Sunday, June 21, 2026

এই movement কেউ থামাতে পারবে না

Date:

Share post:

সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়

বাঘা যতীন এলাকায় নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভরত তরুন-তরুনীদের উপর “জয় শ্রীরাম” ধ্বনি দিয়ে হামলাকারীদের ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রতিবাদে সরব হলেন বিশিষ্ট লেখিকা সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷

যে প্রজন্মকে আমরা ভেবেছিলাম যে ডাকলে সাড়া দেয় না, ফোন মুখে বসে থাকে, বাংলাটা বলে না, হেমন্ত শোনে না, রবীন্দ্রনাথ পড়ে না; যে ছেলে মেয়ে গুলোকে আমরা ভেবেছিলাম স্বার্থপর, দেশে জন্মায় কিন্তু বিদেশে চলে যাওয়ার জন্য উন্মুখ, নিজের দেশকে এড়িয়ে কোনমতে কেটে পড়তে চায়- সেই প্রজন্ম কিন্তু ঘুরে দাঁড়ালো। বুঝিয়ে দিল যে আমরা ভুল ভেবেছিলাম এদের। এমন কি বম্বের মত শহর, যে শহরে কারোর জন্য কারোর কোন ‘টাইম’ নেই, সেই শহরের ছেলেমেয়েরাও আন্দোলনে ফেটে পড়ল, রাস্তায় বেরিয়ে এল, এবং এই movement কেউ থামাতে পারবে না। কারণ এখানে ছেলেমেয়েরা স্বেচ্ছায় বন্দুকের গুলির সামনে দাঁড়িয়ে পড়ছে। কোথাও একটা পড়লাম এই আন্দোলনটা snow ball এর মত, যত গড়াচ্ছে বড় হচ্ছে। যারা এখনো aloof থাকার চেষ্টা করছেন, আমি জানি সবার মধ্যেই নানারকম ভয়, সীমাবদ্ধতা, কিন্তু মনে মনে একবার নতুন করে ভাবুন যে এত অত্যাচার চোখের সামনে দেখেও চুপ করে থাকবেন কিনা। অনেক সময়ই মানুষ নবজাগরণের চিহ্ন গুলো পড়তে পারে না। অনেক সময় সমসাময়িক শিল্প, সাহিত্য, সিনেমা আমাদের বিশ্বাস করায় যে নৈরাশ্যেই সব শেষ, নৈরাজ্যই আসল। কিন্তু জীবন শিল্পের থেকে বড়। তাই এই যে মন্ত্রের মত বলে গেছি আমরা,” যে কিছুই হবে না, কিসুই হয় না, প্রতিবাদ করে কি হয়!” এটা কিন্তু ঠিক না। হল তো? চোখের সামনে দেখলেন তো হিন্দুরা ফেটে পড়ল মুসলমানদের অপমানে, অবমূল্যায়নে। ফেটে পড়ল ছাত্রদল। এবং সেই পাশে থাকার আশ্বাস পেয়ে মুহূর্তে মুসলমানরা শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলনের পথে এগোল। এই বিশ্বাসটা তৈরি হতে দেওয়া হয় না। কেন ছাত্রদল মুসলমানদের জন্য দাঁড়িয়ে গেল এভাবে? কারণ তারা প্রতিদিন মেলামেশা করে। মেলামেশা করলেই বোঝা যায় মানুষ সেই শেষমেশ এক! থোড়বড়িখাড়া, খাড়াবড়িথোড়। আমরা মিশি না। ফলে বুঝি না। 70 বছর ধরে আমাদের মেলামেশা বাড়েনি। ওই কোনমতে পাশাপাশি চলেছে। ফলে পান থেকে চুন খসলেই ভয় এসে দাঁড়ায়। অবিশ্বাস এসে দাঁড়ায়। কিন্তু সেই ভয় আর অবিশ্বাসের culmination pointএ পৌঁছে যাওয়ার পর আজ মানুষ রাস্তায় নেমেছে। এবং সেই সঙ্গে এটাও মনে রাখতে হবে যাদের #NRCর ভয় নেই তারাও রাস্তায় নেমেছে। কারণ এই সরকারের প্রতিটা কার্যকলাপ জনবিরোধী। সেগুলো আর এই সাত সকালে নতুন করে উল্লেখ করলাম না।

Related articles

‘টোটাল ফুটবল’, উৎপল সিনহার কলম

টোটাল ফুটবলের মৃত্যু নেই। রূপকথা নয়, এটা একটা দর্শন। যতদূর জানা যায় এই দর্শনের স্রষ্টা রাইনাস মিশেল। ১৯৭৪...

উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে! ‘নাম-বিভ্রাট’ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে কী অনুরোধ কুণালের

শহরের সুপরিচিত ‘সোহরাবর্দি অ্যাভিনিউ’ (Suhrawardy Avenue)-এর নাম বদলে ‘গোপাল মুখার্জি রোড’ (Gopal Mukherjee Road) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা...

দিল্লি বিমানবন্দরে ৪৫ মিনিট আটকে রইল প্রধানমন্ত্রীর কনভয়, কিন্তু কেন?

ভিভিআইপি সংস্কৃতির চিরাচরিত প্রথা ভেঙে পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কলকাতা সফর শেষ করে...

বিমানবন্দরে অস্ত্র হাতে ঢোকা ব্যক্তি কে, হামলার নেপথ্যে কারা? ছবি পোস্ট করে ‘প্রমাণ’ অভিষেকের

তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দিল্লি থেকে ফেরার দিন বিমানবন্দরে অস্ত্র হাতে ঢোকা ব্যক্তি আসলে কে? কারা ছিল...