১৬ বছর ধরে অনাদরে পড়েছিল এই নাম!

চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায়

 

চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায়

কেন “A”?

১৬ বছর ধরে অনাদরে পড়ে থাকা নাম পেয়েই কী অভিমানে ভয়ঙ্কর আমফান? সাধারণভাবে ক্রান্তীয় অঞ্চলে বছরের প্রথম ঝড় বা ঘূর্ণিঝড়ের নাম ইংরেজির “A” অক্ষর দিয়ে শুরু হয়, পরেরটা “B” দিয়ে…এভাবেই চলে।

কবে শুরু নামকরণ?

ভারত মহাসাগরে সাইক্লোনের নাম দেওয়া শুরু টুকে বা ২০০০ সাল থেকে। তখন ভারতের সঙ্গে এই যাত্রায় হাত মেলায় থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, ওমান, মায়ানমার, মালদ্বীপ, বাংলাদেশ। চার বছর পর ২০০৪ সালে এসে দেশগুলি একটা ফর্মুলা তৈরি করে। কী সেই ফর্মুলা? ঠিক হয় প্রত্যেক দেশ ঝড়ের নামকরণ করবে এক একবার। সেই প্রথাই টানা চলতে থাকে। ২০১৮ সালে ক্রান্তীয় দেশগুলির সঙ্গে হাত মেলায় ইয়েমেন, আরব আমির শাহী, সৌদি আরব, ইরান আর কাতার।

কাদের দেওয়া নাম?

শেষ সাইক্লোন ছিল “ফণি”, নাম দিয়েছিল বাংলাদেশ। ভারতের দেওয়া ঝড়ের নাম হলো… অগ্নি, আকাশ, বিজলি, জাল, লেহর মাঘ, সাগর ও বায়ু। আমফান-এর নাম দিয়েছে থাইল্যান্ড। ২০০৪ সালেই এই নামটির প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু তখন তা ব্যবহার করা হয়নি।

নাম দেয় কারা?

নামকরণ করে মূলত যে কোনও দেশের ট্রপিক্যাল সাইক্লোন ওয়ার্নিং সেন্টার এবং রিজিওনাল স্পেশালাইজড মেট্রোলজিক্যাল সেন্টার। পৃথিবীতে সব মিলিয়ে ৫টি ট্রপিক্যাল সাইক্লোন ওয়ার্নিং সেন্টার এবং ৬টি রিজিওনাল স্পেশালাইজড মেট্রোলজিক্যাল সেন্টারস রয়েছে, যার মধ্যে ইন্ডিয়ান মেট্রোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্টও (আইএমডি) রয়েছে। আইএমডি মূলত আরব সাগর, ভারত মহাসাগরের ঝড়ের নামকরণ করে। নামকরণে প্রত্যেক দেশের উপদেষ্টারাও থাকেন।

এ বছরের তালিকা তৈরি?

গত এপ্রিল মাসে আইএমডি ১৬৯টি ঝড়ের নাম তাদের তালিকায় নথিভুক্ত করে। নামের প্রস্তাবক সহযোগী সব ক’টি দেশ। ১৩টি দেশ প্রত্যেকে ১৩টি করে নামের তালিকা পাঠায়। নতুন তালিকায় আমফান-এর নাম ছিল। এই নামটি এর আগে ব্যবহৃত হয়নি। তাই সেটাকেই বেছে নিতে অসুবিধা হয়নি।

কী দরকার নামকরণের?

অনেকে বলেন, নামের কী প্রয়োজন? কিন্তু আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এই নাম থাকার কারণে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি এবং ঝড় নিয়ে আগাম সতর্কতা জারিতে সুবিধা হচ্ছে। তাছাড়া একসঙ্গে যদি অনেকগুলি ঝড় একই সময়ে হামলা চালায়, সেক্ষেত্রে নাম দিয়ে পরিচয় থাকলে একটি ঝড়ের সঙ্গে অন্য ঝড়ের পার্থক্য করা যায় সহজেই।

◾থাইল্যান্ডের দেওয়া নাম এই ‘আমফান’৷

◾থাইল্যান্ডে ‘আমফান’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ দৃঢ়তা, স্বাধীন চিত্ত, শক্তি, ইত্যাদি।

◾আগে ঝড়ের নাম রাখা হতো নম্বর বা পরিভাষা-য়৷

◾নম্বর বা পরিভাষার
ব্যবহার করার বদলে সাইক্লোনের ‘নাম’ রাখলে শুধু যে জনসাধারণ সহজে মনে রাখতে পারে তাই নয়, সাহায্য হয় বিজ্ঞানী, মিডিয়া, বিপর্যয় মোকাবিলা দল প্রভৃতিরও। সে কারনেই ঝড়ের নাম দেওয়া শুরু হয়৷

◾সাইক্লোনের নামকরণের ক্ষেত্রে এই নিয়মগুলি মেনে চলতে হয়:

•• প্রস্তাবিত নামগুলি রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি, ধর্মীয় ভাবনা, বিশেষ সংস্কৃতি, অথবা লিঙ্গ নিরপেক্ষ হবে৷

•• এমনভাবে নাম বাছতে হবে যাতে পৃথিবীর কোনও জনগোষ্ঠী বা সমষ্টির ভাবনায় আঘাত না লাগে৷

•• নামের মধ্যে রুক্ষতা বা নির্মমতা প্রকাশ পেলে চলবে না৷

•• নাম হবে সংক্ষিপ্ত, সহজে উচ্চারণ করা যায় এমন, এবং সকল সদস্য দেশের কাছে গ্রহণযোগ্য৷

•• নামের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য আট অক্ষরের বেশি হবে না৷

•• প্রস্তাবিত নামের সঙ্গে উচ্চারণ নির্দেশিকা এবং ভয়েস ওভার দিতে হবে৷

•• ভারত মহাসাগর অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের নামের পুনরাবৃত্তি হবে না।

•• একবার ব্যবহার করলে আর ব্যবহার করা যাবে না৷

◾ভারত যে ১৩টি নাম পাঠিয়েছে, সেগুলি হলো: গতি, তেজ, মুরাসু, আগ, ব্যোম, ঝড়, প্রবাহ, নীর, প্রভঞ্জন, ঘূর্ণি, অম্বুদ, জলধি, এবং বেগ।
এর মধ্যে কিছু নামের সুপারিশ এসেছে আমজনতার কাছ থেকেও।

◾আমফানের পরে প্রথম ঘূর্ণিঝড়টির নাম হবে বাংলাদেশের দেওয়া ‘নিসর্গ’।

◾তার পরে আসবে ভারতের দেওয়া নাম ‘গতি’।