Tuesday, June 23, 2026

দেশে অনুমোদন ছাড়াই চলছে ১২ হাজার ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার

Date:

Share post:

খায়রুল আলম (ঢাকা) : স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনুমোদন এবং যথাযথ সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে দেশের ১১ হাজার ৯৪০টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনেস্টিক সেন্টার। এর মধ্যে ২ হাজার ৯১৬টি হাসপাতাল ও ক্লিনিক লাইসেন্সের জন্য কোনো আবেদনই করেনি। ৯ হাজার ২৪টি হাসপাতাল-ক্লিনিকের মধ্যে কোনো কোনোটি লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে চিকিৎসা দেওয়া শুরু করলেও এখনও অনুমোদন পায়নি। আবার কোনোটির লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। সেই অর্থে সেগুলোও অবৈধ। স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিরেক্টর জেনারেল অধ্যাপক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, তালিকা ধরে এসব হাসপাতাল-ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে সেগুলো বন্ধ করা হবে। তবে একসঙ্গে সব জায়গায় হয়ত অভিযান চালানো যাবে না। “আমাদের এত জনবল নেই যে একসঙ্গে সবগুলো বন্ধ করে দিতে পারব। আমি সিভিল সার্জনদের বলেছি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এসব হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়ার জন্য।”

১৯৮২ সালের মেডিকেল অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিস অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনুমোদন ছাড়া কোনো হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনেস্টিক সেন্টার চালানোর সুযোগ নেই। করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে ঢাকার রিজেন্ট হাসপাতালে চিকিৎসার নামে প্রতারণা ও জালিয়াতির ঘটনা উদ্ঘাটিত হওয়ার পর জানা গিয়েছিল, অনুমোদন ছাড়াই চলছিল ওই হাসপাতাল। গত সোমবার ঢাকার আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালে বরিশাল মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার আনিসুল করিমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার পর জানা যায়, ওই হাসপাতালও সেবা দেওয়ার অনুমোদন পায়নি। গত ১০ নভেম্বর সারা দেশে অনুমোদিত এবং অনুমোদনহীন বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের তালিকা পাঠাতে বিভাগীয় পরিচালকদের নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বিভাগীয় কার্যালয়গুলো পাঠানো তথ্য নিয়ে লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তালিকা তৈরি করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

অনুমোদনহীন যেসব চিকিৎসা সেবাকেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে, তার মধ্যে ৩ হাজার ৫৩৫টি ঢাকা বিভাগে, ২ হাজার ২৩২টি চট্টগ্রাম বিভাগে, ১ হাজার ৫২৩টি খুলনা বিভাগে, ১ হাজার ৪৩৮টি রাজশাহী বিভাগে, ১ হাজার ৯৯টি রংপুর বিভাগে, ৯৬৩টি ময়মনসিংহ বিভাগে, ৬০৩টি বরিশাল বিভাগে এবং ৫৪৬টি সিলেট বিভাগে। এবিএম খুরশীদ আলম বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, এসব অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, ডাক্তারসহ প্রভাবশালীরা জড়িত। “এ কারণে বন্ধ করতে গেলেই সমস্যা তৈরি হয়। আপনারা এ ব্যাপারে সাহায্য করতে পারেন। যেই এসবের সঙ্গে জড়িত থাকুক, তাদের নাম যেন প্রকাশ করে দেওয়া হয়। কেউ যদি বাধা দেয় সেটা যেন বলা হয় যে তারা বাধা দিচ্ছে।”

আরও পড়ুন-‘রামমন্দির ট্রাস্ট’ বেআইনি-বিভাজন মূলক, কেন্দ্রকে আইনি নোটিস নির্বাণী আখড়ার

Related articles

শওকতের ছেলের ‘অরণ্যের কূলে’-এও এবার বুলডোজার! নোটিশ ঘিরে প্রশ্ন

নদীর চর বেআইনি ভাবে দখল করে তৈরি হয়েছিল ঝাঁ-চকচকে ক্যাফে 'অরণ্যের কূলে' (Aranyer Kule Cafe)।এবার এই ক্যাফে ভাঙার...

‘অভিষেকেই’ ঝোড়ো ব্যাটিং: বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়ক কুণালকে সামলাতে হিমশিম স্পিকার-সহ শাসকশিবির

এর আগে রাজ্যসভার সাংসদ হওয়ার অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু বিধানসভায় (Assembly) এই প্রথম। আর অভিষেকেই ঝোড়ো ব্যাটিং বেলেঘাটার তৃণমূল...

বেআইনিভাবে প্রশাসনের নাকের ডগাতেই চলছিল রমরমিয়ে কোচিং ক্লাস

চরম গাফিলতি! জ্বলছে বিল্ডিং কিন্তু পালানোর পথ নেই। নীচে নামার একমাত্র (Lucknow Fire Tragedy) সিঁড়ি ধোঁয়া ও আগুনের...

শ্যামাপ্রসাদের প্রয়াণ দিবসে জোড়়া কর্মসূচি, পূর্বতন ২ সরকারকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর

মঙ্গলবার  সকালে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের  প্রয়ান দিবস উপলক্ষ্যে জোড়়া কর্মসূচিতে অংশ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী(Suvendu Adhikari )। প্রথমে ক্যাওড়াতলা...