Monday, March 16, 2026

Breaking : প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়

Date:

Share post:

জন্ম – ১১ ডিসেম্বর, ১৯৩৫

মৃত্যু – ৩১ আগস্ট, ২০২০

 

প্রয়াত হলেন প্রকৃত অর্থেই ‘ভারতরত্ন’ প্রণব মুখোপাধ্যায় ৷ মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিলো ৮৪ বছর৷

দিল্লির ক্যান্টনমেন্ট হাসপাতালে অত্যাধুনিক চিকিৎসার মধ্যে থাকলেও শেষরক্ষা হয়নি৷ সোমবার, ৩১ অগাস্ট বিকেল ৫টে নাগাদ সেনা হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় প্রয়াত হয়েছেন৷ প্রণববাবুর মহাপ্রয়াণের সংবাদে দেশজুড়ে শোকের আবহসৃষ্টি হয়েছে৷ বীরভূমের মিরাটিতে প্রণববাবুর পৈতৃকবাড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় বিষাদের ছবি৷ দেশের প্রাক্তণ রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ সর্বস্তরের মানুষ৷

গত ১০ আগস্ট রবিবার রাতে বাড়িতে পড়ে গিয়েছিলেন প্রণববাবু। মাথা না-ফাটলেও বেশ চোট লাগে। কিছু স্নায়ুঘটিত সমস্যাও দেখা দেয়। হাসপাতালে ভর্তি করার পরে সিটি স্ক্যান‌ করে দেখা যায়, তাঁর মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধে রয়েছে। অস্ত্রোপচার করা ছাড়া উপায় নেই৷ তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় দিল্লির ক্যান্টনমেন্ট সেনা হাসপাতালে৷ সিটি স্ক্যানে ধরা পড়ে, তাঁর মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধেছে, যে ব্লাড ক্লট-কে ডাক্তারি পরিভাষায় বলে ‘সাবডিউরাল হেমাটোমা’। ডাক্তাররা তখনই আর ঝুঁকি না-নিয়ে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে প্রণববাবুর অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসকরা। একইসঙ্গে তাঁর করোনা পরীক্ষা করা হয়। সেই রিপোর্ট পজিটিভ আসে৷ অস্ত্রোপচারের পরেও তাঁর শারীরিক অবস্থা শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত সঙ্কটজনকই ছিলো৷ ভেন্টিলেশনে ছিলেন। শেষ কয়েকদিন ছিলেন গভীর কোমায়। আজ সোমবার তাঁর অবস্থা আরও খারাপ হয়। শেষরক্ষা আর করা যায়নি।

২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়৷ নিয়ম করে সকালে রাষ্ট্রপতি ভবনে মর্ণিং-ওয়াক করতেন। মন্ত্রী থাকার সময়ও স্বাস্থ্য সচেতন প্রণববাবুর এই অভ্যাস ছিলো৷ খুব দ্রুত হাঁটতেন। প্রণববাবু একবারই পশ্চিমবঙ্গে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন৷ এই ঘটনা ছাড়া শরীর খারাপের কারণে তাঁকে কাজ বন্ধ করে বসে থাকতে হয়েছে, এ রকম নজির ছিলো না। প্রণববাবু যতদিন মন্ত্রী ছিলেন, ততদিন অমানুষিক পরিশ্রম করতেন৷ তাঁকে বলা হত জাতীয় রাজনীতির চাণক্য। কতগুলো যে মন্ত্রিগোষ্ঠীর প্রধান ছিলেন একসময় তা গুনেও বলা যেত না৷ সংসদ শেষ হলে সোজা চলে যেতেন মন্ত্রকে। সেখান থেকে তালকাটোরা রোডের বাড়ি। সেখানেও ফাইল দেখতেন। তারই ফাঁকে লোকের সঙ্গে, কংগ্রেস বা অন্য দলের নেতাদের সঙ্গে দেখা করতেন৷ কংগ্রেসের ঝামেলাও তাঁকেই সামলাতে হত। যে রাজ্যেই কংগ্রেস বিপাকে পড়ত, সেখানে প্রণববাবুকেই হাল ধরতে বলতেন সোনিয়া গান্ধী। সরকারের সঙ্কটে তো প্রণববাবু ছাড়া দ্বিতীয় কেউ কখনই ছিলোনা৷ গভীর রাতে শুয়ে পড়েও ঠিক সকালে উঠে পড়তেন। তারপর শুরু হয়ে যেত কাজ।

এটাই ছিলো তাঁর রুটিন৷ সাধারণ শরীর খারাপেও
কাবু হয়ে পড়তেন না৷
রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরেও ব্যস্ততার রুটিন ছিলো একই৷ প্রণববাবু পড়তে ও লিখতে ভালোবাসতেন। তাঁর স্মৃতিশক্তি ছিল অসাধারণ৷ তিরিশ, চল্লিশ, পঞ্চাশ বছর আগের ঘটনা অক্লেশে দিতে পারতেন একটুও না থেমে৷ রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে তাঁর পড়া ও লেখার কাজটা অনেকটা বেড়ে যায়৷ লাইব্রেরিতে পড়াশুনো করতেন। অসুস্থতা তাঁকে কাজ থেকে কখনই থামাতে পারেনি।

ফলে সবার ধারনা হয়েছিলো, এই মানুষটি সেনা হাসপাতালের ভেন্টিলেটার থেকেও সুস্থ হয়ে বেরিয়ে আসবেন, বাড়ি ফিরবেন৷ কারন, এ ভাবে হাসপাতালে শুয়ে থাকা তাঁর পক্ষে বেমানান। সবার প্রার্থনা ছিলো, খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার তাঁর নিজের জগতে ফিরে আসবেন প্রণব মুখোপাধ্যায়।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত এমনটি আর হলো না৷

আরও পড়ুন : অত্যন্ত সঙ্কটজনক প্রণব মুখোপাধ্যায়

spot_img

Related articles

বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত, মঙ্গলেই ঘোষণার পথে তৃণমূল

২৮ ফেব্রুয়ারি পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে যে কোনও সময়ে রাজ্যে নির্বাচন ঘোষণা হতে পারে, এমনটা প্রস্তুতি নিচ্ছিল...

জ্বালানি গ্যাস নিয়ে কেন্দ্রের হঠকারিতা: সোমে পথে মমতা-অভিষেক

মোদি সরকারের ভ্রান্ত বিদেশ নীতির জেরে গোটা দেশে সংকটে সাধারণ মানুষ। লকডাউন থেকে এসআইআর, এবার গ্যাসের সংকটেও যেখানে...

নির্বাচনী আচরণবিধি লাগু হতেই বদল রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিব

নির্বাচনী আচরণবিধি লাগু হতেই রাজ্যে একের পর এক মনের মত আধিকারিক পদে বদল করতে শুরু করে দিল নির্বাচন...

আচরণবিধি লাগু হতেই কমিশনের কড়া নজর, বদলি ও উন্নয়ন তহবিলে নিয়ন্ত্রণ

বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে কার্যকর হয়েছে আদর্শ আচরণবিধি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনিক কাজকর্ম, আধিকারিকদের বদলি এবং উন্নয়নমূলক...