Thursday, April 9, 2026

বিজেপির দিল্লি-রেকর্ড খুব খারাপ,কণাদ দাশগুপ্তের কলম

Date:

Share post:

কণাদ দাশগুপ্ত

দেশের রাজধানী দিল্লি৷

সেই ২০১৪ থেকে এখানেই ঘাঁটি গেড়েছেন দেশের নানা প্রান্ত থেকে জিতে আসা বিজেপি’র রথী-মহারথী নেতারা৷ মোদিজি, শাহজি তো আছেনই৷

মোদিজি ক্ষমতায় আসার পরের বছর, ২০১৫ সালে, দিল্লি বিধানসভার ভোট হয়েছিলো৷ তখনও ‘হনিমুন-পিরিয়ড’ কাটেনি৷ বিজেপি’র গায়ে তখনও নতুন বৌ-এর গন্ধ৷ সেবার মোদিজির একাধিক সভা সত্ত্বেও ৭০ আসনের দিল্লি বিধানসভায় বিজেপি পায় মাত্র ৩টি আসন৷ বাকি ৬৭ আসনই চলে যায় আম আদমি পার্টির দখলে৷ বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী প্রাক্তন আইপিএস কিরন বেদি এমন এক কেন্দ্রে আম আদমি প্রার্থীর কাছে ২৪০০ ভোটে পরাজিত হন, যে কেন্দ্রে বিজেপি নেতা হর্ষ বর্ধন পর পর ৫ বার জয়ী হয়েছিলেন৷ সেটাই ছিলো দিল্লির মসনদে আসার পর বিজেপির টাটকা প্রাপ্তি৷

দিল্লিতে কোনওদিনই বিজেপির রেকর্ড ভালো নয়৷ এই উপ-রাজ্যে বিজেপি-রাজ ছিল ২২ বছর আগে৷ তারপর থেকে বিজেপি কিছুতেই আর ক্ষমতার কাছাকাছি আসতে পারছে না৷ ইতিহাস বলছে, ১৯৫২ সালে দিল্লিতে বিধানসভা চালু হওয়ার পর কখনই বিজেপি টানা ৫ বছর শাসনক্ষমতায় টিঁকে থাকতে পারেনি৷ ১৯৫২ থেকে এ পর্যন্ত দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন ৭ জন৷ প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন কংগ্রেসের চৌধুরি ব্রহ্মপ্রকাশ,দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রীও কংগ্রেসের, গুরমুখ নিহাল সিং৷ এরপর ১৯৫৬ থেকে ১৯৯৩ পর্যন্ত বিলোপ ঘটানো হয় বিধানসভার৷ ১৯৯৩ সালে দিল্লি বিধানসভার নির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রী হন বিজেপির মদনলাল খুরানা৷ পদে ছিলেন ২ বছর ৮৬ দিন৷ ১৯৯৬-তে মুখ্যমন্ত্রী হন বিজেপিরই সাহিব সিং বর্মা ৷ তিনি এই পদে থাকতে পেরেছেন ২ বছর ২২৮ দিন৷ দিল্লির পঞ্চম এবং প্রথম মহিলা-মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ১৯৯৮ সালের ১২ অক্টোবরে দায়িত্ব নেন বিজেপি নেত্রী সুষমা স্বরাজ৷ তাঁর কার্যকালের মেয়াদ ছিল মাত্র ৫২ দিন৷ সুষমা স্বরাজই দিল্লিতে বিজেপির আপাতত শেষ মুখ্যমন্ত্রী৷ সুষমা-বিদায়ের সঙ্গেই দিল্লিতে বিজেপি-রাজ খতম হয় ১৯৯৮ সালের ৩ ডিসেম্বর৷ সুষমা স্বরাজের পর ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা ১৫ বছর মুখ্যমন্ত্রী পদে ছিলেন কংগ্রেসের শীলা দীক্ষিত৷ আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী পদে ছিলেন মাত্র ৪৯ দিন, ২০১৩-র ডিসেম্বরের শেষভাগ থেকে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি’র শুরু পর্যন্ত৷ ২০১৫-র নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফেরেন সেই কেজরিওয়াল৷ তখন থেকে দিল্লিতে টানা আপ-জমানা৷

সুতরাং দিল্লির এবারের নির্বাচন তাই বিজেপির কাছে অতীব গুরুত্বপূর্ন৷ এবারও দিল্লি হাতছাড়া হলে গোটা দেশেই বিজেপির ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠবে৷ এমনিতেই তো দখলে থাকা একের পর এক রাজ্য বিজেপির হাতছাড়া হচ্ছে৷ তার উপর এবারও যদি দেশের রাজধানী বিজেপির অধরা থাকে, তাহলে মোদি-শাহের বিশ্বাসযোগ্যতা বলতে কিছুই অবশিষ্ট থাকবেনা৷ ২০১৫ সালের দিল্লির ভোটে নরেন্দ্র মোদি দেশের প্রধানমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও দলকে সাফল্য এনে দিতে পারেননি৷ দীর্ঘ ২২ বছর পর তাই মোদি-শাহ জুটি এবার ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া ৷

টিম মোদি-শাহ দিল্লিতে কার্যত বিশ্বযুদ্ধ বাঁধালেও আপাতত প্রকাশিত একটি ওপিনিয়ন-পোলও বলেনি যে এবার দিল্লিতে গেরুয়া-পতাকা উড়বে৷ তাই যদি হয় তাহলে ব্যর্থ হবে বিজেপির ২২ বছরের অপেক্ষা৷

এবং একইসঙ্গে আরও একবার সামনে আসবে নরেন্দ্র মোদি’র বিশ্বাসযোগ্যতার বিষয়টি৷

Related articles

ভোটমুখী বঙ্গে আজ খড়্গপুরে নির্বাচনী পর্যালোচনা বৈঠক করবেন অভিষেক

বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা এবং তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই জোরকদমে প্রচারে নেমে পড়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek...

সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন ইজরায়েলের, ফের হরমুজ বন্ধ করল ইরান 

পশ্চিম এশিয়ার আকাশে ফের অশান্তির কালো মেঘ। সংঘর্ষবিরতির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফের লেবাননে হামলা(Attack on Lebanon)। শক্তিশালী বিস্ফোরণে...

বৃহস্পতির সকাল থেকে অসম-কেরল-পুদুচেরিতে চলছে ভোটগ্রহণ, নজরে তিন রাজ্যের উপনির্বাচনও 

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য অসম (Assam Election) এবং দক্ষিণ ভারতের কেরলের (Kerala Election) পাশাপাশি বৃহস্পতিবার কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে (Puducherry assembly...

নির্বাচনী প্রচারে আজ ৪ জনসভা মমতার, দুপুরে পদযাত্রা বরানগর কেন্দ্রে

বাংলার বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election) যতই এগিয়ে আসছে ততই প্রচারের ঝাঁঝ বাড়াচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বুধবার নিজের...