Saturday, June 6, 2026

তালিকাই নেই, রাজ্যের হকারদের কেন্দ্রীয় প্রকল্পে ব্যাঙ্ক ঋণ পাওয়া অনিশ্চিত

Date:

Share post:

‘পরিযায়ী শ্রমিকদের রোজগার যোজনা’ থেকে আগেই বাদ গিয়েছে বাংলা৷ অভিযোগ উঠেছে, এবার নাকি ‘কেন্দ্রীয় হকার ঋণ প্রকল্প’ থেকেও ছেঁটে ফেলা হয়েছে এই রাজ্যকে৷

মহামারির মোকাবিলায় লাগু করা লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত হকারদের নতুন করে ব্যবসা শুরু করার জন্য ‘প্রধানমন্ত্রী স্ট্রিট ভেন্ডর আত্মনির্ভর নিধি’ নামে এক নতুন প্রকল্প চালু করেছে কেন্দ্র। এই প্রকল্পে নাম লেখানো হকাররা সামান্য সুদে ১০ হাজার করে টাকার ব্যাঙ্ক ঋণ পাবেন। দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্য এই প্রকল্পের মাধ্যমে হকারদের ঋণদান ইতিমধ্যে শুরুও করে দিয়েছে। কিন্তু তথাকথিত নিয়মের ফাঁসে বাংলার হকাররা এই প্রকল্পে ব্যাঙ্কে আবেদন করারও সুযোগ পাচ্ছেন না। সূত্রের খবর, এই প্রকল্পে ব্যাঙ্ক ঋণ পেতে কেন্দ্র বেশ কিছু শর্ত রেখেছে৷ পূরণ করতে হবে এসব শর্ত৷ আবেদন করতে ইচ্ছুক হকারদের সরকারি পরিচয়পত্র থাকতে হবে৷ অথবা সরকারি তালিকায় তাদের নাম থাকতে হবে। কিন্তু এ রাজ্যে এখনও হকারদের পূর্ণাঙ্গ তালিকাই নেই। বৈধ পরিচয়পত্রও নেই। তাই এখানকার হকাররা ঋণের জন্য ব্যাঙ্কে আবেদনই করতে পারছেন না।
বাংলার হকাররা যাতে এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন, সে জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছে ন্যাশনাল হকার ফেডারেশন। একান্তই এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঋণ না পেলে বিকল্প হিসেবে রাজ্যের সমবায় ব্যাঙ্ক থেকে হকারদের ঋণ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে ফেডারেশন।

জানা গিয়েছে, রাজ্যে হকার চিহ্নিতকরণ করতে অনেক সময় লাগবে৷ সবে এই তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে পুর দফতর৷ কলকাতা-সহ রাজ্যের ১৩১টি পুরসভায় আনুমানিক প্রায় ২০ লক্ষ হকার আছেন৷ এদের তথ্যপ্রমাণ জোগাড়ে সময় লাগবে। সেই কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হকারদের কেন্দ্রীয় প্রকল্পে ব্যাঙ্ক ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনাই নেই।
তৃণমূলের দাবি, হকারদের ঋণ দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার যে সব শর্ত দিয়েছে তা পূরণ করতে না পারলে হকাররা এই সুবিধা পাবেন না৷ কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ম শিথিল করা উচিত।ন্যাশনাল হকার ফেডারেশনের সম্পাদক শক্তিমান ঘোষ বলেছেন, “আগামী ১ জুলাই থেকে সারা দেশের হকাররা কেন্দ্রীয় প্রকল্পে ব্যাঙ্ক ঋণ পেতে শুরু করবেন। কিন্তু রাজ্যে যেহেতু হকারদের তালিকাই নেই, তাই রাজ্যের হকাররা ব্যাঙ্ক ঋণ পাবেন না৷ বাংলার হকাররা যাতে বঞ্চিত না হন, সে জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি।’ সিটু’র প্রশ্ন, এ রাজ্যে হকারদের তালিকা তৈরির কাজ কেন হল না? রাজ্য এবং কেন্দ্র, কেউই দায় এড়াতে পারে না। বিজেপি বলেছে, দলীয় স্তরে দিল্লি থেকে রাজ্য কমিটির কাছে বাংলার হকার সংখ্যা জানাতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তালিকাই তো নেই।

আর এই চাপান-উতোরের মাঝে হকাররাই বঞ্চিত হচ্ছেন, কেন্দ্রীয় প্রকল্পে ব্যাঙ্ক ঋণ তাঁরা পাবেন না৷

Related articles

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে রক্তদান শিবির: দেশপ্রিয় পল্লী বালক সংঘের উদ্যোগকে স্বাগত বিধায়কের

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে পরিবেশ রক্ষায় নানাভাবে প্রশাসন থেকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলি নানা উদ্যোগ নিয়ে থাকে। মূলত গাছ লাগানোর মাধ্যমেই...

ইস্তফা সোনালী চক্রবর্তীর: রাজ্যপালকে চিঠি রবীন্দ্রভারতীর উপাচার্যের

প্রশাসনিক ক্ষেত্রের পরে এবার শিক্ষাক্ষেত্রে ইস্তফার পালা। রাজ্যে পালাবদলের পরে কাজ করতে অক্ষম, দাবি করে একের পর এক...

৪৮ ঘণ্টার তল্লাশি: অবশেষে NIA-র জালে শওকত মোল্লা

বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় অবশেষে গ্রেফতার প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লা। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে যে শওকত মোল্লার (Saokat Molla) খোঁজ...

তৃণমূলের নতুন কমিটি গঠন: পরিষদীয় ইস্যুতে আদালতে যাচ্ছে দল

৩ জুন দলের সব কমিটি ভেঙে দেওয়ার পরে ৫ জুনই নতুন কমিটি ঘোষণা করল তৃণমূল কংগ্রেস। একদিকে একাধিক...