Friday, February 6, 2026

পানশালায় গিয়ে ঠকছেন না তো আপনি? পেগ মাপতে ময়দানে নামছে রাজ্য

Date:

Share post:

রোজ যেতে হয় পানশালায়? পানশালায় না গেলে মন ভাল থাকে না? পানশালায় কি ঠকছেন না তো আপনি? গ্লাসে সুরা কম পড়ছে না তো আপনার? রাজ্য ক্রেতাসুরক্ষা দফতর বলছে, থাকতেই পারে। লোক ঠকানোর সেই সুযোগ যাতে পানশালাগুলি না পায়, তার জন্য অফিসারদের নামিয়েছে দফতর। ৩০ মিলি বা ৬০ মিলির যে পেগ পরিবেশিত হওয়ার কথা, সেখানে ওই পরিমাপই দেওয়া হচ্ছে কি না, তা মেপে দেখছেন অফিসাররা।

ক্রেতাসুরক্ষা দফতরের কাজ যেমন ক্রেতাদের সচেতন করা, তেমন তাঁদের স্বার্থ রক্ষিত হচ্ছে কি না, তা দেখভালের দায়িত্বও তাদের। এই দপ্তরের আওতায় থাকা লিগ্যাল মেট্রোলজি বিভাগ এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে। রাজ্যের বাজারগুলি পরিদর্শন করেন এই বিভাগের অফিসাররা। সেখানে যে ওজন যন্ত্র ও বাটখারার মতো পরিমাপকগুলি আছে, সেগুলি নিয়মিত পরীক্ষা করার কথা তাঁদের। শুধু ওজনই নয়, যে কোনও পরিমাপ সঠিক হচ্ছে কি না, তা পরখ করে দেখেন তাঁরা। পরীক্ষার পর দেওয়া হয় শংসাপত্র। সরকারি হারে নেওয়া হয় ফি। যদি সেখানে কোনও ঠকানোর কারবার চলে, তাহলে জরিমানা বা শাস্তির ব্যবস্থা আছে সরকারের তরফে।

এখানকার এক কর্তার কথায় জানা গিয়েছে, আমরা আগে পেগ মাপার বিষয়ে ততটা উৎসাহী ছিলাম না। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে সেখানেও নিয়মিত নজরদারি বেড়েছে। কারণ, পানশালাগুলিতে যে সুরা বিক্রি হয়, তার দাম যথেষ্ট। সেখানে যদি ক্রেতাকে ন্যায্য পরিমাপের কম দেওয়া হয়, তাহলে তাঁর স্বার্থ বিঘ্নিত হয়। আমরা তা আটকাতে চাই। পেগ বা সুরাদান পাত্রটি তৈরি হয় রুপোর স্তর দিয়ে। কারণ তার সঙ্গে সুরা বা অ্যালকোহলের কোনও রাসায়নিক বিক্রিয়া হয় না। সেই পেগে ৩০ বা ৬০ মিলির যে পরিমাপ থাকে, আসল পরিমাপের থেকে সেটি কম কি না, তা যাচাই করে দেখার কথা সাধারণত চিন্তা করেন না ক্রেতা। কারণ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাঁদের সামনেই পেগ মেপে দেওয়া হয়। কিন্তু যদি ওই পাত্রটিতেই কারচুপি থাকে, তাহলে পরখ করে দেখার পরিকাঠামো থাকে না সাধারণ ক্রেতার কাছে। সেই সুযোগটি যাতে পানশালাগুলি না নিতে পারে, তার জন্য বছরে একবার পেগের পরিমাপ পরখ করে সেই মতো সার্টিফিকেট দেওয়া হয় দফতরের তরফে। কিন্তু যদি পেগের মাপ ঠিক রেখে, আসল সুরার বদলে অন্য কিছু পরিবেশন করা হয়? অর্থাৎ সুরাতেই যদি ভেজাল থাকে? দফতরের কর্তাদের উত্তর, মদিরতায় ভরপুর ক্রেতাকে যদি ভেজাল পানীয় পরিবেশন করা হয়, তাহলে তার বিহিত করার দায়িত্ব বা অধিকার লিগ্যাল মেট্রোলজি বিভাগের নেই। ক্রেতা যদি মনে করেন, তিনি ভেজাল পান করছেন এবং তিনি যদি তা প্রমাণ করতে সক্ষম হন, তাহলে তাঁকে সুরাহা দেওয়ার জন্য ক্রেতাসুরক্ষা দফতরের নিজস্ব বিভাগ আছে। আছে ক্রেতাসুরক্ষা আদালতও। সেখানে গিয়ে তাঁরা নিজেদের অভিযোগ জানাতে পারেন।

spot_img

Related articles

আদালতকে প্রচারের জন্য ব্যবহার! বিহার ভোট নিয়ে PK-র মামলা খারিজ করে ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের

বিহার বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৮টি আসনে লড়ে খাতা খুলতে পারেনি প্রশান্ত কিশোরের (Prashanta Kishor) দল জন সুরাজ পার্টি। এবার...

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের হারে বাড়বে বার্ধক্য ভাতাও, বিধানসভায় স্পষ্ট করলেন অর্থমন্ত্রী

লক্ষীর ভান্ডার এর সঙ্গে সঙ্গে রাজ্য সরকারের বার্ধক্য ভাতার প্রাপকদের ভাতাও একই হারে বাড়ছে। এ ব্যাপারে বিরোধীদের তোলা...

মর্মান্তিক! মর্গে স্ত্রী-সন্তান দেহ, SIR-শুনানিতে হাজির শিক্ষক!

এসআইআর (SIR) হেনস্থার আবহে আরও এক হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী থাকল মালদহ। শুনানিতে হাজিরা দিতে গিয়ে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায়...

ইসলামাবাদের মসজিদে আত্মঘাতী জঙ্গি হামলা! মৃত ২৬

ইসলামাবাদে (Ishlamabad) একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় নিহত ২৬। আহত হয়েছেন বহু মানুষ। মাজারটি শেহজাদ টাউন এলাকায় অবস্থিত।...