ঝাঁ চকচকে রেস্তোরাঁ হবে ‘বুড়ো’ বিমান

ছিল বিমান, হচ্ছে রেস্তোরাঁ। সেই যে বাতিল হওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান, যেটা ২০১৪ পর্যন্ত ডাক বিভাগের কাজ করেছিল সেটাকে বিমান সংস্থা ১৮ লাখ টাকায় জয়পুরের একটি সংস্থাকে বেঁচে দেয়। তারপরে সেই বিমান কলকাতা বিমানবন্দর থেকে জয়পুর নিয়ে যেতে গিয়ে সে কি হাঙ্গামা! কখনও যশোহর রোডে রাস্তা বন্ধ করে দিচ্ছে, তো কখনও আবার ব্রিজের তলায় আটকে যাচ্ছে। শেষে ডানা ছাঁটতে হল। আক্ষরিক অর্থেই বিমানের ডানা দুটো আলাদা করে, অন্য ট্রেলারে চাপিয়ে রাজস্থান নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু তাতেও কি নিস্তার আছে? আইনের ফেরে আপাতত দুর্গাপুরে আটকে রয়েছে সেই বিমান।
কিন্তু এত হুজ্জুত করে সেটিকে জয়পুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কেন? যদি বিমানের খোলটা যদি কাজে লাগে, তাহলে সেটা কেটে নিয়েই যাওয়া যেত কিন্তু না যে সংস্থা বুড়ো বিমানটি কিনেছে তাদের পরিকল্পনাটা অন্যরকম। এই বিমানের ভিতরের খোলনোলচে পাল্টে তৈরি হবে রেস্তোরাঁ।
এটাই প্রথম নয়, এর আগেও হরিয়ানা ও উত্তর দিল্লিতে বিমানের ভিতরে রেস্তোরাঁ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দেশে আরও আটটি বিমান-রেস্তোরাঁ রয়েছে। বাতিল বিমানের মধ্যেই রয়েছে সেগুলি। সেখানে এয়ার হোস্টেসের সাজে সজ্জিত হয়ে অতিথি আপ্যায়ন করেন কর্মীরা। এমনকী, রোস্তোরাঁয় ঢুকতে হয় বোডিং পাস নিয়ে।
এই বিমানটিকে নিয়েও সেই পরিকল্পনা ছিল সংস্থার। কিন্তু পুলিশ বিমানটিকে আপাতত বাজেয়াপ্ত করেছে। ট্রেলার চালক জানান, আপাতত আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি পেতে চাইছেন তাঁরা। ওড়িয়ার পুলিশ ফাঁড়ির পক্ষ থেকে ট্রাফিকের ওসি মহম্মদ আলি জানিয়েছেন, মামলার নিষ্পত্তি হয়ে গেলেই, তাঁরা বিমানটিকে ছেড়ে দেবেন। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের দাবি, ভারী ট্রেলার নিয়ে যাওয়ার ফলে রাস্তার ক্ষতি হচ্ছে। ক্ষতিপূরণ দাবি করেই পরিবহন সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা করেছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। কবে মামলার নিষ্পত্তি হবে, আর কবেই বা রেস্তোরাঁয় বসে পেট পুরে খাওয়া যাবে, তা একমাত্র অন্তর্যামীই জানেন।