গেহলট সরকারকে অপদস্থ করতেই আজ রাজস্থানে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে চায় বিজেপি

সংখ্যার হিসাবে সরকার ফেলা যাবে না জেনেও স্রেফ কৌশলে সরকারকে অপদস্থ করতেই শুক্রবার রাজস্থান বিধানসভায় অনাস্থা প্রস্তাব আনতে চলেছে বিজেপি। গতকালই বিরোধী দলনেতা গুলাবচাঁদ কাটারিয়া জানিয়েছিলেন, অধিবেশনের প্রথম দিনেই গেহলট সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হবে। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট জানিয়েছেন, আমরা আস্থা ভোট করব এবং জয়ী হব। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, শচিন পাইলট ও তাঁর ঘনিষ্ঠ বিধায়কদের ঘর ওয়াপসির পর দেরি না করে এখনই আস্থা ভোট করে নিতে চাইছেন গেহলট। কারণ তাহলে নিয়ম অনুযায়ী ছ’মাসের মধ্যে আর সরকারের বিরুদ্ধে কেউ অনাস্থা প্রস্তাব আনতে পারবে না। এই মুহূর্তে প্রয়োজনের চেয়ে যথেষ্ট বেশি সংখ্যা আছে তাঁর হাতে। ২০০ আসনের রাজস্থান বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার ১০১। পাইলট শিবিরের ১৯ জনকে বাদ রেখেই গেহলটের পক্ষে ছিল ১০২ জনের সমর্থন। এবার তার সঙ্গে পাইলট শিবিরের ভোটও যোগ হবে। বিএসপি নেত্রী মায়াবতীর হুইপ উড়িয়ে দলত্যাগী ৬ বিধায়ক জানিয়েছেন যে তাঁরা গেহলটের পাশে। এই ছজনই বিএসপির টিকিটে জিতে গত বছরের শেষে কংগ্রেসে যোগদানের ঘোষণা করেন। এছাড়া নির্দল বিধায়কদের ধরলে গেহলটের পক্ষে সমর্থন রয়েছে ১২৫ জনের। অন্যদিকে, বিজেপি ও সহযোগী দল মিলিয়ে সরকার বিরোধী বিধায়কের সংখ্যা ৭৫। ফলে আজ বিধানসভার অধিবেশন শুরুর পর বিজেপি যে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে চায় তার পিছনে সরকার ফেলার কোনও অঙ্ক অন্তত কাজ করছে না। বিজেপির উদ্দেশ্য, সরকারের ভিতরের অস্থিরতার ছবিটা তুলে ধরা। গত এক মাস ধরে গেহলট ও পাইলট শিবির কীভাবে পরস্পরের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে, কে কার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কী কী অভিযোগ এনেছে তা তুলে ধরে সরকারের ভিতরে পারস্পরিক অবিশ্বাসের বাতাবরণ জিইয়ে রাখা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতার স্বরূপ তুলে ধরা।