Friday, May 22, 2026

নিজেদের গৃহবন্দি রেখেই সারা দেশ জুড়ে পালন করা হচ্ছে অক্ষয় তৃতীয়া

Date:

Share post:

লকডাউনের জেরে শুনশান অক্ষয় তৃতীয়ার অনুষ্ঠান । নিজেদের গৃহবন্দি রেখেই সারা দেশ জুড়ে পালন করা হচ্ছে এই অনুষ্ঠান।
আসলে অক্ষয় তৃতীয়া লোকবিশ্বাসের সর্বভারতীয় চরিত্রের একটি চমৎ‌কার নিদর্শন। ভারতের বহু প্রদেশে পালিত এই উত্‌সব হিন্দি বলয়ে আখা তীজ নামে অভিহিত।
ভারত জুড়ে বৈশাখের শুক্লপক্ষের তৃতীয় দিনে অক্ষয় তৃতীয়া পালন করা হয়।
একশো বছরেরও বেশি আগে ব্রিটিশ পর্যবেক্ষকরা লক্ষ্য করেছিলেন, ‘ভারত জুড়ে বৈশাখের শুক্লপক্ষের তৃতীয় দিনে অক্ষয় তৃতীয়া পালন করা হয়। মানুষের বিশ্বাস, এই দিন স্নান করে ব্রাহ্মণকে পাখা, ছাতা এবং অর্থ দান করলে অক্ষয় পুণ্য অর্জিত হয়। ফলে এই তিথি উদযাপন অত্যন্ত জনপ্রিয়।’ জৈনরাও এই তিথি পালন করেন।
পৃথিবীতে অনেক ধর্মেই পবিত্র ক্ষণ বা পুণ্যাহের ধারণা প্রচলিত। কিন্তু হিন্দুরা শুভমুহূর্তের ধারণাকে যতটা গুরুত্ব দেয় এবং সেই ক্ষণ নির্ধারণের জন্য যতটা কাঠখড় পুড়িয়ে থাকে, অন্য কেউ তার ধারে কাছে পৌঁছতে পারবে না।
পুরোহিততন্ত্র এক অতি জটিল এবং সুবিস্তীর্ণ কাঠামোয় ধর্মবিশ্বাসীদের বেঁধে রেখেছে। এই সব রীতি ও আচার সেই বেঁধে রাখার কাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। একটা বিশেষ রীতি হল পঞ্চাঙ্গ বা পঞ্জিকা দেখে চলা। সৌর এবং চান্দ্র গণনার মিশ্রণে জ্যোতির্বিজ্ঞান, জ্যোতিষ এবং নানা ধর্মীয় বিধানের সমাহারে পঞ্জিকা একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন মতের পঞ্জিকা আছে, তাদের মধ্যে হিসেবের তারতম্য আছে, কিন্তু উত্‌সবের কাল নির্ধারণে এবং শুভ বা অশুভ ক্ষণ গণনায় সব পঞ্জিকার হিসেবই মোটামুটি মিলে যায়।
অক্ষয় তৃতীয়া লোকবিশ্বাসের সর্বভারতীয় চরিত্রের একটি চমৎকার নিদর্শন। এবং এই তিথি হল হিন্দুদের সাড়ে তিনটি সর্বাধিক শুভমুহূর্তের অন্যতম। অন্য দুটি হল পয়লা চৈত্র এবং বিজয়া দশমী, আর কার্তিকের শুক্লপক্ষের প্রথম দিনটি হচ্ছে আধখানা তিথি। কথিত আছে, এই তিথিতেই ব্যাসমুনি গণেশকে মহাভারত বলতে শুরু করেছিলেন; এই দিনেই কৃষ্ণ দ্রৌপদীকে বস্ত্রহরণের অমর্যাদা থেকে রক্ষা করেছিলেন; এই দিনেই সূর্যদেব পাণ্ডবদের ‘অক্ষয়পাত্র’ দান করেছিলেন, যে পাত্রের খাবার কখনও ফুরোবে না। আরও নানা উপকথা এই দিনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
অনেকের মতে এই দিন ত্রেতাযুগ শুরু হয়েছিল, আবার অনেকে বলেন সত্যযুগ। আবার, এই তিথিতেই নাকি গঙ্গার মর্তে অবতরণ ঘটেছিল।
অন্যদিকে, কৃষ্ণ এই দিনেই পরশুরাম রূপে জন্ম নিয়েছিলেন এবং সমুদ্রের বুক থেকে জমি উদ্ধার করেছিলেন, কয়েক শতাব্দী পরে ওলন্দাজারা যেমনটা করেন । কোঙ্কণ ও মালাবার উপকূলে অক্ষয় তৃতীয়ায় পরশুরাম এখনও পূজিত হন। বাংলায় পরশুরামের কোনও ভক্ত নেই, বোধহয় এই কারণে যে, এখানে সমস্যাটা উল্টো। নদীতে পলি এবং মাটি জমে চর জেগে উঠছে, এখানে বরং পরশুরাম তাঁর কুঠার চালিয়ে পবিত্র ভাগীরথীর বুকে জমা পলি নিকেশ করতে পারতেন।
বছরের এই সময়টাতে গ্রীষ্মের তাপ বাড়তে শুরু করে, মাটি শুকিয়ে ওঠে। ওড়িশা থেকে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে কৃষকরা এই দিন জমিতে লাঙল দেওয়া শুরু করেন। উত্তর-পশ্চিম ভারতে প্রবীণ জাঠ কৃষিজীবীরা চাষের সরঞ্জাম নিয়ে শস্যক্ষেত্রে যান, যাওয়ার পথে পশুপাখি চোখে পড়লে তাকে সুলক্ষণ বলে গণ্য করেন। গুজরাতেও কৃষকরা এই দিন লাঙল তুলে নেন এবং পরশুরামকে স্মরণ করেন। দক্ষিণ ভারতে এই দিন চাষ শুরু করার ঐতিহ্য নেই বটে, কিন্তু সেখানেও পাঁজিতে এটি শুভতিথি হিসেবে চিহ্নিত। সৌভাগ্যের দেবতাদের প্রসন্ন করার উদ্দেশ্যে অনেকেই এ দিন উপবাস করেন।
কৃষিতে হোক অথবা বাণিজ্যে, অক্ষয় তৃতীয়ায় সমৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হয় এবং তা থেকেই বোঝা যায়, হিন্দু জীবনাদর্শে জাগতিক বিষয়কে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই দিন দেবী অন্নপূর্ণার জন্মদিন, ধনসম্পদের দেবতা কুবেরের আরাধনাও এ তিথির সঙ্গে জড়িত।
শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে ব্যবসার জন্য শুভ দিন হিসেবে মনে করা হয়। এই দিনে তাই পয়লা বৈশাখের মত হালখাতার পুজো করা হয়।
অক্ষয় তৃতীয়ার এই লগ্নে দান করলে অক্ষয় পুণ্য লাভ হয়।
এ দিন যব, গম, ছোলা, দই, চাল, ফলের রস, দুধের তৈরি মিষ্টি, স্বর্ণ ও জল ভরা কলস, শস্য ইত্যাদি দান করা শুভ।
গ্রীষ্মের সময়, এমন পরিস্থিতিতে ছাতা এবং পাদুকাগুলির অনুদানও দেওয়াও শুভ।
অক্ষয়  তৃতীয়া তিথিতে পূর্ব পুরুষদের উদ্দেশ্যে বিশেষ প্রার্থনা করা উচিত।
অক্ষয় তৃতীয়া হল চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লাতৃতীয়া অর্থাৎ শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথি।
হিন্দু ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ তিথি।
এই দিনে ব্রত পালন করলে সকল সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।
এই দিন ব্রত পালনের ফলে সকল মনের আশা পূর্ণ হয়।

