প্রতিবাদী ইরফান মেরেছেন না মার খেয়েছেন? ছবি কিন্তু অন্য কথা বলছে

ইতিহাস কংগ্রেসের মঞ্চে ইতিহাসবিদ ইরফান হাবিবের প্রতিবাদ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক। অভিযোগের কাঠগড়ায় হাবিব। কিন্তু ছবি বা ফুটেজ কী আদৌ সেই কথা বলছে! বাম শাসিত কেরলে এমন ঘটনার পর রাজ্য সরকারের নীরবতায় অন্য প্রশ্নও মাথা চাড়া দিয়েছে।

ঘটনাস্থল কেরলের কান্নুর। কান্নুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস কংগ্রেসে উদ্বোধনী ভাষণ দিচ্ছিলেন রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান। তিনি নাগরিকত্ব আইনের পক্ষে বলতে শুরু করেন। মৌলানা আজাদ প্রসঙ্গ তুললে সমস্যা শুরু হয়। মঞ্চে বসে ছিলেন হাবিব। তিনি প্রথম প্রতিবাদ করেন। দর্শকাসন থেকেও প্রতিবাদ ওঠে। অভিযোগ হাবিব নাকি রাজ্যপালকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মৌলানা আজাদ আপনাদের সম্বন্ধেই এই কথা বলেছিলেন। পরে রাজ্যপাল ট্যুইটার হ্যান্ডেলে অভিযোগ করেন, হাবিব তাঁর ভাষণে শুধু বাধাই দেননি, রাজ্যপালের এডিসি ও নিরাপত্তারক্ষীকে ধাক্কা মারেন। এবং হাবিব নাকি বলেছেন আপনাদের মুখে গডসের বক্তব্যই শোভা পায়।

কিন্তু অশীতিপর হাবিব ধাক্কা মেরেছেন, রাজ্যপালের এই অভিযোগে অনেকেই বিস্মিত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্টরা পাল্টা জানাচ্ছেন, রাজ্যপালের বিরোধিতা করা শুরু করতেই হাবিবকে কার্যত ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন নিরাপত্তারক্ষীরা। রাজ্যপালের ট্যুইটের ছবিও এই বক্তব্যকেই সমর্থন করছে। গেরুয়া শিবির অবশ্য হাবিব “গুণ্ডাগর্দি” করেছেন বলে প্রচার শুরু করেছে। মোবাইল ক্যামেরায় তোলা ছবিতে দেখা যচ্ছে ইতিহাস কংগ্রেসে উপস্থিত বিশিষ্টরা প্রতিবাদ করছেন। সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন নিরাপত্তারক্ষীরা। সব মিলিয়ে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়।

এই ঘটনায় ৫ জনকে আটক করা হয়। পরে ইতিহাস কংগ্রেসের সম্পাদক মহালক্ষ্মী রামকৃষ্ণণ মঞ্চ থেকেই বিক্ষোভকারীদের মুক্তির দাবি জানান। প্রশ্ন হলো, বাম শাসিত কেরলে কেন এমন পুলিশের অশোভনীয় সক্রিয়তা? অবাক বিদ্বজ্জনেরা।