Thursday, June 25, 2026

আর জি কর মামলায় CBI-কে ভর্ৎসনা হাই কোর্টের, কী দাবি পরিবারের

Date:

Share post:

আর জি কর হাসপাতালের (RG Kar Case) তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুন মামলায় সিবিআই-এর ভূমিকা নিয়ে ফের অসন্তোষ প্রকাশ কলকাতা হাই কোর্টের (Kolkata High Court)। বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ সিবিআই-এর কাজ কে ‘গা ছাড়া মনোভাব’ বলে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করেছেন। কেন্দ্রীয় সংস্থা তদন্তে ব্যর্থ হলে মামলা সিআইডি-কে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন নির্যাতিতার মা-বাবা। বৃহস্পতিবার আদালতে সিবিআই রিপোর্ট জমা দিলে শুনানির সময় বিচারপতিরা তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। গত ২১ মে হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে সিবিআই একটি তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করলেও, গত এক মাসে তদন্তের বিশেষ অগ্রগতি হয়নি বলে পর্যবেক্ষণ আদালতের।

শুনানি চলাকালীন ডিভিশন বেঞ্চ সিবিআই-এর আইনজীবীদের উদ্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে চার্জশিট দাখিলের পর দীর্ঘ ১ বছর ৭ মাস কেটে গেলেও তদন্ত একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। সিবিআই আদালতের সময় নষ্ট করছে। বিচারপতি শম্পা সরকার প্রশ্ন তোলেন, সেমিনার রুম সম্পূর্ণ নষ্ট করা এবং তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করার পেছনে কারা দায়ী, তা খুঁজে বের করতে সিবিআই ব্যর্থ কেন? আদালত স্পষ্ট জানায়, পুরনো কোনও তদন্তকারীকে আধিকারিককে নতুন তৈরি ‘সিট’-এ রাখা যাবে না। বিচারপতিদের প্রশ্ন, “আপনারা কি আপনাদের সহকর্মীদের প্রতি এত সহানুভূতিশীল যে নির্দেশ বুঝতে পারছেন না? সিবিআই কি হাই কোর্টেরও উপরে?” আরও পড়ুন: ১৫ বছরের যাত্রাপথে ইতি, চ্যানেলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক রচনা

আদালতের পর্যবেক্ষণ, সিবিআই রিপোর্টে কেবল ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্র’-এর কথা বলা হয়েছে, কিন্তু নতুন কোনও তথ্য নেই। বিচারপতিরা প্রশ্ন করেন, “কারা সিবিআই-এর হাত বেঁধে রেখেছে? সিবিআই-এর এত কিসের ইগো?” বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, সিবিআই সঠিক তদন্ত করতে ব্যর্থ হলে আদালত এই মামলা তাদের হাত থেকে তুলে নিতে বাধ্য হবে। জবাবে সিবিআই-এর আইনজীবী জানান, আদালতের নির্দেশ বুঝতে হয়তো কিছুটা ভুল হয়েছিল এবং তাঁরা প্রতিটি বিষয় নতুন করে খতিয়ে দেখছেন।

২০২৪ সালের অগস্টের এই নৃশংস ঘটনার পর মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়ের আমৃত্যু কারাদণ্ড হলেও, ঘটনার পিছনের অন্যান্য রহস্য ও প্রমাণ লোপাটের তদন্ত নিয়ে বারবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নির্যাতিতার পরিবার। এদিনও পরিবারের তরফে জানানো হয়, সিবিআই যদি সঠিক তদন্ত করতে না পারে, তবে মামলা যেন রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখা সিআইডি (CID)-র হাতে তুলে দেওয়া হয়। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৬ আগস্ট।

Related articles

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ‘সর্বজনীন’ নয়! বিধানসভায় স্পষ্ট স্বীকারোক্তি অর্থমন্ত্রীর

রাজ্য বিধানসভায় বাজেটের জবাবি ভাষণে এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, নতুন অন্নপূর্ণা...

মূল ষড়যন্ত্রকারী কে? কেতন খুনে ধন্দে পুলিশ

পুণের বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর ছেলে কেতন আগারওয়াল (Ketan Agarwal Murder Case) খুনে মূল চক্রী কে, তাই নিয়ে ধন্ধে পুলিশ।...

ঋণমুক্তির কোনো রোডম্যাপ নেই বাজেটে! তোপ শোভনদেবের

রাজ্যের ঋণের বোঝা কমানোর কোনো সুস্পষ্ট রূপরেখা নেই বাজেটে। উল্টে বিরোধী আসনে থাকার সময় যে সব সামাজিক প্রকল্পের...

তারাতলার বিপর্যয়ে দোষী হলে প্রাক্তন মেয়রও গ্রেফতার হোন: দাবি তৃণমূল বিধায়কের

তারাতলার বিপর্যয় নিয়ে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) দোষীদের গ্রেফতারের প্রস্তাবকে সমর্থন করলেন তৃণমূল (TMC) বিধায়ক...