সাত দশক ধরে চালু থাকা 370 ধারা বাতিল, নতুন পথে যাত্রা শুরু কাশ্মীরের

কাশ্মীরে 69 বছর ধরে চালু থাকা 370 ধারা আইনি পথেই বিলুপ্ত হলো। 370 বিলোপ হওয়ার ফলে
স্বাভাবিকভাবেই এই ধারার অধীনে থাকা 35A ধারারও বিলুপ্তি ঘটলো। এবার থেকে নতুন পথে যাত্রা শুরু হবে কাশ্মীরের। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, “কাশ্মীরের উন্নয়নের জন্য 370 ধারার বিলোপ করা হলো”।
একইসঙ্গে কাশ্মীর থেকে আলাদা করে দেওয়া হল লাদাখকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাবে রাষ্ট্রপতির সিলমোহরের পরই
দুটি আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হতে চলেছে জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ। দু’টি জায়গাতেই দু’জন লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিয়োগ করবেন দেশের রাষ্ট্রপতি।
ইতিমধ্যেই দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী-সহ রাজ্যের একাধিক প্রথমসারির নেতা গৃহবন্দি। উপত্যকার সিংহভাগ এলাকায় জারি হয়েছে 144 ধারা। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও মজবুত করার কাজ চলছে। একের পর এক কাশ্মীরে ঢুকছে সেনা-আধাসেনাবাহিনি।
উপত্যকায় কী হতে চলেছে তা নিয়ে কয়েকদিন ধরেই জল্পনা চলছিল, সোমবার সেই জল্পনার অবসান ঘটালেন অমিত শাহ।

সোমবার, সংসদ শুরু হতেই রাজ্যসভায় সংবিধানের 370 ধারা তুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন অমিত শাহ। বিরোধীরা তুমুল হই হট্টগোল জুড়ে দেন। কিছুক্ষণের জন্য অধিবেশন মুলতুবি হয়ে যায়। ফের অধিবেশন শুরু হলে, রাষ্ট্রপতির নির্দেশনামা পড়ে শোনান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

370 বিলোপ হওয়া অর্থাৎ জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়ার পরের সিদ্ধান্ত :
■ দুটি আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হতে চলেছে, জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ।

■ আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা পাচ্ছে জম্মু-কাশ্মীর।

■ লাদাখ আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল।

■ জম্মু-কাশ্মীরের বিধানসভা থাকবে।

■ লাদাখে বিধানসভা থাকবে না।

■ দু’টি জায়গাতেই দু’জন লেফটেন্যান্ট- গভর্নর নিয়োগ করা হবে।

■ রাষ্ট্রপতির সিলমোহরের পরই জম্মু-কাশ্মীরে আরও 8 হাজার আধাসেনা মোতায়েন। ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ ও অসম থেকে বাহিনী তুলে কাশ্মীরে পাঠানো শুরু হয়েছে।

■ সংসদে YSR কংগ্রেস সাংসদ বিজয়সাই রেড্ডি বলেন, “কীভাবে দেশে দু’জন প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন ?”

■ BJD সাংসদ প্রসন্ন আচার্য বলেন, “জম্মু-কাশ্মীর আজ সত্যিই ভারতের অংশ হল”।

■ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, “কাশ্মীরের 3টি পরিবার এই ধারার সুবিধা ভোগ করেছে। এই 370 ধারা-ই কাশ্মীরকে দেশের সঙ্গে এক হতে দেয়নি।”

■ কংগ্রেসের গোলাম নবি আজাদ বলেন, 370 ধারা বিলোপের তীব্র নিন্দা করছি। বিজেপি দেশের সংবিধানকে হত্যা করছে।

■ বিরোধীদের তুমুল হট্টগোলের জেরে রাজ্যসভায় মার্শালকে তলব করা হয়।

■ সংবিধান ছেঁড়ার অপরাধে মার্শালকে দিয়ে দুই সাংসদকে বার করে দিলেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নায়ডু।

■ বিরোধীদের তুমুল হই হট্টগোলের মধ্যেই রাজ্যসভায় রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সই করা নির্দেশনামা পড়ে শোনান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।