Thursday, January 22, 2026

বিজেপিতে শঙ্কার মেঘ, দলবদলুদের বিরুদ্ধে এককাট্টা হচ্ছেন আদি বিজেপিরা, অভিজিৎ ঘোষের কলম

Date:

Share post:

অভিজিত ঘোষ

শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) কী বিজেপি বিধানসভা ভোটে বিজেপির মুখ করতে চাইছে? মেদিনীপুরের সভা থেকে যেভাবে তাঁকে চপারের সঙ্গী করে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকে কলকাতায় নিয়ে এলেন খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Home Minister Amit Shah), তাতে বিজেপির অন্দরে এই শঙ্কা দানা বাঁধতে শুরু করেছে। বিশেষত বিগত পাঁচ বছর ধরে যারা তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন, দলের ভিত্তি তৈরি করেছেন, নির্বাচনে সাফল্য দিয়েছেন, তাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। আর নেতৃত্ব এতেই অশান্তির কালো মেঘ দেখতে শুরু করেছেন।

বিজেপিতে (BJP) আদি বনাম নব্য বিজেপির লড়াই বহুদিন থেকে শুরু হয়েছে। দলের দিল্লির নেতাদের ধারণা তৈরি হয়েছে, তৃণমূল (TMC) ভেঙে এমএলএ-এমপি নিয়ে এলে বোধহয় নির্বাচনে জেতা সহজ হবে। কিন্তু আরএসএস (RSS) ঘরানার নেতৃত্ব এই ভাবনায় শিলমোহর দিতে রাজি নন। তাঁরা মনে করছেন, দ্রুত ক্ষমতা পেতে এই পথ অবলম্বন করা হচ্ছে, দিল্লির নেতাদের সুরে সুর মেলাতে হচ্ছে, কিন্তু যে প্রশ্ন মানুষ তুলছেন বা তৃণমূল স্তরের কর্মীরা তুলছেন,তার জবাব দিতে হচ্ছে তাঁদেরই। আর সেখানেই সমস্যা বাড়ছে, বিরক্তি বাড়ছে, নব্য বিজেপিদের নিয়ে বাড়াবাড়িতে দলের মধ্যে ‘শার্প ডিভিশন’ তৈরি হচ্ছে।

আদি বিজেপি নেতারা কোন প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছেন? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রাজ্য নেতা বলছেন, তাঁরা যে প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ব্যতিব্যস্ত হচ্ছেন…

১. কেন তৃণমূল বা সিপিএম ( CPM) কংগ্রেসের (Congress) লোক ভাঙিয়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এদের প্রত্যেকেই ব্যর্থ হচ্ছেন। বিজেপির ‘বার্ডেন’ হচ্ছেন। মুকুল রায় থেকে অনুপম হাজরা, সব্যসাচী দত্ত, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মতো তৃণমূলের তারকারা এখানে এসে দলের কোনও উপকারে আসছেন না। বরং তাদের অনুচরদের দলে ঢোকাতে দিল্লির নেতাদের ধরে লবিবাজি হচ্ছে। দল কাজের চাইতে সেই সমস্যা মেটাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে।

২. বিজেপি নেতাদের প্রশ্ন, দলে কী নেতা কম পড়েছে? তাহলে ভাড়া করা ডেকরেটার্সদের মতো এদের দলে আনতে কেন এতো উৎসাহ? দল তাহলে প্রকাশ্যে বলুক, বিজেপি নেতারা পারছেন না। তাই অন্য দলের নেতাদের ডাক দেওয়া হচ্ছে।

৩. তৃণমূল কংগ্রেস ভাঙতে দল এতটা উৎসাহিত যে, কোনও বাছবিচার করা হচ্ছে না। বহু কেলেঙ্কারির নায়কদের ঘটা করে যোগ দেওয়ানো হচ্ছে। এবার তাদের কেলেঙ্কারির জবাব দিতে হচ্ছে দলকে। নেতৃত্বের সাফ কথা, আমরা কেন জবাব দেব? আমাদের কথায় তো আনা হয়নি। দিল্লির নেতারা জবাব দেবেন।

৪. দলবদলুদের বিজেপিতে স্থান দেওয়ায় বিজেপিতে আস্থা রাখা বহু সাধারণ মানুষ এবার বলতে শুরু করেছেন, ওদের কেন ভোট দেব? এরা তো ক্রমশ তৃণমূলের বি-টিম হতে চলেছে।

৫. সবচেয়ে ক্ষুব্ধ তৃণমূলস্তর এবং প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা রাখেন এমন নেতৃত্ব। তাঁরা দল করেছেন, লড়াই করেছেন। স্বভাবতই পুর ভোট বা বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে তাঁরা প্রার্থী হওয়ার আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু যে তৃণমূল নেতারা বিজেপিতে আসছেন, তাঁদের দল অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রার্থী করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ফলে সেখানে দীর্ঘ লড়াইয়ে থাকা বিজেপি নেতারা হতাশ হচ্ছেন দলের প্রতি মোহভঙ্গ হচ্ছে, বঞ্চনার অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। ক্রমশ তাঁরা আস্থা হারাচ্ছেন।

প্রশ্ন এখানেই। ফলে দলের মধ্যে পরিযায়ী নেতাদের বিরুদ্ধে লবি ক্রমশ বাড়ছে, সংগঠিত হচ্ছেন আদি বিজেপিরা। তাদের যৌথ প্রতিরোধ যে আগামী দিনে দলের কাছে বড় শঙ্কার কারণ হবে তা বলাই বাহুল্য। কতবার জিতেন্দ্র তেওয়ারির মতো দলবদলু-সুবিধাবাদীদের আটকানো হবে? এও প্রশ্ন কেউ কেউ তুলেছেন, দল আদৌ বিধানসভায় জিততে চায় তো!

 

spot_img

Related articles

ফের SIR আতঙ্কে মৃত ৪! ইটাহারে দেহ নিয়ে উত্তেজনা

বাড়ছে মৃত্যুমিছিল। শুনানির নোটিশ (SIR death) পেয়ে ফের একইদিনে এল চার মৃত্যুর খবর। এঁদের দু’জন আতঙ্কে আত্মহত্যা করেছেন।...

চিংড়িহাটা মোড়ে অবশেষে কাটল মেট্রোর জট, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে নয়া রুট ম্যাপ পুলিশের

নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর মেট্রো প্রকল্পের পথে দীর্ঘদিনের কাঁটা অবশেষে দূর হতে চলেছে। ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাসের চিংড়িহাটা সংলগ্ন অংশে থমকে...

‘জাগো বাংলা’র স্টলে মুখ্যমন্ত্রীর তিন ভাবনা, শুরুর দিনেই উপচে পড়া ভিড়

প্রত্যেকবারের মতো ৪৯তম বইমেলাতেও ব্যতিক্রমী ‘জাগো বাংলা‘ স্টল (Jago Bangla Stall)। মুখ্যমন্ত্রীর ভাবনাকে বাস্তবায়িত করেছেন সাংসদ দোলা সেন-সহ...

পর্বত শৃঙ্গে‌ অক্সিজেন ছাড়া ২৪ ঘণ্টা, রেকর্ড রোহিতাশের

রেকর্ড গড়লেন পর্বতারোহী রোহিতাশ খিলেরি(Rohtash Khileri)। যেখানে সাধারণ মানুষ অক্সিজেন ছাড়া কিছুক্ষণও থাকতে পারে না সেইখানে তিনি ইউরোপের...