Sunday, March 15, 2026

কেন্দ্র জানেই না বাংলায় অবৈধ অভিবাসী কত, তবুও NRC-হুমকি, কণাদ দাশগুপ্তের কলম

Date:

Share post:

কণাদ দাশগুপ্ত

ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে দেশজুড়ে NRC-র হুমকি, বিজেপি’র কাছে যতটা না দেশভক্তি, তার থেকে অনেক বেশি রাজনৈতিক কৌশল এবং হাতিয়ার ৷ বাংলায় NRC-র মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত চালু করার হুমকি সমানে দিয়ে চলেছেন কেন্দ্রীয় সরকার, জাতীয় ও রাজ্য বিজেপি’র নেতারা৷ এ রাজ্যেও NRC হবে বলেই জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও৷ এত হুমকি শুনে রাজ্যবাসীর স্বভাবতই ধারনা হচ্ছে, কেন্দ্র বাংলায় NRC তৈরির যাবতীয় হোমওয়ার্ক সেরে ফেলেছেন, এখন অপেক্ষা শুধুই প্রক্রিয়াটি চালু করার৷ আমজনতা তথা সর্বস্তরের মানুষ মোটামুটি নিশ্চিত, কেন্দ্র জানে বাংলায় অবৈধ অভিবাসী বা Immigrant-দের আনুমানিক সংখ্যা কত? এবং সেই তথ্য হাতে নিয়েই কেন্দ্র বোঝাচ্ছে, এই ‘বিপুল’ সংখ্যক অবৈধ অভিবাসীদের জন্যই বাংলার উন্নয়ন হচ্ছে না৷ কেন্দ্র তথা বিজেপি বোঝাচ্ছে, বাংলার ‘স্বার্থে’ এ রাজ্যে NRC প্রয়োজন৷ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে এই প্রচার নিশ্চিতভাবেই এফেক্টিভ৷ কিন্তু বাস্তবটা কী ?
তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ শান্তা ছেত্রি গত সপ্তাহে সংসদে সরকারকে প্রশ্ন করেছিলেন, “জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা NRC পশ্চিমবঙ্গেও হবে কিনা এবং এই রাজ্যে বর্তমানে অবৈধ অভিবাসী বা Immigrant-দের সংখ্যা কত ?” একইসঙ্গে তিনি এ সম্পর্কে কেন্দ্রের কাছে কোনও তথ্য থাকলে, তা জানতেও চেয়েছিলেন তৃণমূলের এই সাংসদ।

রাজ্যসভায় এই প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই খোলাখুলি জানান, “পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী এই ধরনের অভিবাসীর সংখ্যার সঠিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না”৷
এর কারন হিসেবে রাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “যেহেতু অবৈধ অভিবাসীরা গোপনে এবং অনৈতিকভাবে ভ্রমণ সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করে, তাই পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অভিবাসীদের সংখ্যাই এখনও জানা যায়নি৷”

কি বিস্ময়কর কেন্দ্রের যুক্তি ৷ কেন্দ্র এবং বিজেপি বাংলা থেকে অবৈধ অভিবাসীদের তাড়াবে অথচ দেশের সরকার সম্পূর্ণ অন্ধকারে আনুমানিক কতজনকে তাড়াতে হবে৷ এতবড় একটি প্রক্রিয়া, যা নিয়ে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে৷ যে NRC-র ঠেলায় উপনির্বাচনে বঙ্গ-বিজেপি ৩-০ তে ‘ম্যাচ হেরেছে, যা প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্যে বড় অশান্তি হওয়ার আশঙ্কা প্রবল, সেই NRC রাজ্যে চালু করবে বলে কেন্দ্র বার বার বলছে, অথচ কেন্দ্রের প্রয়োজনীয় তথ্য-ভাণ্ডার শূন্য ? এ কেমন ছেলেমানুষী ?স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক তো এই বিশাল কাজটি সম্পাদনা করে। তথ্যই না থাকলে কীভাবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হবে? সে সম্পর্কে তো এখনও বিশদে কিছুই ঠিক হয়নি। তাহলে এত আগাম এই হুমকি কেন ? কেন্দ্রের এই অবস্থা কি এটাই প্রমান করছে না যে, দেশজুড়ে NRC পরিচালনা করা আসলে জনগণের করের অপচয় মাত্র।

NRC আদমশুমারির চেয়েও কঠিন কাজ। অসমে NRC করার চূড়ান্ত সময়সীমা ছিল ১৯৭১ সাল। তবে দেশের বাকি অংশের NRC সেই চূড়ান্ত সময়সীমা কী হবে তাও এখনও নিশ্চিত নয়।
কংগ্রেস সরকার ২০০৫ সালে অসমে NRC পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং পুরোটা শেষ করতে ১৪ বছর সময় লেগেছে। ভারতজুড়ে এই NRC করতে কত সময় লাগবে তা নিয়ে কেউ নিশ্চিত নয়৷

আরও গুরুত্বপূর্ণ কথা, খরচ৷ শুধু অসমে NRC-র খরচ হয়েছে ১৬০০ কোটি টাকা এবং যদি NRC দেশের 28 টি রাজ্য এবং ৯ টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে করতে হয় তবে মোট খরচ ৬০,০০০ কোটি টাকার চেয়ে কম হবে না। NRC বিষয়টি সবদিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ৷ তাহলে কেন্দ্রের এই কাছাখোলা অবস্থা কেন? কেন্দ্র
তথ্যহীনই বা কেন?

স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হচ্ছে, কেন্দ্র এবং বিজেপি NRC-কে রাজনৈতিক হাতিয়ার করেই বাংলার মাঠে খেলতে চাইছে৷ ট্রায়াল ম্যাচে ৩-০তে হারার পরেও কি স্ট্র্যাটেজি-র বদল হবে না ?

spot_img

Related articles

‘গম্ভীর-দর্শন’, উৎপল সিনহার কলম

এ যে দৃশ্য দেখি অন্য, এ যে বন্য... এ ভারত সে ভারত নয়। এ এক অন্য ভারতীয় ক্রিকেট দল, অন্যরকম...

তৃণমূলকে হারাতে বাম ভোট রামে! মেনে নিলেন সিপিআইএমের অশোক

রাজ্যের উন্নয়নে বরাবর বিরোধ করে আসা সিপিআইএম যে আদতে নিজেদের নীতির ভুলে নিজেদের ভোটব্যাঙ্কই (CPIM vote bank) ধরে...

নবান্নে বড় রদবদল: মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক পদে সুরেন্দ্র কুমার মিনা, কেএমডিএ-তে নিতিন সিংহানিয়া

রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে ফের একদফা বড়সড় রদবদল করল নবান্ন। একাধিক জেলার জেলাশাসক (DM) ও অতিরিক্ত জেলাশাসক পদমর্যাদার...

টেকনিশিয়ানদের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে দেবের অভিযোগের জবাব দিলেন স্বরূপ 

বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) উদ্যোগে টলিউডের কলাকুশলীদের জন্য স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শনিবার টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে...