মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Shuvendu Adhikari) বিধানসভায় নির্দেশের পরেই অ্যাকশন। দীর্ঘ আটবছর পর কাকদ্বীপে সিপিএম দম্পতি (CPM Couple Murder Case) খুনে গ্রেফতার ১০। সম্প্রতি সিপিএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান এবং সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মৃতের একমাত্র ছেলে দীপঙ্করকে সঙ্গে নিয়ে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের বক্তব্য শোনার পর বিষয়টি রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছে পাঠান। তারপরেই কাকদ্বীপ থানার পুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়ে বুধাখালি গ্রামের ১০ জন অভিযুক্তকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।

ঘটনাটি ঘটে ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের বুধাখালি গ্রামের বাসিন্দা সিপিএম সমর্থক দম্পতি দেবু দাস ও ঊষারানি দাসকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ ওঠে তৎকালীন তৃণমূল সরকারের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় তাঁদের বাড়িও। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর কিছুদিন আগে মাছ ধরা নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে তাঁদের বচসা হয়েছিল। ‘তৃণমূল না করলে মাছ ধরতে দেওয়া হবে না’ বলে হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। আরও পড়ুন: সাহিত্য সম্রাটের জন্মজয়ন্তীতে ‘বন্দেমাতরম মিউজিয়াম’ তৈরির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

ঘটনার দিন রাতে ওই এলাকা বিদ্যুৎহীন ছিল। তৎকালীন পুলিশ ও প্রশাসন একে ‘শর্ট সার্কিট’-এর ঘটনা বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। ঘটনার পর এফআইআর নিতে অস্বীকার করে থানা। বাবা-মায়ের অগ্নিদগ্ধ দেহ ফিরে পেতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল এই দম্পতির একমাত্র ছেলে দীপঙ্কর দাসকে। হাইকোর্টের নির্দেশে দময়ন্তী সেন ও মুরলীধর শর্মার মতো আইপিএস অফিসারদের নিয়ে ‘সিট’ (SIT) গঠন করা হলেও রাজনৈতিক প্রভাবে মূল অভিযুক্তরা এতদিন জেলের বাইরেই ছিল। উল্টে ঘটনার মোড় ঘোরাতে ৯ জন সিপিএম কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

ধৃতেরা হলেন—অশোক মণ্ডল (৪৬), চন্দন গিরি (৪১), মেঘনাথ ডাকুয়া (৬২), মাধব কান্দার় (৬৫), নিকুঞ্জ নস্কর (৬৯), শিবপ্রসাদ মণ্ডল (৬৬), অমিত মণ্ডল (৪১), গোকুল জানা (৪৫), নারায়ণচন্দ্র পতি (৪৮) এবং শেখ মনিরুল (৪০)। এদের মধ্যে অমিত মণ্ডল তৎকালীন তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য ছিলেন। বুধবার ধৃতদের কাকদ্বীপ মহকুমা আদালতে হাজির করা হলে বিচারক ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার বিশ্বচাঁদ ঠাকুরও নিহত দম্পতির ছেলে দীপঙ্করের সাথে কথা বলেছেন।

–

–

–

–
