‘বেআইনিভাবে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখ’, ব্রিজ উদ্বোধনের পরই ফুঁসে উঠল চিন

সীমান্তবর্তী অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নততর করে তুলতে সম্প্রতি চিন ও পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় ৪৪ টি ব্রিজ তৈরি করেছে ভারত। সোমবারই এই ব্রিজ উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। অনুমান করা হচ্ছিল ব্রিজ উদ্বোধনের এই ঘটনাকে মোটেও ভাল চোখে নেবে না চিন প্রশাসন। প্রত্যাশামতোই এবার চিনের তরফ থেকে এল বিবৃতি। চিনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনওভাবেই লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে মান্যতা দেয় না তারা। শুধু তাই নয়, অবৈধভাবে এই অঞ্চলকে ভারত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা দিয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের তীব্র বিরোধিতা করেছে শি জিনপিং প্রশাসন।

গত সোমবার পাকিস্তান-চিন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে যে ৪৪টি ব্রিজের উদ্বোধন করেন রাজনাথ সিং। তার মধ্যে ৮টি ব্রিজ রয়েছে লাদাখে। মঙ্গলবার এই ব্রিজ উদ্বোধনের ঘটনার তীব্র বিরোধিতা করে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিঝিয়াং জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিকাঠামোগত উন্নয়ন দুই দেশের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। এই ধরণের কর্মকান্ড কোনও পক্ষের তরফেই করা উচিত নয়, যা এই উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থাকে আরও খারাপ দিকে নিয়ে যায়। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের কথায়, ‘শুরুতেই আমি এটা স্পষ্ট করে দিতে চাই, লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে কোনওভাবেই মান্যতা দেয় না চিন। লাদাখ ও অরুণাচল প্রদেশকে ভারত অবৈধভাবে স্থাপিত করেছে। উদ্দেশ্যপূর্ণ ভাবে সেনার সুবিধার্থে সীমান্তবর্তী এলাকায় এই ধরনের উন্নয়নের সম্পূর্ণরূপে বিরোধিতা করছি আমরা।’ লিঝিয়াংয়ের অভিযোগ, সেনাবাহিনীর সুবিধার্থে ভারত সীমান্তেবর্তী অঞ্চলের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সেনা মোতায়েন করে চলেছে লাগাতারভাবে। দুই দেশের মধ্যকার সাম্প্রতিক সমস্যার অন্যতম কারণ এটাই।

আরও পড়ুন: অগ্নিমূল্যে জ্বলছে ইমরানের দেশ, এতেও দোষ দেখছে ভারতের!

এরপরই অনুরোধের সুরে চিনের মুখপাত্র জানান, ‘আমরা ভারতের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি তারা যেন দুপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এবং দুপক্ষের সহমতি অনুযায়ী এই ধরনের কাজ করেন। এমন কোনও কাজ করবেন না যাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে।’ এদিকে ভারতীয় আধিকারিক সূত্র জানা যাচ্ছে নতুন এই ব্রীজ চালু হওয়ার কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় অতি দ্রুত অস্ত্রশস্ত্রসহ নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে যেতে সক্ষম হবে ভারতীয় সেনাবাহিনী। পাশাপাশি ব্রিজের এই তথ্য এমন সময় প্রকাশ্যে এসেছে যখন ভারত ও চিন দুই দেশের বরিষ্ঠ সেনা আধিকারিকরা সোমবার সীমান্তে শান্তির উদ্দেশ্যে বৈঠকে বসেন। জানা গিয়েছে, গতকাল প্রায় ১১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ভারত-চিন দুই দেশের শীর্ষ সেনা আধিকারিকদের মধ্যে বৈঠক হয়। রাত্রি প্রায় ১১:৩০ নাগাদ শেষ হয় এই বৈঠক। বৈঠকে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে চিনকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার আর্জি জানায় ভারত।