বাবা মুকুল রায় দল ছেড়েছিলেন অনেক আগেই। যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে। তারপর থেকেই জোর চর্চা চলছিল তাঁকে ঘিরে। কবে তিনি হাঁটবেন বাবার পথে? কিন্তু তিনি জানিয়েছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নেত্রী। আজীবন থাকবেন তৃণমূলেই! কিন্তু না, কথা রাখতে পারেননি পুত্র শুভ্রাংশু। অনেক টালবাহানা আর নাটকের পর গায়ে শেষপর্যন্ত গেরুয়াবসন জড়িয়ে ছিলেন বীজপুরের বিধায়ক। বাবা যত বড়ই নেতা হোক, শুভ্রাংশু কিন্তু দল বদলে সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। তাঁর রাজনৈতিক অস্তিত্ব এবং পরিচয় নিয়েই এখন পরিবর্তিত দলের মধ্যে এবং অনুগামীদের মধ্যে জোর সংশয় দেখা দিয়েছে।

বঙ্গ রাজনীতিতে এখন জোর জল্পনা, মুকুল পুত্র
শুভ্রাংশু নাকি ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, বিজেপিতে সুবিধা করতে পারছেন না। তাই নিজের রাজনৈতিক পরিচয় রক্ষা করতে ফিরতে চান পুরনো দল তৃণমূলে। এবং নিজের অনুগামীদের নিয়েই। যেকোনও শর্তে। সুতরাং, বড়সড় ভাঙনের মুখে পরতে পারে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা বিজেপি। কারণ, তৃণমূলে ফিরতে চাইছেন খোদ বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের পুত্র।
শুধু তাই নয়, উপনির্বাচনে ভরাডুবির পর এবং একের পর এক পুরসভা ফের তৃণমূলের হাতে চলে যাওয়ায় অনেকেরই মোহ ভেঙেছে গেরুয়া শিবিরের উপর। তাই নিজেদের দূরদর্শিতার অভাব বুঝে এবং রাজনৈতিক অস্তিত্বরক্ষার তাগিদে নতুন করে শাসকদলে ফেরার জন্য যোগাযোগ করেছেন আরও অনেকে।

সূত্রের খবর, সেই তালিকায় মুকুল রায় পুত্র পয়লা নম্বরে থাকলেও একইসঙ্গে তালিকায় ভিড় বাড়িয়েছেন নোয়াপাড়ার বিধায়ক তথা ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংয়ের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় সুনীল সিং, বাগদার বিধায়ক দুলাল বর এবং বনগাঁর উত্তরের বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস। ইতিমধ্যেই, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে নাকি তাঁরা কথা চালাচালি শুরু করেছেন বলেও রাজনৈতিক মহলে জোর খবর।

যদিও শাসক শিবির সূত্রে খবর, “গদ্দার” বা “বেইমান”-দের দলে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যপারে তৃণমূল নেতৃত্ব এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। কোনও তাড়াহুড়ো নয়, তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব চাইছে, দলবদলুরা আসলে কী উদ্দেশে দলে ফিরতে চাইছেন সেটা যাচাই করার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে শাসক দলের একটি সূত্র বলছে, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূল সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং পর্যবেক্ষক নির্মল ঘোষের তরফে শুভ্রাংশুদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে নিজে সিদ্ধান্ত নেবেন। যদিও মনে করা হচ্ছে, চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় ফের এই দলবদল হতে পারে।

তৃণমূল সূত্রের খবর, শুভ্রাংশু রায় এবং সুনীল সিংকে দলে ফিরিয়ে নিতে কোনও আপত্তি নেই শীর্ষ নেতৃত্বের। তবে, দুলাল বরকে নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত দল। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকবার দল বদলেছেন দুলাল। তাই তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে পুরোপুরি ভরসা করে উঠতে পারছে না। আবার, ইতিমধ্যেই বিধানসভায় তৃণমূল সাংসদদের সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে দুলাল বর এবং বিশ্বজিৎ দাসের।

তবে পুরোটাই এখন আলোচনার পর্যায়ে আছে বলে জানা যাচ্ছে। কারণ, এই দলবদলুরা দল ছেড়ে যাওয়ার পর সেভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি শাসক দল। ফলে, তাঁদের ব্যাপারে খুব বেশি মাথা ঘামাতে নারাজ ঘাসফুল শিবির। স্বাভাবিক নিয়মে দলে ফেরানো যায় কিনা, সেটাই মূল আলোচ্য বিষয় এখন। বাকি উত্তর দেবে সময়।
