সমতল ঊষ্ণ হলেও রাজ্যে পাহাড়ি এলাকায় তুষারপাত শুরু

কিশোর সাহা

কলকাতা সহ সমতলের বিস্তীর্ণ এলাকায় জমাট শীতের দেখা না মিললেও রাজ্যের সর্বোচ্চ এলাকায় তুষারপাত শুরু হয়ে গেল। শনিবার রাতে দার্জিলিঙ জেলার সান্দাকফু এলাকায় তুষারপাত হয়েছে। তুষারপাতে সান্দাকফুর রাস্তা, ঘরদোরের ছাদ ঢেকে গিয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, রাতে সান্দাকফুর তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রির নীচে চলে গিয়েছিল রবিবার সকালে তাপমাত্রা ৬-৭ ডিগ্রির আশেপাশেই রয়েছে। তবে ফালুটের তাপমাত্রা সকালেও শূন্য ডিগ্রির নীচে ঘোরাফেরা করছে।
পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে উঁচু এলাকা হল দার্জিলিঙের সান্দাকফু। ফি শীতে সেখানে বরফ পড়বেই। শীতের মরসুমে তুষারপাতের আমেজ উপভোগ করতে সেখানে আগ্রহীদের ভিড় উপচে পড়ে। এবার করোনার কারমে সেই বিড় অনেকটাই কম। তবে রোজই কমবেশি জনা দশেক পর্য়টক কোভিড বিধি মেনে পাড়ি জমাচ্ছেন বলে সূত্রের খবর। সম্প্রতি মডেল তথা অভিনেতা মিলিন্দ সোমান দার্জিলিঙে একটি ম্যারাথনের উদ্বোধনে গিয়ে সান্দাকফু ট্রেকিংয়ে গিয়েছিলেন।
দার্জিলিঙের ট্যুর অপারেটরদের সংগঠনের সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেল থেকেই সান্দাকফুর আবহাওয়া ছিল মেঘে ঢাকা। সন্ধ্যার পরে বৃষ্টিও হয়। রাত একটু গভীর হতেই শুরু হয় তুষারপাত। রাতে কয়েক দফায় তুষারপাতের ফলে সকালে উটে সান্দাকফুর বাসিন্দারা দেখতে পান সেই চিরাচরিত ছবি। গোটা এলাকার রাস্তাঘাট দুধসাদা হয়ে গিয়েছে। বরফের কুচিতে গাছপালা সেজেছে। তা দেখার পরে সান্দাকফুর জিপচালকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, কিছুটা হলেও পর্য়টকদের সংখ্যা বাড়বে।
দার্জিলিং লাগোয়া সিকিমেও উঁচু এলাকায় দফায় দফায় তুষারপাত চলছে। নাথু লা, ছাঙ্গুর তাপমাত্রা তো শূন্য ডিগ্রির নীচেই ঘোরাফেরা করছে। রাতে নাথুলার তাপমাত্রা মাইনাস ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হচ্ছে। ছাঙ্গুতেও মাইনাস ২-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গ্যাটকে অবশ্য যথারীতি আরামপ্রদ আবহাওয়া।
শিলিগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি এলাকায় শনিবার গভীর রাতে বৃষ্টি হয়েছে। ফলে, সকাল থেকে হিমশীতল বাতাস বইছে সমতলের অনেক এলাকাতেই। তবে দিনের তাপমাত্রা কিন্তু ২২-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই রয়েছে।