একমঞ্চে বিমান-শোভন-বৈশাখী, নয়া সমীকরণের ইঙ্গিত?

আসন্ন পুরসভার নির্বাচনে যখন শোভন চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী করার জল্পনা বিজেপির অন্দরে, তখন একেবারে অন্য ছবি ধরা পড়ল আদ্যাপীঠে। সেখানে শনিবার একটি সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নিতান্তই সাদামাটা কম্বল বিতরণের অনুষ্ঠান। কিন্তু সেটাও রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল। কারণ, সেখানে একমঞ্চে দেখা গেল বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, বিজেপি নেতা শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আড়িয়াদহে আদ্যাপীঠে নর নারয়ণ সেবা ও দরিদ্রদের কম্বল দান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানেই মঞ্চে পাশাপাশি বসেন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ও শোভন চট্টোপাধ্যায়। এছাড়াও ছিলেন বিধাননগরের ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায়, প্রাক্তন বিচারপতি শ্যামল সেন ও আদ্যাপীঠের সভাপতি মুরাল ভাই ও কলেজের অধ্যাপক অধ্যাপিকারা। তবে বিমান-শোভনকে বাক্যবিনিময় করতে দেখা যায়নি।

শুধু তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেওয়াই নয়, এ দিন আরও এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে। যে কোন অনুষ্ঠানে পাশাপাশি দেখা যায় শোভন চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কিন্তু ।এদিনের অনুষ্ঠানে মঞ্চে ছিলেন শোভন। এবং প্রথমে বৈশাখী ছিলেন দর্শকাসনে। পরে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় সেটা লক্ষ্য করে তাঁকে মঞ্চে ডেকে নেন। শোভন চট্টোপাধ্যায়ের থেকে বেশ খানিকটা দূরে বসেছিলেন বৈশাখী।
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই রাজ্য নেতৃত্বর সঙ্গে তালমিল হচ্ছিল না, এমনটাই বিজেপি সূত্রে খবর। তারপরে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে জোড়ায় ভাইফোঁটা নিতে যাওয়া বা চলচ্চিত্র উৎসবের মতো অনুষ্ঠানে শোভন-বৈশাখীর উপস্থিতি তৃণমূলের সঙ্গে তাঁদের নৈকট্য বাড়ার জল্পনা উসকে দেয়। শুধু তাই নয়, অনেকে এও বলতে শুরু করেন, শোভনের তৃণমূলে ফিরে আসা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু হঠাৎ করে সেই উদ্যোগে খানিকটা ভাটা পড়ে। এমনকী এই নিয়ে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলে। তার মতে, শোভন আবার ফিরে আসুন সেটা শাসকদলের অনেকেই চান না। এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে মিল্লি আল আমিন কলেজের অধ্যক্ষের পদ থেকে বৈশাখীর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি শোভন চট্টোপাধ্যায় তৃণমূলে ফেরার সম্ভাবনায় জল পড়ে গেল? এর মাঝে জাতীয় রাজনীতিতে অনেক বড় ইস্যু তৈরি হয। কিছুটা অন্তরালে চলে যায় শোভন-বৈশাখী উপাখ্যান। এই পরিস্থিতিতে যখন পুরসভার ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে, তখন গেরুয়া শিবির শোভনকে প্রার্থী করতে চায় বলে খবর রাজনৈতিক মহলে। এই পরিস্থিতিতে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, তাপস চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে একমঞ্চে শোভনের উপস্থিতি কোন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে সেটা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।