Wednesday, March 18, 2026

‘সাচ্চা মুসলিম’ দারা শিকোহ’র কবর খুঁজছে মোদি সরকার, গড়া হয়েছে কমিটি

Date:

Share post:

“দেশের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ” একটি কাজ হাতে নিয়েছে নরেন্দ্র মোদির সরকার৷

মোঘল-সম্রাট ঔরঙ্গজেবের ভাই দারা শিকোহ কতখানি ‘সাচ্চা মুসলমান’ ছিলেন, তা প্রমাণে মরিয়া হয়ে নেমেছে মোদি সরকার!

এজন্য কেন্দ্র এখন ঝাঁপিয়েছে ঔরঙ্গজেবের ভাই এবং শাহজাহানের পুত্র দারা শিকোহর কবর খুঁজে বের করার কাজে!

গোটা দেশে লাখো সমস্যা থাকলেও, সব ছেড়ে কারো কবর খুঁজে বের করার কাজে মোদিজি নামলেন কেন ?

কারন একটাই, সেই হিন্দুত্ববাদ৷ এই দারা শিকোহ ভগবত গীতার ফারসি অনুবাদ করেছিলেন। তিনি উপনিষদেরও অনুবাদ করেছিলেন। তাই মোদি সরকারের নয়া উদ্যোগ, দারা শিকোহর কবর খুঁজে বের করে তাঁর জীবনধারা ও কর্ম তুলে ধরে ওই দারাকে হিন্দুস্তানের ‘সাচ্চা মুসলমান’ প্রমাণ করা। প্রমান করা, দারা শিকোহ ছিলেন এমন এক মুসলমান, যিনি ভারতীয় সংস্কৃতি ও হিন্দু ধর্মগ্রন্থে ভীষণ ভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন।

হুমায়ূনের কবরের পাশেই মোঘল শাসকদের প্রথম কবরস্থান। এখানে ১৪০টি কবর রয়েছে৷ এর মধ্যে কোনটি দারা শিকোহর তা খুঁজে বের করা এক কথায় অসম্ভব। সেই অসম্ভব কাজ সম্ভব করতে মোদি- সরকার ৭ সদস্যের এক কমিটি গড়েছে। এই কমিটি তিন মাসের মধ্যে দারা শিকোহর কবর অনুসন্ধান করবে। যদিও কাজটা মোটেই এত সহজ নয়। এখানে এমন কবরের সংখ্যাই বেশি যেখানে কোনও নাম লেখা নেই।

শাহজাহান-নামাতে লেখা আছে, ঔরঙ্গজেবের কাছে হেরে যাওয়ার পরে দারা শিকোহর মাথা কেটে আগ্রায় পাঠানো হয়। দেহের বাকি অংশটা হুমায়ূনের কবরের আশেপাশেই কোথাও কবর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখানে বেশিরভাগ কবরেই কোনও পরিচিতি লেখা নেই। এই সমস্ত কবর মোঘল শাসকদের আত্মীয়স্বজনের। এর মধ্যে কোনটি দারা শিকোহর তা অনুসন্ধান করা সহজ নয়।

পদ্মশ্রী-প্রাপ্ত পুরাতত্ত্ববিদ কে কে মহম্মদ বলেছেন, “দারা শিকোহর কবরের সন্ধান করা বেশ মুশকিল। ১৬৫২ সালের কাছাকাছি এক স্থাপত্যশৈলীর ভিত্তিতে একটি ছোট কবর চিহ্নিত হয়েছে। কিন্তু কবরের গায়ে কিছুই লেখা নেই৷ তাই এটাই সেই কবর কিনা বলা মুশকিল”।

দারা শিকোহর কবর অনুসন্ধানের জন্য দল গঠন করা হয়েছে, সেখানে রয়েছেন ডাঃ আরএস ভট্ট, কে. কে মহাম্মদ, ডাঃ বিআর মণি, ডাঃ কেএন দত্ত, ডাঃ বি.এম. পান্ডে, ডাঃ জামাল হাসান এবং অশ্বিনী আগরওয়াল।
কেন্দ্রীয় পর্যটন কেন্দ্র প্রহ্লাদ প্যাটেল নিজে হুমায়ূনের কবর খোঁজার দায়িত্বে৷ তিনি একাধিকবার পরিদর্শনও করেছেন চিহ্নিত স্থান৷

১৬৫৯ সালের ৩০ আগস্ট দারা শিকোহর মৃত্যু হয়। শাহজাহান নিজের ৪ পুত্রের মধ্যে দারা শিকোহ-কেই খুব পছন্দ করতেন। দারা শিকোহ নাকি উদার মনের মানুষ ছিলেন বলে শোনা যায়। শাহজাহানের মৃত্যুর পরে চার ভাইয়ের মধ্যে সিংহাসনের লড়াই শুরু হয়। দারার কাছে ঔরঙ্গজেবের থেকেও বড় সেনাদল ছিল, কিন্তু দারা শিকোহর রণনীতি বেশ দুর্বল থাকায় এবং নিজের লোকজনের বিশ্বাসঘাতকতায় দারা হেরে যান এবং ঔরঙ্গজেব জিতে যান। দারাকে তার পুত্রদের সঙ্গেই বন্দি করা হয়। কিছু দিন পরে ঔরঙ্গজেবের এক সেনাপতি দারা শিকোহর গর্দান ধড় থেকে পৃথক করে তা আগ্রাতে ঔরঙ্গজেবের কাছে নিয়ে গিয়ে পুরস্কৃত হন৷

আরও পড়ুন-নারকীয় আক্রমণ পুলিশের, ফের জামিয়ার ভিডিও নিয়ে তুলকালাম

spot_img

Related articles

ভোটের আসরে সন্তান-স্ত্রী-ভাই: শহর থেকে জেলায় তৃণমূল প্রার্থী পরিবারের সদস্যরা

রাজনীতিতে পরিবারবাদ কোনও নতুন তত্ত্ব নয়। বিধানসভা কেন্দ্র তো বটেই, অন্য কেন্দ্র দখল করতেও অনেক সময় একই পরিবারের...

ক্রমশ পিছোচ্ছে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ! যাচাই শেষ ২১ লক্ষ

পূর্ণাঙ্গ তালিকা বলে যে ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন, প্রায় তত সংখ্যক রাজ্যের মানুষ এখনও বিচারাধীন।...

তালিকা প্রকাশ হতেই রাজ্যজুড়ে শুরু দেওয়াল লিখন, মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্র থেকে জেলায় প্রচারে তৃণমূল

প্রার্থীতালিকা ঘোষণার পরেই ঘাসফুল শিবিরের উৎসাহ এখন তুঙ্গে। প্রার্থী হতে পারেন এমন আঁচ পেয়ে অনেক জায়গায় আগেই দেওয়াল...

হুকো সাজানোর জন্য লোক নিয়োগ! ধোনির অজানা কীর্তি ফাঁস সিএসকে সতীর্থের

মহেন্দ্র সিং ধোনির (MS Dhoni) হুকো প্রীতি অনেকেরই জানা। ভারতীয় ক্রিকেটে হুঁকোপ্রীতির জন্য ধোনি কিন্তু বেশ পরিচিত। এই...