‘সমাজে অবহেলিত, থাকার জায়গা নেই’, হোম চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি রূপান্তরকামীদের

শরীর তাকে দেগে দিয়েছে পুরুষ বলে। কিন্তু মনের দিক থেকে সে পুরোদস্তর নারী ছেলেবেলা থেকেই। সমাজে এমন রূপান্তরকামীর সংখ্যা নেহাত কম নয়। ঘরে-বাইরে ক্রমাগত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার এই রূপান্তরকামীরাই এবার সরকারের কাছে আবেদন জানালেন বাসস্থানের। সরকারের কাছে তাদের আর্জি, একটি সরকারি হোমের ব্যবস্থা করা হোক তাদের জন্য যেখানে সামাজিক ভয়াবহতাকে এড়িয়ে নিশ্চিন্তে দিনযাপন করতে পারবেন তারা। রূপান্তরকামী তেরি আবেদন ইতিমধ্যেই খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।

বুধবার নিজেদের দাবির প্রসঙ্গে এক রূপান্তরকামী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘বাড়ির লোকের অত্যাচারে দীর্ঘদিন ধরে ঘরছাড়া আমি। দেশের একাধিক জায়গা ঘুরে বর্তমানে চণ্ডীগড়ে আছি। কোনও স্থায়ী ঠিকানা নেই আমার। শুধুমাত্র রূপান্তরকামী হওয়ার জন্য অত্যন্ত কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে আমাকে। সরকার যদি আমাদের থাকার জায়গার ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে ভীষণ সুবিধে হয়। তবে শুধু তিনি নন, এই একই সমস্যার ভুক্তভোগী বহু রূপান্তরকামী। বহরমপুরের রাধা ঘাটের বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সী এক রূপান্তরকামী বলেন, ২০১২ সালে পরিবারকে সবটা জানিয়েছিলাম। বাড়ির লোকজন আমার কথা শুনে প্রথমে বুঝিয়ে ফেরানোর চেষ্টা করে। কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় শুরু হয় মানসিক নির্যাতন। বাধ্য হয়েই ঘর ছাড়তে হয়। তবে ঘর ছেড়েও শান্তি মেলেনি। ভাড়া বাড়িতেও একই সমস্যা। সমাজে প্রতিপদে অবহেলিত হতে হয় আমাদের। সরকার যদি আমাদের জন্য একটি হোমের ব্যবস্থা করে তবে ভীষণভাবেই উপকৃত হই।

রূপান্তরকামীদের দাবি পূরণে দীর্ঘদিন ধরেই লড়াই করে চলেছে ‘মধ্য বাংলার সংগ্রাম’ নামে এক রূপান্তরকামীদের সংগঠন। তাদের দাবি, জেলার বহু রূপান্তরকামীকে পারিবারিক সমস্যা সহ নানা কারণে বাড়িতে বসবাস করতে সমস্যা হয়। বাধ্য হয়েই ঘর ছাড়েন অনেকে। কেউ কেউ ভিন রাজ্যে গিয়ে রুজি-রুটির সন্ধান করেন। এই সমস্যা সমাধানের জন্য এবং রূপান্তরকামীদের মাথাগোঁজার একটি ঠাঁই দিতেই সরকারি হোমের আবেদন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান, শুরু হচ্ছে জোজিলা টানেল তৈরির কাজ

এ প্রসঙ্গে সংগঠনের সম্পাদক অরুণাভ নাথ গত ২৯ সেপ্টেম্বর মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক থেকে শুরু করে রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী শশী পাঁজা, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে হোমের দাবিতে চিঠি দিয়েছেন। রূপান্তরকামীদের চিঠি হাতে পেয়ে মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক জগদীশপ্রসাদ মিনা বলেন, ‘ওঁদের দাবি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।’