Wednesday, January 14, 2026

জুতো সেলাই শিখে এখন কী কান্ড করছেন ফুটবলার!

Date:

Share post:

কলকাতা ময়দানে ঘটনাচক্রে জুতো সেলাই শিখে এখন কী কান্ড করছেন জাপানি ফুটবলার! তাঁর কীর্তি ঘুরছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেটিই পেশ করা হল।

কি, নাম মনে পড়ছে না?

হ্যাঁ, ইনিই সেই রুইজি সুয়েকা!

২০০৯ সালে মোহনবাগানের হাত ধরে ভারতের মাটিতে পা রাখা এই জাপানি ফুটবলার ভারতে খেলে যাওয়া জাপানিদের মধ্যে অন্যতম সেরা।

কেন এই মাঝারি মানের বিদেশিকে নিয়ে লিখতে বসলাম তার কারণটা বলছি।

মোহনবাগানে খেলার সময় হঠাৎ একদিন তাঁর বুট ছিড়ে যায়।

জাপানি রীতি অনুযায়ী বুটটা ফেলে দিলেও,প্রিয় বুটের জন্য মনে মনে একটু দুঃখ হয়।

তখন মোহনবাগানের একজন মালি তাকে বলেন,বুটটা আরও কিছু দিন আপনি ব্যবহার করতে পারেন।
তখন সুয়েকার বুট জোড়া নিয়ে ময়দানে এক মুচির কাছে যান সেই মালি, কৌতূহল বশতঃ সুয়েকাও যান মালির সাথে।কেননা,জাপানের মতো উন্নতশীল দেশে জুতো সেলাই করে পরার রীতি নেই।

কিন্তু,সুয়েকা অবাক হয়ে যান তার বুট একজন সামান্য রাস্তার ধারে বসে থাকা এক মুচি, বিনা মেশিনে কি অপূর্ব সুন্দর ভাবে তার বুটটা সেলাই করে খেলার উপযুক্ত করে দিলো।

তখন সুয়েকা সময় পেলেই ওই মুচির কাছে বুট সেলাই শিখতেন  (যদিও শিক্ষিত ভারতীয়ের কাছে এটা অপমানজনক পেশা।) এবং অবসর পেলেই তার কাছে ছুটে যেতেন। কিন্তু,ডাক আসে ডেম্পোর হয়ে খেলার জন্য।

চলে যান গোয়া।

ইস্টবেঙ্গলের হাত ধরে ২০১৪ সালে আবার ফেরা কলকাতায়।

আবার শুরু জুতো সেলাইয়ের কাজ।

তারপর হয়ে ওঠেন অগৌরবের,তুচ্ছ কাজের কারিগর ‘পারদর্শী মুচি’!

শেষ বারের মতো পুনে এফ সি তে খেলে পাড়ি জমান জাপানে।
সেখানে গিয়ে তিনি জুতো সারাইয়ের কাজ গর্বের সাথে পেশা হিসাবে নেন।
এরপর জাপানি প্রযুক্তি ব্যবহার করে, মেশিনের সাহায্যে জুতো তৈরির কারখানা খোলেন।
সাথে সাথে ভারতবর্ষ তথা কলকাতা থেকে শিখে যাওয়া বুট সারাইয়ের কাজও অবসরে করতে থাকেন।
কেউ কোনো ছেড়া বুট ফেলে দিলে, সেই বুট নিজ হাতে সেলাই করে জর্ডন,কম্বোডিয়া,আফ্রিকার মতো গরিব দেশের শিশুদের হাতে তুলে দেন।

সত্যি!

কি অবাক করা ব্যাপার না।

যেখানে আমাদের দেশের মানুষেরা জুতে সেলাইকে নিম্ন শ্রেনীর মানুষের কাজ বলে মনে করে,এমন কি শিক্ষিত মানুষেরা মুচির সামনে রাখা বাক্সে পা তুলে দিয়ে বুট পালিশ করিয়ে তাঁদের কাজকে সমাজের বুকে তুচ্ছ আখ্যা দিয়ে, অবজ্ঞা ভরে দু টাকা ছুঁড়ে দেয়,সেই বুট সেলাইকেই জীবনের রুজ-রুটির রাস্তা বানিয়ে নিলো একজন জাপানি।

এমনকি ভারতের বিভিন্ন ক্লাবে খেলার সুবাদে, তাদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে ভারতের গরিব খেলোয়াড়দের হাতে, নিজের হাতে সেলাই করা বুট তুলে দিতে চান সুয়েকা।

‘সত্য সেলুকাস কি বিচিত্র এই দেশ’,সাথে এই দেশের সংস্কৃতি।

(সংগৃহীত)

spot_img

Related articles

হাই কোর্টে নিয়ন্ত্রণ শুনানি পর্ব: বুধে ইডি-আইপ্যাক মামলার আগে জারি নির্দেশিকা

একদিকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। অন্যদিকে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। দুপক্ষের দায়ের করা মামলা কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta...

চন্দ্রকোণায় প্রতিবাদ মিছিল শুভেন্দুর: কাল্পনিক, ভিত্তিহীন অভিযোগ, দাবি তৃণমূলের

আরও একবার বিরোধী দলনেতা নিজের উপর হামলার ঘটনা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় করার চেষ্টায়। নির্বাচনের আগে কোনও ইস্যু...

আক্রান্ত উত্তর ২৪ পরগনায় দুই নার্স! নিপা মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের

রাজ্যে ফের নিপা ভাইরাসের আতঙ্ক। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত দুই নার্সের শরীরে নিপা ভাইরাসের...

রাজনীতির রঙ ভুলে শেষ শ্রদ্ধা সমীর পুততুণ্ডকে: দেহ দান এসএসকেএমে

বাংলার রাজনীতি যে সবসময় সৌজন্য শেখায় তা আবার এক মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে স্পষ্ট হয়ে গেল। মঙ্গলবার প্রয়াত পিডিএস...