Monday, January 19, 2026

হংকংয়ের দুর্গাপুজোয় এক টুকরো বাংলা

Date:

Share post:

প্রবাসী বাঙালিদের একত্র হওয়ার বড় উৎসব দুর্গাপুজো। নিজেদের শিকড় ছেড়ে বহু যোজন দূরের প্রবাসে থাকা বাঙালি অপেক্ষায় থাকে এই শারদ উৎসবের। প্রবাসেই দুর্গাপুজোর আয়োজন করে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাঙালিরা যেন ফিরে পান বাঙলার মাটির গন্ধ।

দক্ষিণ চিন সাগরের উপকূলে হংকংয়ের বাঙালিরাও এর বাইরে নন। মা দুর্গাকে সামনে রেখে শরতের এই বিশেষ চারটে দিনের অপেক্ষায় থাকেন হংকং-এ থাকা বাঙালিরাও। হংকংয়ের বাঙালি অ্যাসোসিয়েশনের শারদ উৎসব এ বার 21 বছরে পা দিল। হংকংয়ে এই একটি মাত্র বারোয়ারি দুর্গাপুজোই হয়, আর তাকে ঘিরেই ওখানকার বাঙালিরা মেতে ওঠেন। প্রতিটি বাঙালি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এই পুজোতে। সঙ্গে থাকেন অসংখ্য অসংখ্য প্রবাসী অবাঙালিও। 2016-তে এই পুজো “বিশ্ব বাংলা শারদ সম্মান”-এ ভূষিত হয়েছিলো।

পুজোর প্রস্তুতি প্রায় শেষ। 2016 থেকে হংকং-এর এই পুজো শতাব্দী প্রাচীন ইন্ডিয়ান রিক্রিয়েশন ক্লাবের চত্বরে হচ্ছে। এবারেও মা আসছেন সেখানেই। পঞ্জিকা মেনে পুজোর দিনগুলিতে সব শাস্ত্রীয় আচার পালন করা হয়। এবারের পুজো কমিটির সভাপতি অলক রায়, সম্পাদক সাগ্নিক গঙ্গোপাধ্যায়।

তাঁরা জানিয়েছেন,পুজোর প্রতিদিন বিকেলে ধুমধাম করেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। এবারও হবে। এই মুহূর্তে চলছে তার মহড়া। এ ছাড়াও থাকে ধুনুচি নাচ, শাঁখ বাজানো প্রতিযোগিতা। এসব অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন হংকং বাঙালি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরাই। প্রতি তিন বছর অন্তর দুর্গা প্রতিমা কুমোরটুলি থেকে পাড়ি দেন হংকং। পুরোহিত ,ঢাকি এবং রাঁধুনি নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতা থেকে। তাঁদের ভিসা ও প্লেনের টিকিট এর ব্যবস্থা হয়ে গিয়েছে। এই পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা, রাজদীপ মজুমদার জানান, কলকাতা থেকেই আনা হচ্ছে পুজোর দশকর্মা সামগ্রী, মা দুর্গার শাড়ি। পুজোর ভোগ সাধারনত সদস্যরাই বানিয়ে আনেন। পুজোর চার-পাঁচ দিন মাতৃমণ্ডপে রোজ দো-বেলা জোরদার খাওয়া দাওয়া। খাবারের মেনুতেও বাংলার ছোঁয়া। প্রথম চারদিন থাকে নানা রকম সুস্বাদু নিরামিষ বাঙালি পদ আর বিজয়া দশমীর দিন কব্জি ডুবিয়ে মাছ-মাংস। এই পুজোর সময়ই বাঙালি অ্যাসোসিয়েশন প্রকাশ করে বেনজির একটি সাহিত্য পত্রিকাও। সদস্যদের লেখা, তাঁদের তোলা ছবি, বাচ্চাদের আঁকা ছবি, আরও অনেক কিছু থাকে এই বার্ষিক সাহিত্য পত্রিকায়।

আরও পড়ুন-শনিবার বৈঠকের পরই চূড়ান্ত হবে টালা ব্রিজের বিকল্প রুট

spot_img

Related articles

কৃষ্ণনগরে বিজেপির ‘অবৈধ’ পার্টি অফিস! বাংলা-বিরোধীদের তোপ অভিষেকের

বিজেপির ক্ষমতা রাজ্যের কোথাও একটু বাড়লে তারা বাংলার মানুষের উপর কী ধরনের অত্যাচার করে, তা ইতিমধ্যে বিভিন্ন ঘটনায়...

সিঙ্গুরে শিল্পের দিশা নেই মোদির ভাষণে! ‘জুমলা’ কটাক্ষে সরব তৃণমূল

সিঙ্গুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাইভোল্টেজ সভাকে কার্যত ‘দিশাহীন’ এবং ‘জুমলা’ বলে দাগিয়ে দিল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি...

সোমে বারাসাতে ‘রণ সংকল্প সভা’, স্বজনহারাদের কথা শুনবেন অভিষেক

নদিয়া জয়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়ার পর সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার জেলাসদর বারাসাতে হাইভোল্টেজ সভা করতে আসছেন তৃণমূল কংগ্রেসের...

শিল্প নিয়ে একটি কথা নেই: সিঙ্গুরেই বঙ্গ বিজেপির সলিল সমাধি

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে সিঙ্গুরে সভা করার আগে বঙ্গ বিজেপি নেতারা মঞ্চ এমন ভাবে প্রস্তুত করেছিলেন যেন সিঙ্গুরে...