পুনের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল (২৫) খুনে বিস্ফোরক মোড়! পুলিশের সামনে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়েল (২০)। ২৫ জুন থেকে হেফাজতে আছেন সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী (২২)। তদন্তকারীদের কাছে সিয়া জানিয়েছে, সে বিয়ে করতে চায় না একথা আগেই কেতনকে (Ketan Agarwal) জানিয়েছিল। কিন্তু কেতন তাঁকে হুমকি দেয় বলে সে দাবি করেছে। কেতন সিয়াকে জানায় তাঁর পরিবার অত্যন্ত ধনী এবং প্রভাবশালী, তাই বিয়ে না করে পালিয়ে যাওয়ার প্ল্যানে সে সফল হবে না। এরপরেই সিয়া ও চেতন মিলে কেতনকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার এই পরিকল্পনা করে।

তবে এই ঘটনার আগেও অন্তত দু’বার খুনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। গত ১৪ জুন এই লোহাগড় দুর্গেই কেতনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন সিয়া। কিন্তু সে যাত্রায় ঝোপ আঁকড়ে প্রাণে বেঁচে যান কেতন। পরে সিয়া ‘সাপ দেখার’ অজুহাত দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেন। আরও পড়ুন: রামমন্দিরে ৩৫০০ কোটির অনুদান নয়ছয়! গ্রেফতার ৮ কর্মী

পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে কান্নাকাটি শুরু করে সিয়া। তখন তাঁকে ধমক দিয়ে চেতন বলেছিলেন, “তোমার দ্বারা এ কাজ হবে না। কাজটা করতে হবে আমাকেই।” এরপর সিয়া তাঁর ও কেতনের পূর্বপরিকল্পিত বালি (Bali) ট্রিপ বাতিল করার জন্য পাসপোর্ট পর্যন্ত লুকিয়ে ফেলেন। শেষমেশ ১৮ জুন সিয়ার জন্মদিন উদযাপনের বাহানায় কেতনকে আবার লোনাওয়ালার লোহাগড় দুর্গে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই হাজির ছিলেন চেতন। এরপর সুযোগ বুঝে সিয়া ও চেতন দুজনে মিলে কেতনকে পাহাড়ের ওপর থেকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেন।

তবে পুলিশ জানিয়েছে, জেরায় সিয়া এবং চেতন দুজনেই নিজেদের বাঁচাতে একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছেন। সিয়ার দাবি, খুনের পরিকল্পনা প্রথম চেতনের মাথাতেই এসেছিল। অন্যদিকে চেতনের দাবি, সিয়ার জোরাজুরিতেই তিনি এই পথে হেঁটেছেন। চেতন জানান, তিনি সিয়াকে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে নতুন জীবন শুরু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সিয়া জানান যে তাঁর পরিবার অত্যন্ত প্রভাবশালী, পালিয়ে গেলে সমাজ ও পরিবারের হাত থেকে তাঁরা রেহাই পাবেন না। তাই কেতনকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়াই একমাত্র পথ। কেতনের বাবা বিশাল আগরওয়াল বলেন, “সিয়ার বয়স মাত্র ২০ হওয়ায় আমরা বিয়েটা কিছুদিন পিছিয়ে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সিয়ার বাড়ির লোকই ‘এমন ভালো পাত্র হাতছাড়া হবে’ এই ভয়ে তড়িঘড়ি বিয়ে দেওয়ার জন্য আমাদের ওপর জোর দেয়।”

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বিভ্রান্ত করার জন্য দু’জনে বারবার বয়ান বদল করছেন। তবে কেতনকে খুনের পরেও দু’জনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং জেরার সময় সিয়া বা চেতন—কারও মধ্যেই কোনো অনুতাপের লেশমাত্র দেখা যায়নি। পুলিশের অনুমান, দ্রুত কাজ শেষ করে সিয়াকে নিয়ে মহাবালেশ্বরে একান্তে সময় কাটানোর পরিকল্পনা ছিল চেতনের।

–

–

–
