Thursday, March 12, 2026

তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর জন্য প্রথম মাদ্রাসা

Date:

Share post:

খায়রুল আলম (ঢাকা) : বাংলাদেশে এই প্রথমবার চালু হল তৃতীয় লিঙ্গের জন্য একটি আলাদা মাদ্রাসা। স্বতন্ত্র এই মাদ্রাসাটির নাম রাখা হয়েছে ‘দাওয়াতুল কুরআন তৃতীয় লিঙ্গের মাদ্রাসা’। ঢাকার কামরাঙীরচর ছাতা মসজিদ রোড এলাকায় অবস্থিত মাদ্রাসাটি শুক্রবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। শনিবার (৭ নভেম্বর) থেকে সেখানে তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারবেন।

জানা গিয়েছে, মরহুম আহমেদ ফেরদৌস বারী চৌধুরী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এই মাদ্রাসাটি চালু হয়েছে। এই মাদ্রাসায় লেখাপড়ার জন্য তৃতীয় লিঙ্গদের কোনো খরচ লাগবে না। ২০২০ সালে সরকার স্বীকৃত কওমি সিলেবাস অনুযায়ী মাদ্রাসাটি পরিচালিত হবে। প্রাথমিকভাবে ১০ জন শিক্ষকের সমন্বয়ে অনাবাসিক এই মাদ্রাসাটির যাত্রা শুরু হয়েছে। শুরুতে মাদ্রাসাটিতে তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীদের কোরআন শিক্ষা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মাদ্রাসাটির শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সচিব মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ হুসাইনী। তিনি বলেছেন, মাদ্রাসায় নুরানি বিভাগ থেকে নিয়ে হেফজুল কোরআন, দাওরায়ে হাদিস থাকবে। গত বছর সরকার কওমি মাদরাসার যে সিলেবাসের (সনদ) স্বীকৃতি দিয়েছে, সেই সিলেবাস অনুসারে মাদ্রাসাটি পরিচালিত হবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে মাদ্রাসার শিক্ষকদের ১০ হাজার টাকা করে বেতন দেওয়া হচ্ছে। যারা ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে আছে তাদের বেতন ৩০ হাজার টাকা। শিক্ষকসহ মাদ্রাসার পরিচালনার খরচ দিচ্ছে মরহুম আহমেদ ফেরদৌস বারী চৌধুরী ফাউন্ডেশন। দাওয়াতুল কুরআন তৃতীয় লিঙ্গের মাদ্রাসা স্থাপন করা হয়েছে একটি তিন তলা ভবনে। এর প্রতিটি তলায় প্রায় ১২০০ বর্গফুট জায়গা রয়েছে। এখানেই সব শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ব্যাচে ভাগ করে পড়াশুনার ব্যবস্থা করা হবে। তৃতীয় লিঙ্গের এই মাদ্রাসায় পড়ার ক্ষেত্রে কোনো বয়স সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর যেকোনো বয়সের মানুষ এই মাদ্রাসায় ভর্তি হতে পারবেন। সরকারের সমাজসেবা অধিদফতরের তথ্য বলছে, বাংলাদেশে তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। তবে বেসরকারি সংস্থাগুলোর মতে, এই সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি।

এ ধরনের স্বতন্ত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পেয়ে খুশি তৃতীয় লিঙ্গের সম্প্রদায়। তৃতীয় লিঙ্গের কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবিদা সুলতানা মিতু বলেন, ‘তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের জন্য এই প্রথম দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু হয়েছে। তৃতীয় লিঙ্গের মৌলিক চাহিদা মেটানোর সুযোগ দেয়া হলে তারা রাস্তায় নেমে কাউকে বিরক্ত করবে না। তারাও সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করতে চায়। আমি এজন্য মাদ্রাসাটির উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানাই।’ বাংলাদেশে তৃতীয় লিঙ্গের জন্য ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমাজে সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্য দূরীকরণে ২০১৩ সালে তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি দেয় শেখ হাসিনা সরকার। সর্বশেষ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তিতে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে নিবন্ধন করতে অনুমতি পান তারা। এবার এই জনগোষ্ঠীর জন্য ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিল বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন-আমেরিকায় করোনা মোকাবিলাই আমার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, বললেন ভাবী মার্কিন প্রেসিডেন্ট

spot_img

Related articles

আজ বাংলার নতুন রাজ্যপাল আর এন রবির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান

রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে বিদায়ী রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে (CV Anand Bose) অপমানজনক হুইপ জারি করে সরিয়ে...

গ্যাসের সঙ্কট মোকাবিলায় আজ জরুরি বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী

দেশজুড়ে গ্যাসের জন্য হাহাকার, কেন্দ্র যতই পরিষেবা স্বাভাবিক প্রমাণের চেষ্টা করুক না কেন বাস্তব ছবিটা ঠিক তার বিপরীত।...

গ্যাসের কালোবাজারি রুখতে তৎপর পুলিশ: গোপালনগরে গ্রেফতার ১

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রান্নার গ্যাসের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। এই পরিস্থিতিতে কোনও ভাবেই রান্নার গ্যাসের (domestic cylinder)...

‘জয় বাংলা’ বলায় গ্রেফতার! অভিষেকের তৎপরতায় জেলমুক্ত নন্দীগ্রামের দম্পতি

বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচারের যে ভাইরাস বিজেপির প্রশাসন ছড়িয়েছে, তার রেশ এখন গোটা দেশে। যত অনুপ্রবেশকারী সবই...