Saturday, April 25, 2026

বিকাশ দুবের এনকাউন্টার: প্রশ্ন তোলার আগে ভাবুন, কুণাল ঘোষের কলম

Date:

Share post:

কুণাল ঘোষ

উত্তরপ্রদেশের গ্যাংস্টার বিকাশ দুবে ধরা পড়েছিল। তারপর যাত্রাপথে পালানোর চেষ্টা করায় এনকাউন্টারে নিহত।

নিঃসন্দেহে বড় খবর।
নিঃসন্দেহে ইঙ্গিতবাহীও বটে।

বিবৃতির বন্যা শুরু: সব ফাঁসের ভয়ে মেরে দেওয়া হল। বড় বড় নাম বেরিয়ে যেত। তাই সাজানো এনকাউন্টার।

এনকাউন্টার যে সাজানো, তাতে আমার কোনো সন্দেহ নেই।
বিকাশকে মারা হয়েছে।

কিন্তু, নাম ফাঁসের ভয়ে?
মানছি না।

যদি অনেক বড় কোনো নাম পেছনে থাকত, তাহলে বিকাশকে এভাবে খুঁজতে পুলিশ যেতোই না। বিকাশের বিরুদ্ধে অপারেশন হত না। সবটাই গট আপ হত। নীরবে গ্রেপ্তার ও জামিন। সেটা হয়নি। ফলে বিরাট কোনো ক্ষমতাবান বিকাশের পেছনে আছে, এটা ভাবতে পারছি না।

ধরা যাক, বিরাট কেউ পেছনে ছিল। ছিল তো বটেই, না হলে বিকাশরা বিকাশ হয় না। কিন্তু বিকাশকে জেরা করে সেই নাম নথিভুক্ত করত কে? উত্তরপ্রদেশ পুলিশ না সিবিআই? দুই দিকেই সরকারে একই দল। ফলে যে ইঙ্গিত নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার বিপ্লব চলছে, সেই ইঙ্গিত অকেজো। জেরায় কিসসু হত না।

একবার ভেবে দেখেছেন, এত গ্যাংস্টার, মাফিয়া ধরা পড়েছে; তাদের জেরার পর তদন্ত কোনো বড় রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক নামের কাছে পৌঁছেছে? একটাও উদাহরণ আছে? নেই। ফলে বিকাশকে জেরা করে কী হত, এই নিয়ে আকাশকুসুম গল্পে আমি নেই।

অথচ আমি বিশ্বাস করছি যে ভুয়ো এনকাউন্টারে তাকে মারা হয়েছে।
আমার বিশ্বাস, এটি পুলিশের সিদ্ধান্ত।
বিকাশবাহিনীর হাতে আট পুলিশকর্মীর নিহত হওয়ার বদলা।
ফোর্স ক্ষোভে ফুটছিল।
কর্তারাও জানতেন।
অলিখিত অনুমোদন দিয়েছেন।
কড়া বার্তা গেল।
বাহিনী আত্মবিশ্বাস পেল।
পুলিশকে মারলে এভাবেই মরতে হবে।
এই হত্যা পুলিশবাহিনীকে শীর্ষকর্তাদের উপহার।
কিছু ক্ষেত্রে যেখানে রাজনীতিবিদদের দর্শক হয়ে থাকা ছাড়া উপায় থাকে না।

হ্যাঁ, বিকাশের বেড়ে ওঠায় রাজনীতি, পুলিশের একাংশের হাত ছিল।
নিশ্চিতভাবেই ছিল।
কিন্তু বিকাশকে জেরা করলে বড় বড় নাম ফাঁসত, এটা ভাবা ভুল।
বিকাশ জেলে থাকত।
সাম্রাজ্য চালাত।
জেল থেকেই বাইরেটা অপারেট করত।
একদিন জামিনে বেরিয়ে আসত।
হয়ত ভোটেও দাঁড়াত।

বিকাশকে ধরতে পুলিশের যাওয়ার প্রথম দিন থেকেই ইঙ্গিত, পিছনে অন্তত এখন শাসকদলের বড় কেউ নেই। তাহলে পুলিশ যেতই না।

আর সেদিন আট পুলিশকে হত্যাটা বিকাশের কাল হয়েছে।
এরপর গ্রেফতার আর এনকাউন্টার ছিল সময়ের অপেক্ষা, পুলিশের বদলা।
পছন্দ হোক বা নাই হোক, এটা করতে না দিলে পুলিশবাহিনীর উপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকত না।

ফলে যা হয়েছে, হওয়ার ছিলই। এর পিছনে মুখ বন্ধের পরিচিত চিত্রনাট্য খুঁজে লাভ নেই। অন্তত এই ক্ষেত্রে।

তবে হ্যাঁ, এটা বলা যায়, এই সমাজের রাজনীতি আর ক্ষমতার চক্রের চাহিদা মেটাতেই জন্ম হয় বিকাশদের।
আর প্রয়োজন ফুরোলে তাদের জন্য লেখা থাকে এনকাউন্টারের গল্প।

Related articles

শহরের হাসপাতাল থেকে জল জমা সমস্যার সমাধান: ভবানীপুরে বার্তা মমতার

আগামী দুই বছরে শেষ হয়ে যাবে গঙ্গাসাগরের কাজ। শুক্রবার ভবানীপুর থেকে গঙ্গাসাগরের পরিষেবা নিয়ে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়...

লক্ষ্যমাত্রার পথে অনেকটাই এগোল নবান্ন, রাজ্যে সংগৃহীত ৪৮ লক্ষ টনের বেশি ধান

চলতি খরিফ মরসুমে ধান সংগ্রহে বড়সড় সাফল্যের মুখ দেখল রাজ্য সরকার। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, রাজ্যের ক্ষুদ্র...

ভোট শেষে স্বচ্ছতা রাখতে ক্যামেরার ছবি সংরক্ষণে এক গুচ্ছ নির্দেশিকা

নির্বাচন শেষে ইভিএম সিল করা নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক বুথে অভিযোগের তিরে নির্বাচন কমিশন। আবার ওয়েব কাস্টিং পদ্ধতির সুফলও...

যেখানে আশা করিনি সেখানেও জিতবে তৃণমূল, ভবানীপুরের সভা থেকে আত্মবিশ্বাসী নেত্রী

এবারের ভোট এসআইআরের অত্যাচারের বিরুদ্ধে। যেখানে আশা করিনি, সেখানেও জিতব। ভবানীপুরের সভা থেকে দৃঢ় কণ্ঠে জানালেন নেত্রী মমতা...