্থমন্ত্রীর সবটা বুঝতে সময় লাগবে। এর আগে একজনকে ৩৪ বছর সময় দিয়েছেন। তারা চিরকুটে নিজেদের লোককে চাকরি ও তালা লাগানোর কাজ ছাড়া আর কিছু করেননি। আরেকজন গত ১৫ বছরের সাদা খাতায় চাকরি দিয়েছেন। এরাই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় বড় বড় কথা বলেন।“ এর পরেই বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় যত সমালোচনা হবে তত কাজের গতি বাড়বে।“

সরকারি চাকরিতে ১ লক্ষ কর্মসংস্থান, সঙ্গে মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ। একে ‘ত্রিফলা’ বা ‘ত্রিশক্তি’ বলে ব্যাখ্যা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, আসলে তিন ভাগে রাজ্যে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিয়েছে এই বিজেপি সরকার।

বাজেটে আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের মাসিক সাম্মানিক বৃদ্ধির বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আশাকর্মী, ICDS কর্মীরাই হেলথ সেক্টরকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। আপনারা অনেক কাজ করেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চার হাজার টাকা চাইতে গিয়ে লাঠির বাড়ি খেয়েছেন। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে না চাইতেই দিয়েছে।“

সরকারের ভবিষ্যত পরিকল্পনার বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা ভেবেচিন্তে কথা দিই। আর ভালো ভাবে কথা রাখি।“ সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “যে বিজেপি কর্মীদের এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যাঁদের মিথ্যা মামলায় জেলে যেতে হয়েছে, তাঁদের জন্য পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন আনা হবে। তাঁদের সংগ্রামী ভাতার আওতায় এনে সম্মান দেওয়া হবে।“

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, একদিকে সরকার দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, স্বচ্ছতা এবং আইনের সমান প্রয়োগের কথা বলছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক আন্দোলনের ভিত্তিতে বিশেষ ভাতার ঘোষণা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।

–
