ফ্ল্যাট খালি না করায় ধর্ষণের হুমকি ভুবনেশ্বরের এক চিকিৎসককে

লজ্জা এবং লজ্জা৷

সরকারি ফতোয়া বা মানবিক আবেদন, কোনও কিছুকেই এরা পরোয়া করেন না৷ এই ভয়ঙ্কর সংকটকালেও এ ধরনের মানুষের মানসিকতার কোনও বদল হয়নি৷

ফ্ল্যাট খালি করার জন্য হুমকি দেওয়া শুরু হয়েছিলো দিন সাতেক আগেই৷ ফ্ল্যাট না ছাড়ায় এবার ধর্ষণের হুমকি শুনতে হলো ভুবনেশ্বরের এইমস হাসপাতালে কর্মরত এক জুনিয়র চিকিৎসককে৷ অভিযোগ উঠল এক হাউসিং সোসাইটির কর্তা ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ওই চিকিৎসকের থেকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্কেই এই কাজ বলে জানিয়েছে পুলিশ। চিকিৎসকের অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

পুলিশে করা অভিযোগে ওই মহিলা চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাঁকে গত ১ সপ্তাহ ধরে ফ্ল্যাট খালি করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। তিনি বলেছেন, ‘‘খণ্ডগিরি এলাকায় আমরা বেশ কয়েক বছর ধরে বসবাস করছি। কিন্তু সেই কর্তা ব্যক্তি, তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলে ফ্ল্যাট খালি করার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। সারা দেশ যখন এই পেশাকে পরিত্রাণ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছে, তখন ওঁরা আমাকে বলছেন, আমার জন্য নাকি সোসাইটিতে করোনাভাইরাস ছড়াবে। রবিবার ধর্ষণের হুমকি পাওয়ার পর আমি পুলিশের দ্বারস্থ হই।’’

তিনি যে এই মুহুর্তে করোনাভাইরাস রোগীর চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত নন, সে কথাও জানিয়েছেন পুলিশকে। সোসাইটির অন্য পরিবারও একই হুমকি দিচ্ছে৷ তাঁদের কোনও সাহায্য করছে না, সে কথাও পুলিশকে জানিয়েছেন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, এই বিষয় নিয়ে হাউসিং সোসাইটির তরফে এই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কর্তা ব্যক্তিকে হেনস্থার অভিযোগ এনে ওই চিকিৎসকের পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে সোসাইটির পক্ষ থেকে। যদিও এ বিষয়ে সোসাইটির তরফে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অ্যাডিশনাল কমিশনার অব পুলিশ অনুপকুমার সাহু এ বিষয়ে বলেছেন, ‘‘সোসাইটির কর্তা ব্যক্তির বিরুদ্ধে আমরা মামলা দায়ের করেছি। অভিযোগ তদন্ত করে দেখছি।’’