Saturday, January 31, 2026

ভারতকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য, নেপালের প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগের নির্দেশ দলের

Date:

Share post:

এবার নিজের দলের মধ্যেই একঘরে নেপালের প্রধানমন্ত্রী৷

ভারতকে নিয়ে কটু সমালোচনা এবং বিরূপ মন্তব্য করায় নেপালে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রী কেপি ওলি’কে ইস্তফা দিতে বলেছেন৷

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ক্ষমতাসীন নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির স্থায়ী কমিটির বৈঠক শুরু হওয়ামাত্রই নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কামাল দাহাল ওরফে ‘প্রচণ্ড’, কে পি ওলির ভারত-বিরোধী মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন,”তাঁকে কুর্সি থেকে সরানোর জন্যে ভারত ষড়যন্ত্র করছে, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে তো গ্রহণযোগ্য নয়ই, কূটনৈতিকভাবেও উপযুক্ত নয়”। ‘প্রচণ্ড’ বলেছেন,
“প্রধানমন্ত্রীর এ জাতীয় বক্তব্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ক্ষতি করতে পারে”৷

রবিবার নেপালের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কেপি অলি বলেছিলেন, তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য “দূতাবাস এবং হোটেলগুলিতে” বিভিন্ন ধরণের কাজকর্ম চলছে। তিনি বলেছিলেন, কিছু নেপালি নেতাও এই খেলার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। ওলি’র এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেছে তাঁর দলই। শীর্ষ নেতা প্রচণ্ড ছাড়াও শীর্ষ নেতা মাধব কুমার নেপাল, ঝালানাথ খানাল, দলের সহ সভাপতি বামদেব গৌতম এবং মুখপাত্র নারায়ণকাজি শ্রেষ্ঠাও প্রধানমন্ত্রী ওলিকে তাঁর করা অভিযোগের প্রমাণ দিতে বলেছেন। পাশাপাশি নেপালের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে তাঁকে ইস্তফা দিতে বলেছেন৷ এই নেতারা একযোগে বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রীর এ জাতীয় “কূটনীতিবিরুদ্ধ ও অরাজনৈতিক মন্তব্য করার পরে নৈতিক ভাবেই তাঁর পদত্যাগ করা উচিত।”
জানা গিয়েছে, বৈঠকে উপস্থিত থেকেও কেপি ওলি এবিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।

এই প্রথমবার নয়, এর আগেও নেপালের শাসক দল প্রধানমন্ত্রী ওলির উপর অসন্তুষ্ট হয়েছিলো। গত এপ্রিল মাসেও একবার কেপি ওলিকে তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিতে বলা হয়েছিল দলের তরফে।
প্রসঙ্গত, গত রবিবার এক অনুষ্ঠানে সরাসরি ভারতের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে ওলি বলেছিলেনন, “নেপালের সংবিধান সংশোধনের পর থেকেই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে দিল্লি।” নতুন মানচিত্র তৈরির জন্যই তাঁর প্রতিপক্ষদের উসকানি দিয়ে সরকার ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। ওলি বলেছিলেন,
“আমার সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোই আসল উদ্দেশ্য। যদিও, এই চেষ্টায় কোনওভাবেই সফল হবে না ভারত। কারণ, নেপালের জাতীয়তাবাদ অত ঠুনকো নয় যে কেউ বাইরে থেকে সরকার ফেলে দেবে।”

spot_img

Related articles

SIR হয়রানিতে ডেকে আবার আসতে বাধা! পরিযায়ীদের সঙ্গে দ্বিচারিতার রাজনীতি

নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর সময় থেকে সব থেকে বড় বাধার সম্মুখিন হবে রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকরা, এমনটা আন্দাজ...

সতর্ক ও সর্বাত্মক লড়াই: ভবানীপুরের বিএলএ-দের বৈঠকে ডেকে বার্তা তৃণমূল নেত্রীর

একদিকে প্রতিপক্ষ বিজেপি। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের প্রতিদিনের নতুন নতুন ছক। এসআইআর প্রক্রিয়ায় যতবার কমিশনের চক্রান্ত ফাঁস হয়েছে, সবই...

কমিউনিস্ট সেলিমের কমিউনাল পলিটিক্স! জোট প্রক্রিয়া ব্যহত করায় দায়ী, সরব কংগ্রেস

কলকাতার হোটেলে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম একদিনে কত বিতর্ক টেনে এনেছেন শূন্যে...

দুদিনের সফরে শহরে শাহ: ‘জিতবই’ বার্তা দলীয় কর্মীদের

বাংলায় নির্বাচন শুরুর ঘণ্টা বাজার আগেই রাজনৈতিক ডেইলি প্যাসেঞ্জারিতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বরা। প্রতি সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী, সভাপতি থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর...