Thursday, May 14, 2026

‘পথের পাঁচালী’-র অন্য ইতিহাসে জড়িয়ে বিধান রায়ের নাম

Date:

Share post:

“পথের পাঁচালী” করতে গিয়ে সত্যজিৎ বেঁচে দিয়েছিলেন স্ত্রী বিজয়া রায়ের সব গয়না, জীবনবিমার পলিসি, নিজের দুষ্প্রাপ্য গানের রেকর্ডের সংগ্রহ। কিন্তু সব যোগ করেও ফিল্ম তৈরির রসদ জোগাড় হল না।

এমন সময় এগিয়ে এলেন মুশকিল আসান- ডঃ বিধানচন্দ্র রায়।
সত্যজিৎ রায় যখন বহুমূল্য অনেক কিছু বিক্রি করেও টাকার জোগাড় করে উঠতে পারছেন না, তখন সত্যজিতের মা চিন্তায় পড়ে গেলেন। সোজা দেখা করলেন বন্ধু তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিধান রায়ের সঙ্গে। বিধান রায় সব শুনে সত্যজিতের মাকে বলেন, “কাল তুমি ছেলেকে একবার আমার কাছে পাঠাও। দেখি কিছু করা যায় কি না!” ফিল্ম তৈরি করতে তখনও পর্যন্ত ভারত সরকার বা কোন রাজ্য সরকার টাকা দেয়নি। সরকার কী করে চলচ্চিত্র প্রযোজনা করবে? আইনে যে আটকে যাবে কি? এত-শত ভেবেও বন্ধুর ছেলেকে পরের দিন আসতে বলে দিলেন বিধান রায়।
পরদিন সত্যজিৎ রায় গেলেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। বিধান রায় ছোট করে গল্প শুনতে চাইলেন।
সত্যজিৎ রায় গল্প বললেন। শোনার পরে বিধান রায় বললেন, “সবই তো ঠিক আছে কিন্তু সরকার কী করে ফিল্ম তৈরি করতে টাকা দেবে? আজ পর্যন্ত ভারত সরকার বা কোনো রাজ্য সরকার ফিল্ম প্রযোজনা করেনি। কী করে সম্ভব !”
এরপর বিধান রায় চিফ সেক্রেটারিকে ডেকে বললেন, “দ্যাখো কিছু টাকাপয়সা দেওয়া যায় কি না! চেনো ওকে? সুকুমার রায়ের ছেলে, উপেন্দ্রকিশোরের নাতি — সত্যজিৎ রায়”।
চিফ সেক্রেটারিও চিন্তিত সরকার কী করে টাকা দেবে! বিধান রায় মজা করে বলেন, “কী বিলেতে আইসিএস পড়ে এলে? আরে বাবা, আইনও আছে, আইনের ফাঁকও আছে।”
এবার সত্যজিতের দিকে তাকিয়ে বললেন, “গল্পের শেষটা একটু পাল্টে গ্রামের পঞ্চায়েত ব্যবস্থার উন্নয়নের কথা বলে একটু সরকারি প্রচার করো।”
সত্যজিত বিস্মিত! এ কী বলছেন বিধান রায়! “আমার ছবি সরকারের কাজের প্রচার করবে? অসম্ভব”! সত্যজিৎ উঠে নমস্কার জানিয়ে বলেন, “ছবির গল্প পাল্টানো সম্ভব নয়। আমায় ক্ষমা করুন। ছবি নিয়ে কোনও কম্প্রোমাইজ আমি করতে পারব না। আমি আসছি।”
বিধান রায় এবার হেসে বললেন, “আরে বোসো বোসো, তোমার মনোভাবটা একটু জাজ করছিলাম। বাড়ি যাও। খাও। ঘুমোও। সরকার টাকা দেবে।”
পরদিন সত্যজিতকে আবার ডেকে পাঠান বিধান রায়। বললেন, “শোনো, সরকারের গ্রাম উন্নয়ন খাত থেকে এই টাকা দেওয়া হবে। কোনো প্রচার করতে হবে না।”
“পথের পাঁচালী” সিনেমা তৈরি করতে খরচ হয়েছিল ৭০ হাজার টাকার মতো। ১৯৫৯ সালেই এ ছবি ১২ লক্ষ টাকা লাভ করেছিল!
‘বীণা’ সিনেমা হলে বিধান রায় ছবি দেখে বলেছিলেন, “দারুণ ফিল্ম বানিয়েছো হে!” মজা করে না কি বলেছিলেন, “অস্কার না পেয়ে যাও!” তাই হয়েছিল। কথা ফলে গিয়েছিল। লাইফ টাইম অস্কার পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছিলেন সত্যজিৎ রায়।
আর “পথের পাঁচালী” তৈরির ইতিহাসে বিভূতিভূষণ, সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে জুড়ে যায় বিধানচন্দ্র রায়ের নামও।

Related articles

মনোবল শক্ত রাখুন, লড়াই চলবে: কালীঘাটের বৈঠক থেকে সতীর্থদের বার্তা নেত্রীর 

মনোবল ভাঙলে চলবে না, বরং হারানো জমি পুনরুদ্ধারে দ্বিগুণ শক্তিতে রাস্তায় নামতে হবে— বৃহস্পতিবার কালীঘাটের বাসভবনে দলীয় সাংসদদের...

“১ টাকায় মনোরঞ্জনকে সই করান”, প্রয়াত টুটুকে নিয়ে অজানা কথা শোনালেন দেবাশিস

সদ্য প্রয়াত হয়েছেন মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি টুটু বোস(Tutu Bose)। সাড়ে তিন দশকের বেশি সময় ধরে মোহনবাগান ক্লাবকে...

২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা

ফল প্রকাশের পরেও রাজ্যে একটি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ঘেরাটোপে ২১ মে ফলতা (Falta) বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট।...

ড্রোন হামলার জেরে বিস্ফোরণ! ওমানের কাছে ডুবল ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ

ওমান উপকূলের কাছে ড্রোন হামলার জেরে ডুবে যায় ভারতীয় পতাকাবাহী পণ্যের জাহাজ। ‘এমএসভি হাজি আলি’ নামের একটি কার্গো...