করোনা সংক্রমণের তথ্য সঠিক সময়ে দেয়নি চিন! এবার উল্টো সুর হু-র

বিশ্বজুড়ে করোনা সংক্রমণকে বাগে আনা যাচ্ছে না কিছুতেই। থামছে না মৃত্যুমিছিল। গত একশো বছরে কোনও অসুখকে কেন্দ্র করে এত বিপন্নতা দেখা যায়নি। আর এই মারাত্মক করোনা বিশ্ব মহামারির উৎস যে দেশ, সেই চিন শুরু থেকেই রোগের কথা চেপে গিয়ে গোটা বিশ্বকে বিপদের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এই চেপে যাওয়ার সংস্কৃতি নতুন নয় চিনের। এখন যেমন গালওয়ান উপত্যকায় হওয়া সংঘর্ষে নিজেদের সেনামৃত্যুর খবর চেপে রেখেছে চিন, করোনা নিয়েও সেই একইরকম তথ্য চাপার বজ্জাতি করা হয়েছে। প্রথমদিকে চিনের সুরে সুর মেলালেও এখন খোদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু-ও ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে স্বীকার করছে করোনা সংক্রমণের প্রাথমিক তথ্য চিন সরকারের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ করোনা নিয়ে তথ্য গোপনের যে অভিযোগ আমেরিকা, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া সহ ইউরোপের বহু দেশ করছে এবার তা কার্যত স্বীকার করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও।

সম্প্রতি এক মার্কিন সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজেদের ওয়েবসাইটে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত খবরের ঘটনাক্রম পরিবর্তন করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। পত্রিকার দাবি, হু-এর ওয়েবসাইট থেকে একটি বিশেষ তথ্য প্রত্যাহার করা হয়েছে। যেখানে আগে বলা ছিল– উহানে নিউমোনিয়া সংক্রমণের রিপোর্ট করেছে চিন, এখন সেই বাক্যটি পরিবর্তন করা হয়েছে। পত্রিকাটিতে আরও বলা হয়েছে, জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশিত হওয়া মার্কিন হাউসে বিদেশ বিষয়ক কমিটি রিপাবলিকান্স-এর অন্তর্বর্তী রিপোর্টে বলা হয়েছিল উহানে শুরুর দিকে করোনা সংক্রমণের খবর সরকারিভাবে হু-কে আদৌ জানায়নি চিন। ঘটনা হল, উহানের পুর-স্বাস্থ্য কমিশনের ওয়েবসাইটকে উদ্ধৃত করা চিনা সংবাদমাধ্যমের একটি রিপোর্ট হাতে পায় চিনে অবস্থিত হু-এর দফতর। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছিল উহানে দ্রুতহারে ছড়িয়ে পড়া এক ‘ভাইরাল নিউমোনিয়া’-র কথা। এর পরিপ্রেক্ষিতে হু আগের বক্তব্য বদল করেছে। হু-র আগের বক্তব্যের অর্থ ছিল, চিনা প্রশাসন প্রথম ঘটনার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু পরিবর্তিত বক্তব্যের অর্থ হল হু আসলে চিনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে সংক্রমণ সম্পর্কে ধারনা তৈরি করেছিল। সরকারিভাবে হু-কে এই ভাইরাল সংক্রমণের কথা জানায়নি চিন।