Related articles

সরকারি বাসে বিনামূল্যে সফরে জরুরি ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড! আবেদন করবেন কীভাবে

বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election) আগেই বিজেপি (BJP) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ক্ষমতায় এলে মহিলাদের সরকারি বাসে (Government Bus) যাতায়াত ফ্রি...

দোকানে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী! খুনের হুমকি ঝাড়গ্রামের বিক্রেতাকে, মিলল নিরাপত্তা

ঝাড়গ্রামে বিধানসভা নির্বাচনে ঝালমুড়ি খেয়ে ভাইরাল হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। এবার সেই ঝালমুড়ি দোকানদারকেই দেওয়া...

ইতিহাসে নজিরবিহীন: ক্লাব রুমে কলকাতা পুরসভার মাসিক অধিবেশন, মুলতবি প্রস্তাব পেশ

কলকাতা পুরসভার (KMC) ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা! কলকাতা পুরসভার অধিবেশন কক্ষে তালা। ভিতরে ঢুকতে পেরে ক্লাব রুমে পুরসভার মাসিক...

গ্রেফতারির আশঙ্কায় রক্ষাকবচের আর্জি, হাইকোর্টে বিষ্ণুপুরের দিলীপ

রাজ্যে পালাবদল হতেই একের পর এক তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতারির আশঙ্কা বাড়ছে। এবার রক্ষাকবচের আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ...