Thursday, June 25, 2026

বিকাশ দুবের এনকাউন্টার: প্রশ্ন তোলার আগে ভাবুন, কুণাল ঘোষের কলম

Date:

Share post:

কুণাল ঘোষ

উত্তরপ্রদেশের গ্যাংস্টার বিকাশ দুবে ধরা পড়েছিল। তারপর যাত্রাপথে পালানোর চেষ্টা করায় এনকাউন্টারে নিহত।

নিঃসন্দেহে বড় খবর।
নিঃসন্দেহে ইঙ্গিতবাহীও বটে।

বিবৃতির বন্যা শুরু: সব ফাঁসের ভয়ে মেরে দেওয়া হল। বড় বড় নাম বেরিয়ে যেত। তাই সাজানো এনকাউন্টার।

এনকাউন্টার যে সাজানো, তাতে আমার কোনো সন্দেহ নেই।
বিকাশকে মারা হয়েছে।

কিন্তু, নাম ফাঁসের ভয়ে?
মানছি না।

যদি অনেক বড় কোনো নাম পেছনে থাকত, তাহলে বিকাশকে এভাবে খুঁজতে পুলিশ যেতোই না। বিকাশের বিরুদ্ধে অপারেশন হত না। সবটাই গট আপ হত। নীরবে গ্রেপ্তার ও জামিন। সেটা হয়নি। ফলে বিরাট কোনো ক্ষমতাবান বিকাশের পেছনে আছে, এটা ভাবতে পারছি না।

ধরা যাক, বিরাট কেউ পেছনে ছিল। ছিল তো বটেই, না হলে বিকাশরা বিকাশ হয় না। কিন্তু বিকাশকে জেরা করে সেই নাম নথিভুক্ত করত কে? উত্তরপ্রদেশ পুলিশ না সিবিআই? দুই দিকেই সরকারে একই দল। ফলে যে ইঙ্গিত নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার বিপ্লব চলছে, সেই ইঙ্গিত অকেজো। জেরায় কিসসু হত না।

একবার ভেবে দেখেছেন, এত গ্যাংস্টার, মাফিয়া ধরা পড়েছে; তাদের জেরার পর তদন্ত কোনো বড় রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক নামের কাছে পৌঁছেছে? একটাও উদাহরণ আছে? নেই। ফলে বিকাশকে জেরা করে কী হত, এই নিয়ে আকাশকুসুম গল্পে আমি নেই।

অথচ আমি বিশ্বাস করছি যে ভুয়ো এনকাউন্টারে তাকে মারা হয়েছে।
আমার বিশ্বাস, এটি পুলিশের সিদ্ধান্ত।
বিকাশবাহিনীর হাতে আট পুলিশকর্মীর নিহত হওয়ার বদলা।
ফোর্স ক্ষোভে ফুটছিল।
কর্তারাও জানতেন।
অলিখিত অনুমোদন দিয়েছেন।
কড়া বার্তা গেল।
বাহিনী আত্মবিশ্বাস পেল।
পুলিশকে মারলে এভাবেই মরতে হবে।
এই হত্যা পুলিশবাহিনীকে শীর্ষকর্তাদের উপহার।
কিছু ক্ষেত্রে যেখানে রাজনীতিবিদদের দর্শক হয়ে থাকা ছাড়া উপায় থাকে না।

হ্যাঁ, বিকাশের বেড়ে ওঠায় রাজনীতি, পুলিশের একাংশের হাত ছিল।
নিশ্চিতভাবেই ছিল।
কিন্তু বিকাশকে জেরা করলে বড় বড় নাম ফাঁসত, এটা ভাবা ভুল।
বিকাশ জেলে থাকত।
সাম্রাজ্য চালাত।
জেল থেকেই বাইরেটা অপারেট করত।
একদিন জামিনে বেরিয়ে আসত।
হয়ত ভোটেও দাঁড়াত।

বিকাশকে ধরতে পুলিশের যাওয়ার প্রথম দিন থেকেই ইঙ্গিত, পিছনে অন্তত এখন শাসকদলের বড় কেউ নেই। তাহলে পুলিশ যেতই না।

আর সেদিন আট পুলিশকে হত্যাটা বিকাশের কাল হয়েছে।
এরপর গ্রেফতার আর এনকাউন্টার ছিল সময়ের অপেক্ষা, পুলিশের বদলা।
পছন্দ হোক বা নাই হোক, এটা করতে না দিলে পুলিশবাহিনীর উপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকত না।

ফলে যা হয়েছে, হওয়ার ছিলই। এর পিছনে মুখ বন্ধের পরিচিত চিত্রনাট্য খুঁজে লাভ নেই। অন্তত এই ক্ষেত্রে।

তবে হ্যাঁ, এটা বলা যায়, এই সমাজের রাজনীতি আর ক্ষমতার চক্রের চাহিদা মেটাতেই জন্ম হয় বিকাশদের।
আর প্রয়োজন ফুরোলে তাদের জন্য লেখা থাকে এনকাউন্টারের গল্প।

Related articles

ভিশন পার্ট টু, মন্ত্রী দিন্দাকে বড় দায়িত্ব সিএবির

২০২১ সালে বিজেপির টিকিটে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন, চলতি বছর ভোটে জিতে মন্ত্রী হয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী হয়েও ক্রিকেট থেকে দূরে...

দুর্নীতি ঠেকাতে জোড়া বিল আনছে রাজ্য: উদ্দেশ্য নিয়ে তুঙ্গে তরজা

ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাংলায় বুলডোজার নীতি কার্যকর করতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি সরকার। আদালতের আদেশে সেই নিয়মে...

আমরা বেইমান নই: “যাঁরা দিদির সঙ্গে থাকছেন” তাঁদের নিয়ে বিশেষ কর্মিসভার ডাক কুণালের

গত কয়েকদিনের মধ্যে বেলেঘাটার বিধায়ক তথা তৃণমূলের (TMC) উত্তর কলকাতা জেলার সভাপতি কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) একাধিকবার বলেছেন,...

অমানবিক! মোমো বিক্রেতার উপর ফুটন্ত জল বিজেপি পুলিশের

নির্মম প্রশাসন! সামান্য মানবিকতাও এখন বিজেপি পুলিশের (BJP Police) খাতায় অতীত। জয়পুরের (Jaipur) রামনগরিয়া থানা (Ramnagariya Police Station)...