Friday, April 24, 2026

বারোয়ারি দুর্গাপুজোয় নিষেধাজ্ঞা কিন্তু রামলীলায় সম্মতি যোগীর রাজ্যে

Date:

Share post:

অতিমারি পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে বারোয়ারি দুর্গাপুজোয় নিষেধাজ্ঞা জারি করল উত্তরপ্রদেশ সরকার। কিন্তু সেখানেই রামলীলায় কোনও আপত্তি নেই যোগী আদিত্যনাথের।
কোভিড পরিস্থিতিতে এবার দেশের অনেক রাজ্যেই বেশি আড়ম্বরে দুর্গাপুজোর হবে না। এমনকী এই বাংলাতেও অন্যবারের তুলনায় এবার জাঁকজমক কম হবে। ইতিমধ্যে ওড়িশার সরকার দুর্গাপুজো আয়োজন নিয়ে একাধিক গাইডলাইন দিয়েছে। আর এর মধ্যেই উত্তরপ্রদেশে সরকার জানিয়ে দিল সর্বজনীন দুর্গাপুজো করা যাবে না। পুজো করতে গেলে তা ঘরের মধ্যে করতে হবে। তবে রামলীলা আয়োজনে ছাড়পত্র দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
তাঁর যুক্তি, রামলীলা বহু প্রাচীন প্রথা। তা কোনওভাবেই ভাঙা যায় না। তাই অতিমারির মধ্যেও রামলীলার আয়োজন করা হবে। তবে যোগী সরকার কি বলতে চাইছে, দুর্গাপুজোর ইতিহাস পুরনো নয়। যে রামলীলার কথা তিনি উল্লেখ করছেন, শরৎকালের দুর্গাপুজো সেই রামচন্দ্রেরই করা অকালবোধনের রীতি। তাহলে, কোন যুক্তিতে রামলীলা প্রাচীন আর দুর্গোৎসব নবীন?
রামলীলা আয়োজনের জন্য কিছু নির্দেশাবলী দিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। এই যেমন, রামলীলা দেখার জন্য কোনও ময়দানে ১০০ জনের বেশি দর্শক উপস্থিতি পারবেন না। প্রত্যেকের মুখে মাস্ক থাকতে হবে। ময়দান স্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে কর্তৃপক্ষকে।
তাহলে এই একই নিয়ম মেনে বারোয়ারি দুর্গোৎসব কেন করা যাবে না উত্তরপ্রদেশে? সে উত্তর দিতে পারেনি যোগী সরকার।
দশেরা, রামলীলায় উত্তরপ্রদেশের বহু জায়গায় যে মেলা বসে, এবার তাতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
দুর্গাপুজো প্যান্ডেলে ভিড় হতে পারে বলেই তাতে নিষেধাজ্ঞা যোগীর। এবার সে রাজ্যে দুর্গাপুজো করতে চাইলে তাঁকে বাড়িতেই আয়োজন করতে হবে।
প্রশ্ন উঠছে, খোলা ময়দানে রামলীলা আয়োজন করলে কি সংক্রমণের ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকবে না? যোগীর সরকার আরো জানিয়েছে, বিয়ের মরশুমে ব্যান্ড পার্টি নিয়ে বরযাত্রী যেতে পারবে। তবে সেক্ষেত্রেও সোশ্যাল ডিসটেন্সিং-এর নিয়ম পালন করতে হবে বরযাত্রীদের।
বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বারবারই বিজেপি নেতৃত্ব দুর্গাপুজোয় নিষেধাজ্ঞা জারির অভিযোগ তোলেন। বিসর্জনে এ রাজ্যে দিন নির্ধারণ নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েন না তাঁরা। এবার বিজেপি শাসিত রাজ্যেই কেন বারোয়ারি দুর্গাপুজো বন্ধ হচ্ছে? অতিমারি পরিস্থিতিতেও কোনও ধর্ম, সম্প্রদায়ের পুজো-প্রার্থনায় ফতোয়া জারি করা হয়নি। সরকারি নিয়ম মেনে তা পালন করতে বলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সে ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ ধর্ম, সম্প্রদায়ের প্রতি কোনো পক্ষপাতিত্ব করেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকার রামলীলার অনুমতি দিতে পারছে, বরযাত্রীতে ব্যান্ডপার্টির অনুমতি দিতে পারছে- শুধু নিষেধাজ্ঞা জারি সর্বজনীন দুর্গোৎসবে! রাজনৈতিক মহলের মতে এটা ‘খুল্লামখুল্লা’ বিভেদ নীতি।

Related articles

দিল্লির যমুনাতে ডুব দিয়ে আসবেন? মোদিকে চ্যালেঞ্জ মমতার

বাংলার নির্বাচনে বিজেপির পালে হাওয়া লাগতে ঝালমুড়ির দোকান থেকে গঙ্গাবক্ষে নৌকাবিহার করেছেন নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। শুক্রবার, এই...

যাদবপুরের পড়ুয়ারা পড়া ছেড়ে প্রতিবাদে! মোদির অপমানজনক কথার জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

বাংলা ও বাঙালিদের অপমান করতে করতে প্রতিদিন নতুন ফন্দি আঁটেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর দলের নেতা...

বালিগঞ্জে হেভিওয়েটদের বিপক্ষে বামেদের তরুণ মুখ আফরিন, ভোট চাইতে পৌঁছলেন টালিউডের ‘জ্যেষ্ঠপুত্রের’ বাড়ি

বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের নতুন সমীকরণ, ভোটের ময়দানে নেমেছেন তরুণ প্রার্থীরা। বালিগঞ্জেও (Ballygunge Election) তাঁর অন্যথা নয়। একদিকে তৃণমূলের...

মমতা-সরকারের পর্যটনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর মোদি! নৌকাবিহারকে তীব্র কটাক্ষ অভিষেকের 

“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের পর্যটনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর মোদি”! শুক্রবার দলীয় প্রার্থীর প্রচারে ডোমজুড় থেকে নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) নৌকাবিহারকে...