২৪ ঘন্টায় দ্বিতীয়বার সরব হয়ে ফিরহাদকে জবাব দিলেন অতীন ঘোষ

শুক্রবারের পর শনিবারও৷

ফের তোপ দাগলেন উত্তর কলকাতার তৃণমূল নেতা ও শহরের প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ৷ রাজ্যের পুরমন্ত্রী তথা কলকাতা পুরসভার প্রশাসক কমিটির চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিমের মন্তব্যেরও জবাব দিয়েছেন অতীন৷

শুক্রবার প্রথমবার দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভপ্রকাশ করে অতীন ঘোষ বলেছিলেন, “রাজনৈতিক জীবনে বঞ্চিত হয়েছি, কোণঠাসা করার চেষ্টা হয়েছে৷ তাই এখন হতাশা বাড়ছে৷” ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর প্রসঙ্গেও ক্ষোভ জানিয়েছিলেন৷ অতীন রাখঢাক না করেই তখন বলছিলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর মতো জননেতা দল ছাড়লে তৃণমূলের ক্ষতি হবে৷”

কোনও সন্দেহ নেই, এ ধরনের মন্তব্য করে অতীন নিশ্চিতভাবেই তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছেন৷

অতীনের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে শনিবার পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম মুখ খোলেন৷ তিনি বলেন, “কোনও বিষয়ে ক্ষোভ থাকলে তা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকেই জানানো উচিত৷ কারণ তিনিই এখন তৃণমূলের সব বিষয়ে পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন৷
একই সঙ্গে ফিরহাদ বলেছেন, “আমি এবং অতীন দীর্ঘদিনের বন্ধু৷ আমি মনে করি না অতীন কোনও দলবিরোধী কোনও কথা বলেছে৷ প্রায় চল্লিশ বছর আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রয়েছি৷ দল কীভাবে চলবে তা নিয়ে এক একজনের এক এক ধরনের মত থাকতেই পারে৷ কিন্তু তা নিয়ে ক্ষোভ থাকলে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই জানানো উচিত৷”

প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ফিরহাদের এ সব কথার জবাব দিয়েছেন অতীন ঘোষ৷ তিনি পাল্টা বলেছেন, “নিজের ক্ষোভের কথা মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে হবে কেন? সবাই আমার পারফরম্যান্স দেখছেন, উনিও দেখছেন। যুব কংগ্রেস করার সময় থেকে আমি ওনার সঙ্গে রয়েছি। আমার যন্ত্রণা, ক্ষোভ প্রকাশ করেছি। আমি আজ থেকে রাজনীতি করছিনা৷ ১৯৮৫ সাল থেকে কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর। আমি মনে করি দলের জাজমেন্ট হওয়া উচিত পারফরম্যান্স, ডেডিকেশন লয়ালটি ও অনেস্টি দিয়ে। আমি এই সবগুলো দিয়েই দলের কাজ করেছি। এই জায়গায় আমার কোনও গলদ নেই। কাজেই আমায় বলতে হবে কেন?”
প্রসঙ্গত, শুক্রবার নিজের হতাশা জানাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আস্থাভাজন নেতাদের নিয়েও শুক্রবার প্রশ্ন তুলেছিলেন অতীন ঘোষ৷ তিনি বলেছিলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী কিছু মানুষের উপরে নির্ভর করেন৷ তাঁরা যদি নিজেদের দায়িত্ব ঠিক মতো পালন করতেন তাহলে দলের আজকে এই অবস্থা হত না৷”

আরও পড়ুন-নানা প্রশ্ন তুলে এবার বিস্ফোরণ ঘটালেন প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