অপেশাদার মানসিকতা! ১৫ বছরের যাত্রাপথে ‘এন্ডিং লাইন’ রচনার (Rachana Banerjee)। রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের মাঝেও সময় বের করে এপিসোড ব্যাঙ্কিং করেছেন তিনি। কিন্তু এরপর থেকে আর ‘দিদি নং ১’ (Didi No. 1) শো’তে সঞ্চালকের ভূমিকায় দেখা যাবে না রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ইতিমধ্যেই চ্যানেলের তরফে যে নতুন প্রোমো প্রকাশ্যে এসেছে সেখানে রচনার পরিবর্তে দেখা গিয়েছে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়কে। ২৯ জুন থেকে নতুন রূপে আসতে চলেছে নন-ফিকশন শো ‘দিদি নং ১’।

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে পাল্টে গেল সঞ্চালকের মুখ। এই নিয়ে এবার বিস্ফোরক রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। দাবি করলেন চ্যানেল আর ডিরেক্টর্স ডিপার্টমেন্ট রাতারাতি অনুষ্ঠানের এই পরিবর্তন করেছে। এমন কিছু যে ঘটতে পারে, কোন ধারণাও ছিল না রচনার। বলেন, ‘’এবারের নির্বাচনের ফল বুঝিয়ে দিয়ে গেল, কোনও কিছুই স্থিতিশীল নয়। সবকিছুর ওঠাপড়া থাকে। একজন যায়, অন্য মানুষ আসে, সেটাই জীবনের নিয়ম। কখনও ভাবা উচিতও নয়, সারা জীবন সব ধরে রাখতে পারব। আমি কি আমার বাবাকে আটকে রাখতে পেরেছি? সবচেয়ে বেশি ভালোবাসার মানুষকেও তো হারিয়ে ফেলেছি। কিন্তু কী ভাবে তুমি জার্নিটা শেষ করলে সেটা আসল। আমি তো দু’দিন কাজ করিনি। দীর্ঘ ১৫ বছরের একটা জার্নি। এই সম্পর্কটাকে সম্মান জানানো উচিত ছিল। যেটা ওটা পারেনি।’’

চ্যানেলের ব্যবহারকে ‘অপেশাদার মানসিকতা’র তকমাও দিয়েছেন তিনি। বলেন, ‘’অন্য কেউ তো আমার জায়গায় আসতই। তাই বলে এভাবে? একটা মানুষকে রাতারাতি বলে দিল পরশু থেকে আর আপনি থাকছেন না, এটা হতে পারে না। আমি যতদূর যাওয়ার যাব। এটাকে ‘অপেশাদার মানসিকতা’ বলা হয়। ওই মানুষগুলোর কী হবে বলুন তো? যাঁরা প্রতিদিন আমার সঙ্গে কাজ করত ওই সেটে। মেকআপ ম্যান, হেয়ার ড্রেয়ার তাঁদেরও তো কাজ নেই এখন। পুরো টিমটাকে ধরে দু’দিনের মধ্যে চেঞ্জ করে দিল এভাবে?’’

কন্ট্রাক্ট অনুযায়ী সাত দিনের নোটিশ দিয়ে কাউকে সরিয়ে দেওয়া যায়। সেই প্রসঙ্গ তুলে রচনা বলেন, ”এই নিয়ম আছে আমিও জানি। কিন্তু সেই নিয়ম মেনে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ট্রিট করা হবে? যে এত দিন এই শোয়ের সঙ্গে যুক্ত। আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। আমি শুধু সব আর্টিস্টকে বলতে চাই, কোনও কন্ট্রাক্টে সই করার সময়ে খুব সাবধান হওয়া উচিত। কারণ, দু’দিনের মধ্যে নামিয়ে দেওয়া হতে পারে। আমি তো কোনও দিন পড়েও দেখিনি ওই কাগজগুলো। কারণ, ‘দিদি নং ১’ আমার কাছে কন্ট্রাক্টের ঊর্ধ্বে। সন্তানের মত ছিল। আগামিদিনে আর্টিস্টদের আরও সতর্ক হওয়া উচিত। আমার সঙ্গে যারা এটা করতে পারে, সবার সঙ্গে পারবে। ওরা ভাবছে বোধহয় সাংঘাতিক কেউ। যা চাইবে করতে পারবে। ওরা আমার সঙ্গে খারাপ করেছে মানে এই নয় যে আমি শোয়ের খারাপ চাইব। অনেক শুভেচ্ছা রইল দিদি নং ১-এর জন্য। আমি খুব পজ়িটিভ মানুষ। ভবিষ্যতেও অনেক কাজ আসবে। কিন্তু ‘দিদি নং ১’ ইজ় ওভার ফর মি। আর কোনও দিন ওই মঞ্চে দেখা যাবে না আমায়। কোনও দিন ফিরে যাব না। কারণ, যা ওরা করেছে আমার সঙ্গে, সেটা বলার মতো কোনও শব্দ আমার নেই।’’

প্রসঙ্গত, রচনাকে ‘দিদি নং ১’ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পিছনে কি রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করেছে, এই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। উত্তরে তিনি জানান, ‘’হতেই পারে। আমরা কেউই তো আসল কারণ জানি না। আমি ভাবতেও পারছি না কারণ, ‘দিদি নং ১’ আমার কাছে রাজনীতির ঊর্ধ্বে। ছেলেটাকে বড় করলাম, দিদি নং ১ করতে করতে। জীবনের অনেকটা সময় দিয়ে দিলাম ‘দিদি নং ১’-কে।’’

–

–

–
