“রাজীব বিরাট অন্যায় করেছে”, বেজায় চটলেন ববি

শাসক দলের মধ্যে দুর্নীতির ইস্যুতে হঠাৎই রাজ্যের দুই মন্ত্রীর পরস্পর বিরোধী মন্তব্য ও তরজা এখন রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রসঙ্গত, মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট জেলা পর্যবেক্ষক ফিরহাদ হাকিম। রাজীবের উপর বেজায় চটেছেন তিনি। রাজীব প্রসঙ্গে ফিরহাদ হাকিম বলেন “দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে এভাবে প্রকাশ্যে মুখ খুলে রাজীব বিরাট অন্যায় করেছে। কিছু বলার থাকলে আমাকে বা দলকে জানাতে পারত ও।”

এখানেই শেষ নয়। ডোমজুরের তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের বনমন্ত্রীকে নিয়ে ফিরহাদ হাকিম আরও বলেন, “রাজীব দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা। ও যা বলেছে তা মিডিয়া বলছে, আমাকে তো বলেনি। দলের কথা মিডিয়ায় আলোচনা করব না। কিছু বলার থাকলে ওকেই বলব”।

উল্লেখ্য, তৃণমূলের হাওড়া জেলা সভাপতি তথা রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলে ওই জেলারই কো-অর্ডিনেটর রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন। সম্প্রতি, হাওড়া জেলায় দুর্নীতির অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয় বেশ কয়েকজন পঞ্চায়েতস্তরের নেতাকে। সাংবাদিক সম্মেলনে করে এ কথা ঘোষণা করেন হাওড়া জেলা সভাপতি অরূপ রায়। এরপরই ক্ষোভ ফেটে পড়েন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। সংবাদমাধ্যমের সামনে এই নিয়ে মুখ খোলেন‌ তিনি। রাজীবের বক্তব্য, দলে শুদ্ধিকরণের নামে রাঘববোয়াল-রুই-কাতলাদের ছেড়ে চুনোপুটিদের শাস্তি দিয়ে স্বজনপোষণ করা হচ্ছে।

রাজীবের অবিযোগে, দলের গাইড লাইন অনুযায়ী জেলা সভাপতি ও কো-অর্ডিনেটর মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অরূপ রায়।

রাজীবের অভিযোগ উড়িয়ে পাল্টা অরূপ রায় জানান, তিনি যা করেছেন, তা সম্পূর্ণ দলের নির্দেশ মেনেই করেছেন। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত, তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দল যদি মনে করে আরও কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারে।

অরূপ রায়ের আরও অভিযোগ, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় দলের যদি একজন অর্কিত কর্মী হন, তাহলে দলীয় সমস্যাগুলি মিডিয়ায় না বলে দলের মধ্যেই বলতে পারতেন। সেই দায়িত্ব উনি পালন করেননি। বরং, সংবাদ মাধ্যমে জানিয়ে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় দলের ভিতরেই বিভ্রান্তি তৈরি করছেন।