ডি-লিমিটেশনের দাবি বিজেপি’র, আইনি জটে কলকাতার ভোট?

কলকাতা পুরসভার নির্বাচন কি আইনি জটে ফাঁসতে চলেছে ? যদি তেমন হয়, তাহলে কলকাতার পুরভোট পিছিয়ে যেতে পারে অনির্দিষ্টকাল৷

কলকাতা পুরসভায় আসন পুনর্বিন্যাস বা ডি-লিমিটেশনের দাবি তুলেছে বিজেপি। গেরুয়া-শিবিরের দাবি, কলকাতা পুরসভার 144টি ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যায় সমতা নেই। এই বৈষম্য উন্নয়নের পরিপন্থী। বিজেপি’র দাবি, আসন পুনর্বিন্যাস না করে কলকাতার পুরভোট করা যাবে না। রাজ্য নির্বাচন কমিশনার সৌরভ দাসের সঙ্গে দেখা করে এই দাবি জানিয়েও এসেছেন বঙ্গ-বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

বিজেপি’র তরফে কলকাতার কয়েকটি ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যার দিকে কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে৷ 2015 সালের পুর-ভোটার তালিকা সামনে রেখে ভোটার সংখ্যায় এই বৈষম্যের অভিযোগ আনা হয়েছে৷ উদাহরন হিসেবে কলকাতার একাধিক ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যায় দৃষ্টিকটু ফারাক তুলে বিজেপি নেতারা বলেছেন,
কলকাতার 58 নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা, 58,613 জন৷ 65 নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা, 57,660 জন৷ 67 নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা, 49,705 জন৷

আবার, কলকাতার 144 নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা, 9,457 জন৷ 87 নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা, 10,831 জন৷ 49 নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা, 11,233 জন৷ বিজেপির বক্তব্য, অদ্ভুত বৈপরীত্য চলছে৷ এমন আরও অসংখ্য ওয়ার্ড আছে৷ এই বৈষম্য সংশোধন না করে কলকাতার পুরভোট করা যাবেনা৷ পুরভোট এক ধরনের বৈষম্যের মধ্যে করানোর চেষ্টা চলছে৷

সূত্রের খবর, বিজেপি নেতারা রাজ্য নির্বাচন কমিশনার সৌরভ দাসকে বলেছেন, একই পুরসভা, একই মেয়র, একই পরিষেবা, একই অর্থ বরাদ্দ ! এক ওয়ার্ডে তা পাচ্ছেন 58,613 জন নাগরিক, আর এক ওয়ার্ডে তা পাচ্ছেন মাত্র 9,457 জন নাগরিক ! কোনও সমতা আছে কি? একজন 58 হাজার মানুষের প্রতিনিধি, আর একজন 9 হাজার মানুষের ৷ অথচ দু’জনেই একই পুরসভার কাউন্সিলর৷ বিজেপির প্রশ্ন, কেন এই বৈষম্য বছরের পর বছর থাকবে ? কমিশনের উচিত ছিলো, ভৌগোলিক এলাকা ও জনসংখ্যার নিরিখে ওয়ার্ডগুলির সীমানা পুনর্নির্ধারন করা৷ “ডি-লিমিটেশন” নাহলে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সমতা বজায় থাকছে না৷

কমিশন সরকারি ভাবে এ নিয়ে এখনও মুখ খোলেনি। বিজেপির দাবি, কমিশন প্রস্তাব বিবেচনায় কিছু দিন সময় চেয়েছে। ডি-লিমিটেশনের দাবি মানা না-হলে আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপি অন্দরের খবর, ডি-লিমিটেশনের দাবি কমিশন খারিজ করলে বিজেপি আদালতে দ্বারস্থ হবে৷ রাজ্য নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়, সব্যসাচী দত্ত৷ বিজেপির দাবি, কলকাতার অন্তত 45টি ওয়ার্ডে ভোটার- সংখ্যা 50 হাজারের কাছাকাছি। অন্য দিকে, 30-35টি এমন ওয়ার্ড রয়েছে, যেখানে ভোটার-সংখ্যা 10-12 হাজারের কম। ভোটার সংখ্যায় এই বিপুল তারতম্য উন্নয়নে বড় বাধা। উন্নয়ন-খাতে সব ওয়ার্ডের জন্যই সমান অর্থ বরাদ্দ হয়। মুকুল রায় বলেছেন, শুধু কলকাতা নয়, হাওড়াতেও এই সমস্যা আছে। সেখানেও আসন পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন।’

গেরুয়া-সূত্রে জানা গিয়েছে,আসন পুনর্বিন্যাস বা ডি-লিমিটেশনের দাবিতে লড়াই এবং একইসঙ্গে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়াই দলের গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। ভোটে জিতে কলকাতা পুরসভা দখল করার বিষয়ে এখনও বিজেপি ততখানি আশাবাদী নয়৷ বিজেপি নেতারাও এমনই মনে করছেন।
বিজেপির এই “কৌশল” সম্পর্কে মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেছেন, “আসন পুনর্বিন্যাসই যদি বিজেপির উদ্দেশ্য হত, তবে আরও আগেই এই দাবি তুলতে পারতো। আসলে ওদের মতলব কলকাতা পুরভোট বানচাল করা।