বাজেটে ভাতা বৃদ্ধি ঘোষণা করলেও সিভিক ভলান্টিয়ার (Civic), ভিলেজ পুলিশ এবং বিভিন্ন চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে। চাকরি যাবে না বলে আশ্বস্ত করলেও, একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন— সামনে অপেক্ষা করছে ‘ঝাড়াই-বাছাই’। রাজ্য বাজেটের পর সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই সরকার কাউকে ছাঁটাই করবে না। কিন্তু ঝাড়াই-বাছাই তো করব। সঠিক লোককে সঠিক সুবিধা দেওয়া হবে।” তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে বহু নিয়োগ হয়েছে। অনেকের শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র, বয়সের নথি কিংবা চাকরির যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশ, বাংলা সহায়তা কেন্দ্র-সহ বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরতদের মধ্যে বহু ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তাই কারা প্রকৃত যোগ্য এবং কারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সুযোগ পেয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হবে। বিরোধীদের প্রশ্ন, ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণার আড়ালে কি তবে কর্মীদের জন্য অনিশ্চয়তার বার্তাও দিয়ে দিল সরকার? কারণ মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, ‘ঝাড়াই-বাছাই হবে’। ফলে লক্ষাধিক চুক্তিভিত্তিক কর্মী ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের একাংশের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আরও পড়ুন: আলিয়া-রণবীরের শুটিং সেটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত ১

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই মন্তব্যের মধ্যে দ্বৈত বার্তা রয়েছে। একদিকে ভাতা বাড়িয়ে কর্মীদের পাশে থাকার বার্তা, অন্যদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়া ও কর্মীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের কথা বলে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত। বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হল, মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন অনেক ক্ষেত্রে ‘ভুয়ো শংসাপত্র’ এবং ‘রাজনৈতিক সুপারিশে নিয়োগ’ হয়েছে। ফলে আগামী দিনে রাজ্য সরকার যদি সত্যিই বৃহৎ পরিসরে যাচাই অভিযান শুরু করে, তাহলে বহু কর্মীর নথি খতিয়ে দেখা হতে পারে।

যদিও মুখ্যমন্ত্রী বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, ‘ছাঁটাই হবে না’। কিন্তু তাঁর ‘ঝাড়াই-বাছাই’ মন্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— এটি কি শুধুই প্রশাসনিক স্বচ্ছতার উদ্যোগ, নাকি রাজ্যের চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের একাংশের জন্য নতুন অনিশ্চয়তার সূচনা?

–

–

–

–
