Tuesday, June 16, 2026

মাদক মামলার বিচার: আর ট্রাইব্যুনাল গঠন লাগবে না

Date:

Share post:

মাদক মামলার বিচারে ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান বাদ দিয়ে তৈরি সংশোধিত আইন সংসদে পাশ হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁনের পক্ষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল-২০২০ সংসদে পাসের প্রস্তাব করেন। পরে তা কণ্ঠ ভোটে পাশ হয়।

এর আগে বিলের উপর দেওয়া জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তি করা হয়। গত ৮ নভেম্বর বিলটি সংসদে তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে সেটি পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

১৯৯০ সালে করা ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন’ ২০১৮ সালে সংশোধন করা হয়। তাতে মাদক মামলার বিচারে মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের বিধান করা হয়। বর্তমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বলা আছে, সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন দিয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করবে এবং প্রত্যেক ট্রাইব্যুনালে অতিরিক্ত জেলা জজ পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে বিচারক নিয়োগ করা হবে।

কোনো জেলায় অতিরিক্ত জেলা জজ না থাকলে ওই জেলায় দায়রা জজ নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব পালন করবেন। আর ট্রাইব্যুনাল স্থাপিত না হওয়ায় পর্যন্ত অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে এ ধরনের মামলা নিষ্পত্তি করবেন।

তবে প্রশাসনিক কারণে অদ্যাবধি মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপন বা জেলা বা দায়রা জজকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এই ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।

ফলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অসংখ্য মাদক অপরাধ সংক্রান্ত মামলা হলেও তা বিচারের মাধ্যমে নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে, মামলার সংখ্যাও বাড়ছে। সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, শুধু ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার করতে গেলে দীর্ঘ সময় লাগে। নিষ্পত্তি এবং আপিলের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়, সেজন্য আইনটি সংশোধন করা হচ্ছে। সংসদে উত্থাপিত বিলে বলা হয়, এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতকে মামলা প্রাপ্তির তারিখ থেকে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ করতে হবে। কেউ আপিল করতে চাইলে রায় দেওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তা করতে হবে।

বিলটি নিয়ে এ সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের নির্দেশনা তুলে খসড়া আইনের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, “প্রস্তাবিত আইন এর অধীন মাদকদ্রব্য অপরাধসমূহ অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী ‘এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত‘ কর্তৃক বিচার্য হবে। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট উহার এখতিয়ারাধীন এলাকার জন্য কেবল মাদকদ্রব্য অপরাধের বিচারের নিমিত্ত প্রয়োজেন এক বা একাধিক এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত নির্দিষ্ট করবেন। ফলে মাদক অপরাধের মামলাসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তি হবে।”

আরও পড়ুন- শ্রাবন্তীকে কুপ্রস্তাব, খুলনায় যুবক গ্রেফতারের পর রিমান্ডে

Related articles

বিধানসভায় সইজাল কাণ্ড নিয়ে এবার বিচারপতির প্রশ্নের মুখে স্পিকার!

বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা (Leader of Opposition) নির্বাচন এবং বিধায়কদের সই জালকাণ্ড নিয়ে এবার প্রশ্নের মুখে খোদ স্পিকার (Speaker)।...

পর পর তিনদিন হাজিরা! সাড়ে ৬ ঘণ্টা ভবানী ভবনে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি অভিষেক

প্রাথমিকে নিয়োগ মামলায় সোমবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দফতরে টানা ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়ার পরের দিন সাড়ে...

জাহাঙ্গিরকে ছাড়াতে হামলা! কেন্দ্রীয় বাহিনীর তাড়া খেয়ে ছত্রভঙ্গ বিক্ষোভকারীরা

ফলতার দাপুটে নেতা জাহাঙ্গির খান (Jahangir Khan) ছাড়াতে নজিরবিহীন হামলা! পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত লাঠিচার্জ করতে হয়...

দায়িত্ব আপনাদেরই: কুণাল-সহ তৃণমূল নেতাদের ডিম ছোড়ার প্রতিবাদে শাহকে চিঠি সৌগতর

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) উপর হামলার নিন্দা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী...