উদ্দেশ্য ছিল নতুন ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি তথা জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করা। সেই মতো সোমবার বিকেলে নিউ টাউনের হোটেলে বিশেষ বৈঠক করলেন তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ, বহিষ্কৃত ও দলত্য়াগী বিধায়ক-কাউন্সিলরা। ৩১ মিনিট ২০ সেকেন্ডের বিশেষ বৈঠকে অরূপ রায়কে দলের নতুন চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত করা হয়। আর সাধারণ সম্পাদক করা হয় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা ও জাভেদ খানকে। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুপাশে সবর্দা থাকা ববি আর অরূপ হয়েছেন ঋতব্রতদের গোষ্ঠীর ভাইস চেয়ারম্যান।

এদিন বৈঠকে নিজেদের তৃণমূল বলে দাবি করা বিক্ষুব্ধদের মঞ্চের ব্যানারে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি পর্যন্ত ছিল না। গান্ধীজি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল ইসলাম ও বি আর আম্বেদকের ছবি দেওয়া ব্যানার ছিল সেখানে। এই মনীষীদের সঙ্গে তৃণমূলের যোগ কোথায়, প্রশ্ন তুলেছে রাজনৈতিক মহল। বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও উচ্চারিত হয়নি। সুতরাং অভিষেককে সাসপেন্ড করার যে রটনা চলছে, তার কোনও সত্যতা মেলেনি।

বৈঠকের শুরুতেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের গোষ্ঠীর বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন, এই অদ্ভূত সাংবিধানিক সংকটে রয়েছে। তৃণমূলের সংবিধানের ২০ নম্বর ধারা অনুযায়ী ৩ বছর অন্তত ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি তৈরি করতে হবে। শেষবার ২০২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় কর্মসমিতি তৈরি হয়েছিল। সেই তথ্য পেশ করা হয়েছিল নির্বাচন কমিশনে। ২০২৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারিতে ওই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। সেই কারণেই জরুরি ভিত্তিতে দলের নতুন জাতীয় কর্মসমিতি তৈরির কথা বলেন।

কর্মসমিতির প্রথম ১০জনের নাম প্রস্তাব করা হয়। তাঁরা হলেন, অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, বিপ্লব মিত্র, আখরুজ্জামান, সাবিনা ইয়াসমিন, সন্দিপন সাহা, রথীন ঘোষ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। তৃণমূলের প্রতীক আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি নিয়ে হাওড়া মধ্য কেন্দ্র থেকে বিধায়ক হওয়া অরূপ রায়কে চেয়ারপার্সন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ভাইস চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথীন ঘোষ। সাধারণ সম্পাদক জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সাবিনা ইয়াসমিন। কোষাধ্যক্ষ আখরুজ্জামান আনসারি।

আরও পড়ুন – মহানগরে হরিহরণের সঙ্গীত জীবনের ৫০ বছর উদযাপন, গজল সন্ধ্যায় মাতল নজরুল মঞ্চ

_

_

_
_
_
_
