অযোধ্যার রাম মন্দিরের ভক্তদের দেওয়া অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এবার অনুদান চুরির অভিযোগে গ্রেফতার ৮ জন। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে সকলেই মন্দিরের অনুদান গোনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

রামমন্দিরে নগদ প্রণামী জমা পড়েছে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকারও বেশি। নগদ ছাড়াও রয়েছে অগণিত সোনা-রুপোর গয়না৷ এর একটা বিপুল অংশের টাকার কোনও হদিশই মিলছে না। এমনকি মন্দিরের হেফাজত থেকে উধাও দানে পাওয়া রুপোর তৈরি ভূষূণ্ডির কাকও। কোথায় গেল এসব? রামমন্দির উদ্বোধন হওয়ার পর থেকে অনুদান কারা আত্মসাৎ করলেন? এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। আরও পড়ুন: আটবছর পর কাকদ্বীপে সিপিএম দম্পতি খুনে গ্রেফতার ১০

যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মধ্যে অনুদান বাক্সের চাবি যাঁর কাছে ছিল, সেই টিন্নু যাদবকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। আট অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে অযোধ্যা থেকেই। তদন্তে উঠে এসেছে, গোটা সিস্টেমে যে অব্যবস্থার কথা বলা হচ্ছে, সেই সিস্টেমে ঢুকে রয়েছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের লোকেরাই। রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের প্রধান চম্পত রাইও কাঠগড়ায়। গ্রেফতার হওয়া আটজন প্রত্যেকেই যুক্ত ছিলেন মন্দিরের আর্থিক কার্যকলাপে।

চম্পতের প্রাক্তন গাড়িচালক টিন্নুর কাছে থাকত দানবাক্সের চাবি। অনুদান গোনার সঙ্গে জড়িত পিতাপুত্র রমাশংকর মিশ্র এবং অনুকল্প মিশ্রকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রমাশংকরের জামাই লবকুশ মিশ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ, চুরি করা অর্থের বখরা করতেন তিনি। তাঁর বাড়ি থেকে বিপুল টাকা মিলেছে বলেও অভিযোগ। অবিনাশ শুক্লা নামে মন্দিরের এক কর্মীর অ্যাকাউন্ট থেকে মিলেছে ৫ লক্ষ টাকা। গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনিও। এছাড়াও টাকা গোনায় যুক্ত মণীশ যাদব এখন পুলিশের জালে। গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রাক্তন ব্যাঙ্ককর্মী সুভাষ শ্রীবাস্তব। জাল রসিদ তৈরির অভিযোগে করুণেশ পাণ্ডে গ্রেফতার হয়েছেন।

অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের পথ সুগম করেছিল সুপ্রিম কোর্টের রায়। শীর্ষ আদালতের নির্দেশের প্রেক্ষিতেই ২০২০ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট গঠিত হয়। তারাই নির্মাণ করছে রামমন্দির। সেখানেই ভক্তদের দানসামগ্রী নয়ছয়! এ নিয়ে প্রবল চাপের মুখে পড়ে শেষপর্যন্ত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকার। তারপরে আটজোনের বিরুদ্ধে দায়ের হয় এফআইআর। পরে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

–

–

–
