রাজ্য সরকারের পেশ করা নতুন বাজেটে অন্নপূর্ণা যোজনার বরাদ্দ ঘিরে দানা বেঁধেছে তীব্র বিতর্ক। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের ঢাকঢোল পিটিয়ে যে প্রকল্প চালুর কথা ঘোষণা করা হয়েছিল, বাজেটের অঙ্কেই তার কঙ্কালসার চেহারা প্রকাশ পেয়ে গেল বলে অভিযোগ বিরোধীদের। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে অর্থনীতিবিদ ও ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের দাবি, বাজেটে যে পরিমাণ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, তাতে রাজ্যের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সব উপভোক্তাকে এই সুবিধার আওতায় আনা কোনওভাবেই সম্ভব নয়। ফলে এক ধাক্কায় প্রায় অর্ধেক মহিলা এই নতুন প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হতে চলেছেন।

তৎকালীন সরকারের চালু করা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে রাজ্যের প্রায় ২.৪ কোটি মহিলা প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা পেতেন। সাধারণ ও ওবিসি শ্রেণির মহিলারা পেতেন ১৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা পেতেন ১৭০০ টাকা। নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে এই সহায়তার পরিমাণ দ্বিগুণ করে দেওয়া হবে এবং ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র মাধ্যমে প্রত্যেক মহিলাকে মাসে ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। কিন্তু বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেটে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব রূপায়ণ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হলো।

এবারের বাজেটে অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য ৩৬,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, এই প্রকল্পে বছরে এক কোটি মহিলাকে সুবিধা দেওয়া হবে। তবে চলতি আর্থিক বছরে এটি মূলত ৮ মাসের বাজেট। সেই হিসাব অনুযায়ী, মাসে ৩০০০ টাকা করে দিলে সর্বোচ্চ ১.২০ কোটি উপভোক্তাকে এই ভাতা দেওয়া সম্ভব। অর্থাৎ, আগের জমানার ২.৪ কোটি উপভোক্তার তালিকা সরাসরি অর্ধেকে নেমে আসছে।

ইতিমধ্যেই যাচাইকরণের নামে রাজ্যের প্রায় ৩০ লক্ষ মহিলার নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তার ওপর গত দুই মাসের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বকেয়া টাকাও মহিলারা পাননি বলে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, যতদিন না অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়া শুরু হচ্ছে, ততদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চালু থাকবে। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন মেলেনি।

আরও পড়ুন – পরিকাঠামো উন্নয়নের নামে ভাঁওতা? গঙ্গাসাগর সেতুতে ‘টোকেন’ বরাদ্দ, বিমানবন্দরেও যৎসামান্য!

_

_

_
_
_
_
