ফাল্গুনের শেষ বেলায় মঙ্গলবার মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল শহর কলকাতা। মঙ্গলবার সন্ধে নামার মুখেই শহরের পূর্ব আকাশ রাঙিয়ে উদয় হল পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। বিজ্ঞানের পরিভাষায় যা ‘ব্লাড মুন’ বা রক্তচাঁদ নামে পরিচিত। কলকাতা তো বটেই, রাজ্য তথা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আকাশপ্রেমীরা এদিন দুপুরের পর থেকেই মুখিয়ে ছিলেন এই অসামান্য মুহূর্তের সাক্ষী হতে।

কলকাতার আকাশে এদিন চাঁদ দেখা গিয়েছে বিকেল ৫টা ৩৮ মিনিট নাগাদ। সেই সময়েই গ্রহণের পূর্ণগ্রাস চলছিল। ফলে উদয়ের সময় চাঁদের প্রায় ৯১ শতাংশই ছিল গাঢ় লাল। গ্রহণ কাটতে শুরু করলে ধীরে ধীরে সেই লালচে ভাব ফিকে হতে থাকে। ঘড়ির কাঁটায় ৬টা ৪৭ মিনিটের পর থেকে ফের নিজের পরিচিত উজ্জ্বল রূপে ফিরতে শুরু করে পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ।
কলকাতার পাশাপাশি দিল্লি, মুম্বই এবং দক্ষিণ ভারতের শহরগুলিতেও গ্রহণের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। মুম্বই এবং দিল্লিতে চাঁদ উঠেছে ৬টা ২২ মিনিটে। সেখানে প্রায় ২০ মিনিট ধরে পূর্ণগ্রাস গ্রহণের সাক্ষী ছিলেন বাসিন্দারা। বেঙ্গালুরু এবং চেন্নাইয়েও ৬টা ২০ মিনিট নাগাদ রক্তিম চাঁদ দেখে মুগ্ধ হয়েছেন সাধারণ মানুষ।

পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ কেন মিশমিশে কালো না হয়ে লাল দেখায়, তা নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই সাধারণের। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি আদতে আলোকবিজ্ঞানের খেলা। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল যখন সূর্যের আলো শোষণ করে, তখন নীল রঙের তরঙ্গ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু লাল রঙের দীর্ঘ তরঙ্গটি প্রতিসরিত হয়ে সরাসরি চাঁদের গায়ে গিয়ে পড়ে। আর সেই প্রতিসরিত আলোর ছটাতেই গ্রহণ চলাকালীন চাঁদকে দেখায় গাঢ় কালচে লাল। সব মিলিয়ে দোল উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই প্রকৃতির এই রঙের খেলা উপভোগ করলেন শহরবাসী।

আরও পড়ুন – ইরান-ইজরাইল যুদ্ধের জেরে স্থগিত সিবিএসই ও কেরল বোর্ডের পরীক্ষা

_

_

_
_
_
_
